শিরোনাম
◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক ◈ কুমির সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি, মাজারের দিঘিতে ফেরত চাইলেন খাদেম ◈ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বকাপ মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে ◈ ইরান অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা, আর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও ◈ স্বামী-সন্তান কানাডা প্রবাসী, সেই মিরপুরেই মিলল আরেক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ ◈ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ◈ অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ◈ তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৮.৫° সেলসিয়াস, আজও ঝড়-বৃষ্টির আভাস ◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার ◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ

প্রকাশিত : ১১ মে, ২০২৬, ০৭:২১ বিকাল
আপডেট : ৩১ মে, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইসরাইলের হয়ে আমিরাত কেন ইরানে হামলা চালাল : প্যালেস্টাইন ক্রনিকলের বিশ্লেষণ

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে সরাসরি হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ইসরাইলের সুরক্ষায় এবং তেহরানের প্রভাব খর্ব করতে আমিরাত কেবল মৌখিক বিরোধিতাই নয়, বরং সরাসরি সামরিক সংঘাতের পথে হেঁটেছে। যদিও একটি ক্ষুদ্র ও ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশ হিসেবে ইরানের মতো শক্তির সঙ্গে বিবাদে জড়ানোকে অনেকে ‘অযৌক্তিক’ মনে করছেন, কিন্তু বিশ্লেষক রবার্ট ইনল্যাকেশের মতে, আমিরাতের এই পদক্ষেপ তাদের দীর্ঘমেয়াদী 'জায়নবাদী' প্রকল্পেরই অংশ।

বিশ্লেষণটিতে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজেকে উদ্ভাবন, শান্তি এবং সহনশীলতার দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করলেও পর্দার আড়ালে তারা ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। আবুধাবির শাসকরা তাদের বিশাল তেল সম্পদ ব্যবহার করে আধুনিক ও প্রগতিশীল একটি ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন, যা আসলে দুবাইয়ের কৃত্রিম স্কাইলাইনের মতোই ‘কৃত্রিম’। 

অভিযোগ করা হয়েছে যে আমিরাত তাদের সামরিক ও গোয়েন্দা সক্ষমতাকে ব্যবহার করে এই অঞ্চলে ইসরাইলবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোকে দমন করার চেষ্টা করছে। ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ বা ইসরাইলের সঙ্গে স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির পেছনে আমিরাত কেবল নিজেই যুক্ত হয়নি, বরং সুদান ও মরক্কোর মতো দেশগুলোকেও এই পথে টেনে এনেছে।

ইরান-ইসরাইল সংঘাতের ক্ষেত্রে আমিরাত দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একদিকে তারা নিজেকে নিরপেক্ষ ও ভুক্তভোগী হিসেবে প্রকাশ করেছে, অন্যদিকে মার্কিন-ইসরাইলি জোটকে ইরানে হামলার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এমনকি ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় আমিরাত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একীভূত করেছে। 

ইরানের আকাশসীমা পর্যবেক্ষণে আমিরাতের মালিকানাধীন ‘উইং লুং ২’ ড্রোন ব্যবহার করে ইসরাইলকে তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে বলেও তথ্য উঠে এসেছে।

আঞ্চলিক অস্থিরতায় আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, লিবিয়া, ইয়েমেন এবং সুদানের মতো দেশগুলোতে ছায়াযুদ্ধ বা প্রক্সি ওয়ারে আমিরাত সক্রিয়ভাবে জড়িত। সুদানের আরএসএফ বাহিনীকে সমর্থন দেওয়া থেকে শুরু করে ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত দেওয়া পর্যন্ত—সবক্ষেত্রেই আমিরাতের লক্ষ্য মূলত প্যান-ইসলামিক এবং প্যান-আরব ঐক্যকে বাধাগ্রস্ত করা। বিশেষ করে মুসলিম ব্রাদারহুড বা এমন কোনো গোষ্ঠী যারা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে, তাদের দমনে আমিরাত সব সময় সোচ্চার।

ওমান যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের জন্য নিজের ভূমি ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং কাতার নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে, সেখানে আমিরাত তেহরানকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে উত্তেজনা আরও উসকে দিচ্ছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাত নিজেকে ‘লিটল স্পার্টা’ বা আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে প্রমাণ করতে চাইলেও ইরানের মতো বড় শক্তির সঙ্গে সরাসরি সংঘাত তাদের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী নীতিতে সরাসরি অংশীদার হওয়ার মাধ্যমে আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ও জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে।

সূত্র: যুগান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়