শিরোনাম
◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী ◈ দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২১; আহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশি ◈ ‘আসল’ তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রতের হাতে, মমতাকে উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের ওয়ান‌ডে দল ঘোষণা, মিরাজ অ‌ধিনায়ক ◈ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ তুলে নিল সরকার ◈ হাজিদের লাগেজ চুরি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ধর্মমন্ত্রীর ◈ ৩০০ দিনে ১৭ দেশ পেরিয়ে আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে ৩ ভক্ত সাইক্লিস্ট  ◈ হাদি ইস্যুতে মমতার মন্তব্য; যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (ভিডিও)

প্রকাশিত : ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৫৫ দুপুর
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইরানের ভয়ে বাতি নিভিয়ে জাহাজ হরমুজ প্রণালী অ‌তিক্রম করছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন

আন্তর্জা‌তিক ডেস্ক : ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দাবি করেছে, ইরানের সম্ভাব্য পদক্ষেপের আশঙ্কায় হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় অনেক জাহাজ তাদের অবস্থান-নির্ণয় ব্যবস্থা (AIS) বন্ধ করে দিচ্ছে।

তবে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৈনিক জাহাজ চলাচল ১৩০টি থেকে কমে ১০টির নিচে নেমে এসেছে এবং প্রায় ১,৫০০ জাহাজ পারস্য উপসাগরে অপেক্ষমাণ রয়েছে।

ফার্স নিউজ এজেন্সির অর্থনৈতিক বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল উল্লেখ করে যে আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের অবস্থান-নির্ণায়ক ব্যবস্থা বন্ধ করে দিচ্ছে। সামুদ্রিক পরিবহন খাতে এই প্রক্রিয়াকে “Going Dark” বা “অন্ধকারে যাওয়া” বলা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের জাহাজকে ইরানের নৌ টহল বাহিনীর নজরদারি বা সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করার জন্য স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (AIS) বন্ধ রাখছে। যদিও এতে সমুদ্রে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ে, তবুও জাহাজ মালিকদের মতে ইরান নিয়ন্ত্রিত এই কৌশলগত জলপথ অতিক্রমের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

প্রতিবেদনে ব্যবহৃত সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে প্রতিদিন ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করত, সেখানে এখন ওই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

অন্যদিকে, পিএসটি (Pole Star Global) নামের একটি সামুদ্রিক তথ্য প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ৫ মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া ৩ হাজার ৩৯৬টি জাহাজের মধ্যে প্রায় ২৩১টি হঠাৎ অবস্থান-সংকেত বন্ধ করা বা ভুয়া তথ্য প্রচারের মতো আচরণ করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকদের মতে, এটি এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয় বরং বৃহৎ পরিসরে সমন্বিতভাবে পরিচালিত একটি প্রক্রিয়া, যেখানে অনেক জাহাজ একসঙ্গে নিজেদের প্রকৃত অবস্থান গোপন করছে এবং ট্র্যাকিং সিস্টেমে বিভ্রান্তিকর তথ্য পাঠাচ্ছে। তাদের মতে, এর পেছনে থাকা পক্ষ পরিস্থিতির ওপর উচ্চ মাত্রার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের আরেক প্রতিবেদনে মার্কিন এক সাবেক সামরিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “ইরান বাজারের আস্থায় সংকট তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, কিন্তু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা মানেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নয়।” এই সংবেদনশীল জলপথে ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতার এটি একটি পরোক্ষ স্বীকৃতি।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, গত বছরের মার্চ মাস থেকে (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে) ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা জাহাজগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর চলাচল পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ন্যাটোভুক্ত কয়েকটি দেশসহ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ বা অতিরিক্ত খরচ আরোপের কথা বলা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়