মার্কিন ধনকুবের বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ককে সতর্ক করেছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। তিনি বৃহস্পতিবার বলেছেন, প্রযুক্তি বিষয়ক বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কের উচিত বৃটেনের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।
স্টারমারের এই মন্তব্য আসে, যখন মাস্ক তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে পোস্ট দেন। ওই হত্যাকাণ্ড বৃটেনে ব্যাপক জনরোষ ও বিক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
গত বছর ১৮ বছর বয়সী হেনরি নোভাক ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে মারা যান। ঘটনাটি ঘিরে দাবি ওঠে যে, হত্যাকারী ভুলভাবে এটিকে বর্ণবাদী হামলা বলে দাবি করেছিল। ঘটনার সময় বৃটিশ পুলিশ নোভাককে হাতকড়া পরিয়ে রেখেছিল। তখন তিনি মৃত্যুর মুখে ছিলেন। এমন ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে বিক্ষোভও হয়।
স্টারমার বলেন, এই মৃত্যুকে ব্যবহার করে উত্তেজনা ছড়ানো অমার্জনীয়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মাস্ক আবারও আমাদের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছেন, বিভাজন উসকে দেয়ার চেষ্টা করছেন। এটি বৃটেনের পরিচয় নয়।
এদিকে মাস্ক তার পোস্টে দাবি করেন, পুলিশ শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। তিনি লিখেছেন, পশ্চিমা বিশ্ব এমন এক অত্যন্ত ভ্রান্ত সামাজিক রীতি তৈরি করেছে যেখানে বর্ণবাদের অভিযোগকে সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। তবে বৃটিশ পুলিশ ও সরকার এসব পক্ষপাতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
নোভাকের পরিবার স্টারমারের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছে। তারা পুলিশের আচরণকে অমানবিক ও অবমাননাকর বলে বর্ণনা করলেও একই সঙ্গে বলেছেন, এই মৃত্যুকে ঘৃণা বা বিভাজন ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। এর আগে মাস্ক বারবার স্টারমারের সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি অভিযোগ করেন, স্টারমার ২০০৮-২০১৩ সালে প্রধান প্রসিকিউটর থাকাকালে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত কিছু গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের মামলা যথাযথভাবে পরিচালনা করেননি।
অন্যদিকে বৃটিশ আইনপ্রণেতা জেস আসাতো মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাদের এআই টুল গ্রক ব্যবহার করে তার ভুয়া যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে বিকিনিতে ছবি পর্যন্ত রয়েছে। আসাতো বলেন, তিনি শুধু একা নন, হাজার হাজার নারী ও শিশু এই ধরনের ডিপফেক ও অপব্যবহারের শিকার হচ্ছেন। এ ঘটনার পর বৃটেনে এআই নির্ভর ভুয়া ছবি ও কনটেন্ট নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর আরও নিয়ন্ত্রণের দাবি জোরদার করছে।