পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭০ জনের বেশি। নিহতদের মধ্যে চার পুলিশ কর্মকর্তা, ছয় বিক্ষোভকারী এবং এক পথচারী রয়েছেন।
আগামী ২৭ জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নাগরিক সংগঠন যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি ধর্মঘটের ডাক দেয়। এর আগে প্রশাসন সংগঠনটিকে বিতর্কিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার সকালে পুলিশের গুলিতে নিহত এক সমাজকর্মীর মরদেহকে কেন্দ্র করে রাওয়ালকোটের একটি হাসপাতালের সামনে হাজারো মানুষ জড়ো হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রশাসনের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ প্রথমে পুলিশের ওপর গুলি চালায়, এতে চার পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরে পাল্টা অভিযানে ছয় আন্দোলনকারী নিহত হন।
তবে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে এবং প্রকৃত নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি। তারা আরও দাবি করেছেন, বহু মানুষকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, উদ্বাস্তুদের জন্য অতিরিক্ত আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্তে স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, বিদ্যুৎ সংকট ও রাজনৈতিক বঞ্চনার মতো বিষয়ও আন্দোলনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
ঘটনার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। একই সঙ্গে কয়েকটি পশ্চিমা দেশ তাদের নাগরিকদের ওই অঞ্চলে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।