মসজিদে নববি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পবিত্র ভূমিতে পা রাখার সৌভাগ্য যখন আল্লাহতায়ালা দান করেন, তখন প্রতিটি হৃদয় আপনা-আপনি আল্লাহর দিকে ঝুঁকে পড়ে। এই মসজিদের প্রতিটি কোণই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্মৃতিবিজড়িত এবং দোয়া কবুলের অসংখ্য ঘটনায় ভরপুর। বিশেষ করে কিছু স্থান এমন আছে যেখানে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা সর্বাধিক বলে হাদিস ও সাহাবা-তাবেয়িনের আমল থেকে প্রমাণিত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে ইরশাদ করেছেন, ‘আমার ঘর ও আমার মিম্বারের মাঝখানের স্থানটি জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান।’ (বুখারি, মুসলিম)
এ ছাড়া আরও কিছু স্থান ও সময় রয়েছে যেখানে দোয়া করলে আল্লাহর রহমত অত্যন্ত নিকটবর্তী হয়ে আসে বলে আলেমগণ একমত। নিম্নে সেগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেওয়া হলো:
দোয়া কবুলের বিশেষ স্থানসমূহ
রিয়াজুল জান্নাহ: হুজরা মোবারক (রাসুল (সা.)-এর কবর শরিফ) থেকে মিম্বরে নববি পর্যন্ত এলাকাটি। এটি জান্নাতের টুকরো। এখানে দোয়া করা অত্যন্ত মুস্তাহাব।
উস্তুওয়ানা হান্নানা (সুবাস স্তম্ভ): মিম্বরে নববির ডান পাশে অবস্থিত। এক সময় এখানে খেজুর গাছের গুঁড়ি ছিল, যা রাসুল (সা.) মিম্বারে উঠলে কেঁদে উঠেছিল। এ স্তম্ভে দোয়া করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
উস্তুওয়ানা সারির (বিছানার স্তম্ভ): রাসুলুল্লাহ (সা.) ইতিকাফের সময় এখানে বিশ্রাম নিতেন। এটি হুজরা শরিফের পশ্চিম পাশে জালির সঙ্গে রয়েছে।
উস্তুওয়ানা উফুদ (প্রতিনিধি দলের স্তম্ভ): বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রতিনিধি দল এখানে বসে রাসুল (সা.)-এর কাছে ইসলাম গ্রহণ করতেন। এটিও জালি মোবারকের সঙ্গে লাগানো।
উস্তুওয়ানা আয়েশা (রা.): উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, এ স্তম্ভের কাছে দোয়া কবুল হয়। এটি রওজায়ে জান্নাতের ভেতরে, উস্তুওয়ানা উফুদের পশ্চিমে।
উস্তুওয়ানা আবু লুবাবা (তওবার স্তম্ভ): হযরত আবু লুবাবা (রা.) নিজেকে এখানে বেঁধে তওবা করেছিলেন, ৫০ দিন পর তাঁর তওবা কবুল হয়। রাসুল (সা.) নিজ হাতে তাঁর বাঁধন খুলে দেন।
উস্তুওয়ানা জিবরাইল: জিবরাইল (আ.) প্রায়শ দাহিয়াতুল কালবি (রা.)-এর রূপ ধারণ করে এখানে বসতেন এবং ওহি নিয়ে আসতেন।
মিহরাবে নববি: রাসুলুল্লাহ (সা.) যে স্থানে ইমামতি করতেন, মিম্বরের ডান পাশে। এখানে দাঁড়িয়ে দোয়া করা অত্যন্ত কার্যকর।
জান্নাতুল বাকি: মসজিদে নববির পাশে অবস্থিত কবরস্থান। এখানে দোয়া করলে মৃতদের জন্য রহমত ও নিজের জন্য মাগফিরাত কামনা করা যায়।
এই স্থানগুলোতে পৌঁছে একাগ্রচিত্তে, অশ্রুসজল নয়নে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পড়ে দোয়া করলে আল্লাহতায়ালা ইনশাআল্লাহ অতি শিগগিরই কবুল করেন। সূত্র: খবরের কাগজ