মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,
لَقَدۡ اَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡكُمۡ كِتٰبًا فِیۡهِ ذِكۡرُكُمۡ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ ﴿۱۰﴾ وَ كَمۡ قَصَمۡنَا مِنۡ قَرۡیَۃٍ كَانَتۡ ظَالِمَۃً وَّ اَنۡشَاۡنَا بَعۡدَهَا قَوۡمًا اٰخَرِیۡنَ
সরল অনুবাদ :
নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি এক কিতাব নাজিল করেছি, যাতে তোমাদের জন্য রয়েছে উপদেশ, তবু কি তোমরা বুঝবে না? আর আমি কত জনবসতি ধ্বংস করে দিয়েছি যারা ছিল জালিম এবং তাদের পর অন্য জাতি সৃষ্টি করেছি। (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১০-১১)
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
কিতাব অর্থ কোরআন এবং জিকির অর্থ সম্মান, শ্রেষ্ঠত্ব, সুখ্যাতি, আলোচনা ও বর্ণনা। আয়াতের অর্থ হচ্ছে, এই কোরআন তোমাদের জন্য সম্মান, প্রতিপত্তি ও স্থায়ী সুখ্যাতির উৎস। যদি তোমরা এর উপর ঈমান আন এবং এটা অনুসারে আমল কর।
আর এসব সম্মান, শ্রেষ্ঠত্ব ও সুখ্যাতির বস্তব উদাহরণ হলেন সাহাবোয়ে কিরাম। তারা কোরআনের উপর পরিপূর্ণভাবে ঈমান এনেছিলেন এবং আমল করেছিলেন বলেই পৃথিবীর বুকে আজও তাদের এত সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্ব । (তাফসিরে ইবনে কাসির, তাফসিরে জাকারিয়া)
قصم এর অর্থ ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা। আর كَم (কত) আধিক্য বর্ণনার জন্য ব্যবহূত হয়েছে।
অর্থাৎ কত বসতি আমি ধ্বংস করেছি, চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছি। যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, নুহের পর আমি কত (মানব) বসতি ধ্বংস করেছি। (সুরা : বানি ইসরাঈল, আয়াত : ১৭) (তাফসিরে আহসানুল বায়ান)
শিক্ষা ও বিধান
১. কোরআন মানুষের জন্য এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান । মুমিনের পরম পাথেয়। তাই কোরআন শুধু পড়া যথেষ্ট নয়, বোঝা, আমল করা ও জীবন গড়া উচিত।
২. জুলুমের পরিণাম ভয়াবহ। অন্যায়, অত্যাচার (জুলুম) কখনো স্থায়ী হয় না। কেননা জালিমের শেষ পরিণাম ধ্বংস।
৩. আল্লাহ যেমন ক্ষমা করতে ভালোবসেন তেমনি তিনি পাপের সীমা ছাড়িয়ে গেলে শাস্তি দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না। তাই আল্লাহর শাস্তি থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
৪. পৃথিবীতে কেউ অপরিহার্য নয়। বরং আল্লাহ চাইলে অন্যদের দ্বারা জায়গা পূরণ করেন। তাই বেশি বেশি আল্লাহর আনুগত্য করা জরুরি।
৫. এই আয়াত অতীতের ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যাতে মানুষ ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সংশোধন করতে পারে।