ইরানি শিরিন পোলাও হলো মিষ্টি চালের সঙ্গে রঙিন শুকনো ফল ও সুগন্ধি উপাদানের দারুণ এক সংমিশ্রণ। ঐতিহ্যবাহী এ খাবারটি স্বাদে যেমন ভরপুর এর আকর্ষণীয় রঙও চোখে আনন্দ এনে দেয়।
বাদামের মচমচে ভাব, নরম কিশমিশ এবং বিভিন্ন শুকনো ফলের মেলবন্ধনে তৈরি হয় অনন্য এই রাইস ডিশ। উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা বিশেষ কোনো মুহূর্তে পরিবেশনের জন্য এটি বেশ জনপ্রিয় একটি পদ।
ঈদের আয়োজনে মেহমানদের জন্য রাখতে পারেন সুস্বাদু এ খাবার।
যেসব উপকরণ লাগবে
বাসমতি চাল ৫০০ গ্রাম
মাল্টার খোসা ২৫ গ্রাম
পেস্তাবাদামকুচি ২ টেবিল চামচ
কাজুবাদামকুচি ২ টেবিল চামচ
মাখন ২ টেবিল চামচ
চিনি ৩ টেবিল চামচ
জাফরান ১ চিমটি
বরফ ২ কিউব
লবণ স্বাদমতো
আস্ত মুরগি একটি
তন্দুরি/কাবাব মসলা ৪ টেবিল চামচ
টক দই ৪ টেবিল চামচ
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে কমলার খোসা ছুরি বা পিলারের সাহায্যে পাতলা করে তুলে নিন। তেতোভাব কমাতে খোসাগুলো ঠান্ডা পানিতে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর সেগুলো ৫ মিনিটের মতো ফুটিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। শিরিন পোলাওয়ের সঙ্গে পরিবেশনের জন্য মুরগির টুকরোগুলো দই ও তন্দুরি মসলার সঙ্গে মিশিয়ে অন্তত ২ ঘণ্টা ম্যারিনেট করুন। পরে ম্যারিনেট করা মুরগি বেক, এয়ারফ্রাই বা রান্না করে ঝোলসহ প্রস্তুত করে নিন। ইচ্ছা করলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী মসলাও ব্যবহার করতে পারেন।
একটি বড় পাত্রে পানি ফুটিয়ে তাতে লবণ দিন। বাসমতী চাল ভালোভাবে ধুয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। পানি ফুটে উঠলে চাল দিয়ে আধাসেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন এবং ঝাঁঝরিতে ছেঁকে নিন। এরপর চাল দুই ভাগে ভাগ করে এক ভাগে জাফরান মিশ্রিত পানি দিয়ে আলাদা করে রাখুন।
এদিকে মাল্টার খোসা ক্যারামেলাইজ করতে একটি ছোট প্যানে ৪ টেবিলচামচ চিনি ও আধা কাপ পানি দিন। চিনি গলে গেলে তাতে কমলার খোসা ও কুচানো গাজর যোগ করুন। অল্প আঁচে প্রায় ১০ মিনিট কষিয়ে ক্যারামেলাইজ করে নিন।
চুলার আঁচ কমিয়ে মোটা তলার পাত্রে মাখন দিন। প্রথমে সাদা আধাসেদ্ধ চালের একটি স্তর দিন। এর ওপর ক্যারামেলাইজ করা মাল্টার খোসা ও কিছু বাদাম ছড়িয়ে দিন। তারপর জাফরান মেশানো চালের আরেকটি স্তর দিন। সামান্য গোলাপজল ছিটিয়ে ঢাকনা দিয়ে ফয়েল পেপার বা আটা দিয়ে চারপাশ ভালোভাবে বন্ধ করুন। প্রায় ৪০ মিনিট দমে রাখুন। শেষে ওপরে মাল্টার খোসা ও বাদাম ছড়িয়ে রান্না করা মুরগির সঙ্গে পরিবেশন করুন।