ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে হওয়া মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা এবং শেখ রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার বিশেষ জজ-৪-এর বিচারক রবিউল আলম আজ সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শেখ হাসিনার পাঁচ বছর, শেখ রেহানার সাত ও টিউলিপের দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাদণ্ডের পাশাপাশি এ তিনজনকেই ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ছাত্র–জনতার অভ্যুথানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ভারতে অবস্থান করছেন। তার বোন কোন দেশে আছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ আছেন যুক্তরাজ্যে। আসামিদের মধ্যে শুধু খুরশীদ আলম কারাগারে আছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গেল ১৩ জানুয়ারি মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন। মামলায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়।
দুদকের অভিযোগ, টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির এমপির ক্ষমতা ব্যবহার করে মা শেখ রেহানা, বোন আজমিনা সিদ্দিক ও ভাই রাদওয়ান মুজিবের নামে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নেন।
হাসিনা, রেহানা ও টিউলিপ ছাড়া মামলার অন্য ১৪ আসামি হলেন জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, একই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মো. আনিছুর রহমান মিঞা, রাজউকের সাবেক চার সদস্য—মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন ও মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী; রাজউকের সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
গত ২৫ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ-৪-এর বিচারক রবিউল আলম রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১ ডিসেম্বর ধার্য করেন।