শিরোনাম
◈ ইরানে ইসরাইলের পালটা হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা ◈ ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ফিলিপাইন, সুনামির ঝুঁকিতে উপকূলীয় এলাকা ◈ পুশইন ঠেকাতে রাত জেগে সীমান্ত পাহারায় ৫ শতাধিক বাংলাদেশি ◈ ইরানের বিরুদ্ধে পালটা অভিযানে না যেতে নেতানিয়াহুকে অনুরোধ করবেন ট্রাম্প ◈ মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের ◈ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ◈ এবার লেবাননে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর বার্তা ট্রাম্পের ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণে মেঘালয়ের আপত্তি, গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ◈ পুরোপুরি সুস্থ নন ইলিয়াস কাঞ্চন: কথা বলছেন, তবে জড়তা কাটেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন তথ্য ◈ এমপিদের সরাসরি তহবিল বরাদ্দ বাতিল, প্রকল্প অনুমোদন দেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

প্রকাশিত : ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:২৯ সকাল
আপডেট : ১৩ মে, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে চালু হচ্ছে না থার্ড টার্মিনাল, সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার। দেশিয় ও আন্তর্জাতিক বিমানভ্রমণের ওপর চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মক্ষমতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। এই তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ বাংলাদেশের বিমানসেবায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হয়েছিল। কিন্তু বহু প্রতীক্ষার পরও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এটি সম্পূর্ণভাবে চালু করা যায়নি।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর যোগাযোগ ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতকে অগ্রাধিকারভুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেয়া হোক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। থার্ড টার্মিনাল চালু হলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। ফলে দীর্ঘদিনের যাত্রী জট, ফ্লাইট বিলম্ব এবং ভিড়জনিত ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঢাকা শহরের আকাশ পথের প্রবেশদ্বার হিসেবে এটি লাখ লাখ যাত্রী, গ্রাহক ও বাণিজ্যিক চলাচলের কেন্দ্র। বর্তমান টার্মিনালগুলোর মাধ্যমে অসংখ্য যাত্রী আসে আর যায় বাড়ছে আকার ও ফ্লাইটের সংখ্যাও। অতিরিক্ত চাপ এড়াতে ভিড় কমাতে এবং ভবিষ্যতে বর্ধিত গন্তব্য ও কার্গো পরিবহন প্রয়োজনীয়তায় তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছিল, যা বাস্তবে একটি যুগান্তকারী অবকাঠামো প্রকল্প। বিষয়টি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি বাংলাদেশে বড় আকারের এক অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক দায়বোধ, আইনি কাঠামো এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি প্রতিচ্ছবি বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতোমধ্যেই বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন জানিয়েছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৃতীয় টার্মিনালকে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য উদ্বোধন করা সম্ভব হবে না। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম প্রচেষ্টা করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এটি চালু করা যাবে না। তৃতীয় টার্মিনাল চালুর জন্য আমাদের প্রাণান্ত চেষ্টা ছিল। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে জাপানি ভাইস মিনিস্টারের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আমরা দর-কষাকষি করেছি। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমাদের প্রচেষ্টা সম্ভবত সফল হয়নি। টার্মিনাল চালুর জন্য যে পদ্ধতিগত প্রয়োজনগুলো রয়েছে এবং পরবর্তী কর্মকা-ের জন্য যেসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা দরকার, সেগুলো সচল করার কাজে আমরা বর্তমানে নিয়োজিত আছি। পরবর্তী সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে এই পরিকল্পনা শুরুর পর ২০২৩ সালের অক্টোবরে পরীক্ষামূলক উদ্বোধন হয়। কিন্তু বাস্তবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। প্রথম দিকে এটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর নাগাদ চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাঝে নানা কারণে তা পিছিয়ে ২০২৬ সালেও কার্যকর হয়নি। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) থেকে প্রায় ২১,০০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে থাকে। এটি প্রায় তিন গুণ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বড় করার উদ্দেশ্যে পরিবহন, যাত্রীসেবা, কার্গো, লজিস্টিকস ও আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা প্রদান করবে বলে পরিকল্পিত হয়েছিল।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে দরপত্র আহ্বান করা হয়। আর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে জাপানি কোম্পানি মিৎসুবিশি, স্যামসাং ও ফুজিতার সমন্বয়ে গঠিত এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ২০২০ সালের এপ্রিলে ওই প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। আর ২০২৩ সালের জুনে টার্মিনালের স্টিল স্ট্রাকচারের কাজ শেষ হয়। একই বছরের অক্টোবরে তৎকালীন সরকার টার্মিনালটি সফট ওপেনিং করে। ২০২৪ সালের অক্টোবর নাগাদ টার্মিনালটি পুরোদমে চালুর পরিকল্পনা ছিল। তৃতীয় টার্মিনালটি ৫৪২,০০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি অত্যাধুনিক স্থাপনা। এতে রয়েছে চেক-ইন কাউন্টার, রওনা ইমিগ্রেশন ডেস্ক, আগমন ইমিগ্রেশন ডেস্ক, বোর্ডিং ব্রিজ, আধুনিক ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম, এছাড়া অন্যান্য আধুনিক যাত্রী পরিষেবা কাঠামো। এই টার্মিনাল চালু হলে বছরে ২০ মিলিয়নের বেশি যাত্রী পরিচালনা সম্ভব এবং এটি দিয়ে সক্ষমতা প্রায় ৩ গুণ বৃদ্ধি পাবে।

সউদী প্রবাসী বেলায়েত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু হলে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো উজ্জ্বল হবে। প্রবাসীসহ আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ভোগান্তি অনেক কমে যাবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রফেসর ড. হাদিউজ্জামান ইনকিলাবকে বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ একটি মেগা প্রকল্প। বর্তমানে যে দুইটি টার্মিনাল চলমান রয়েছে সেগুলোর সক্ষমতা নেই। বর্তমানে যে টার্মিনালগুলো চালু রয়েছে সেগুলোতে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালটি অন্তর্বর্তী সরকার চালু করতে পারেনি। পরবর্তী সরকারের উচিত হবে দ্রুত এটি চালু করার। মানুষের ভোগান্তি কমাতে কাজ করা দরকার। টার্মিনাল চালুর পাশাপাশি রানওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। যে রানওয়ের মাধ্যমে এখন পরিচালিত হচ্ছে তার কেপাসিটি বাড়িয়ে আরেকটি উন্নতমানের রানওয়ে নির্মাণের দিকে নজর দিতে হবে। সূত্র: ইনকিলাব

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়