শিরোনাম
◈ অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি, ১৭ মাসে ৪৬০০ ভারতীয়কে ফেরাল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরকে হারালো ব্রাজিল ◈ ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর: রেমিট্যান্স হিসেবে গণ্য হবে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈদেশিক আয়, থাকছে না উৎসে কর ◈ ১৬০ অর্থনীতিবিদের জরিপ: স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স ◈ টানা ১৬ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ◈ গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রিপেইড মিটারের ত্রুটি দূর করতে হবে ◈ ফারাক্কায় আপত্তি নেই, তবে পদ্মা ব্যারেজে কেন ভারতের অস্বস্তি? ◈ সীমান্তে একের পর এক পুশইন চেষ্টা, কী বার্তা দিতে চাইছে ভারত? ◈ বাংলাদেশকে ২৩ খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব চীনের, প্রধানমন্ত্রীর সফরে হতে পারে চুক্তি ◈ যে কারণে হোটেলের বুকিং বাতিল করে কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা!

প্রকাশিত : ০১ মার্চ, ২০২৬, ০৯:২৮ সকাল
আপডেট : ১০ মে, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশে ৭ মাত্রার বেশি ভূমিকম্পের সম্ভাবনা, রাজধানীর ৯০% ভবন ঝুঁকিতে

বাংলাদেশ ও এর আশপাশ অঞ্চলে গত এক মাসেই অন্তত ১০ বার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে, যার গড় হিসাব করলে প্রতি দুই দিনে একবার করে এই জনপদ কেঁপে উঠছে। বিশেষ করে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর ৫.৪ মাত্রার কম্পন এবং এর আগে গত নভেম্বরে নরসিংদীতে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প জনমনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আতঙ্ক তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্দিষ্ট করে সময় বলা না গেলেও শত বছর পার করা এই অঞ্চলের টেকটনিক প্লেটগুলো যেকোনো সময় তীব্র ঝাঁকুনি সৃষ্টি করতে পারে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের মতে, ভূগর্ভস্থ প্লেট বাউন্ডারিতে প্রতিনিয়ত শক্তি সঞ্চিত হয়। এই শক্তি জমা হতে হতে যখন আর জায়গা পায় না, তখন তা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বের হয়ে আসার চেষ্টা করে। বারবার এমন ছোট বা মাঝারি মাত্রার কম্পন হওয়ার অর্থ হলো সেখানে বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্পের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় দুর্যোগের এই পূর্বাভাসকে গুরুত্ব দিয়ে সব ধরনের স্থাপনা ও ঘরবাড়ি ভূমিকম্প সহনীয় করে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে ভবন মালিকদের এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা এবং প্রকৌশলীদের মাধ্যমে নিয়মিত ভবন পরীক্ষা বা ‘বিল্ডিং অ্যাসেসমেন্ট’ করা এখন সময়ের দাবি।

ঐতিহাসিক তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৮৯৭ সালের ১২ জুন এই অঞ্চলে ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ নামে ৮ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। গবেষণা বলছে, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে এবং খুব কাছ দিয়ে বয়ে যাওয়া বড় প্লেট বাউন্ডারি ও ফল্ট লাইনগুলোতে প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ বছর পর পর ৭ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হওয়ার শঙ্কা থাকে। এমনকি ২৫০ থেকে হাজার বছরের ব্যবধানে ৮ মাত্রার অধিক শক্তিশালী কম্পনও ফিরে আসতে পারে।

সবশেষ ১৯৩০ সালে এই অঞ্চলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল, যার পর প্রায় ৯৬ বছর অতিবাহিত হয়েছে। ফলে বর্তমানে সঞ্চিত শক্তির বিস্ফোরণ ঘটার ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেশি।

দেশের বর্তমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় চরমভাবে অপর্যাপ্ত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু রাজধানী ঢাকাতেই প্রায় ২১ লাখ বাসাবাড়ি আছে, যার ৩০ শতাংশই ছয় তলার চেয়ে উঁচু। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ভবনের প্রায় ৯০ শতাংশই ভূমিকম্প সহনীয় নয়। সারা দেশে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা অগণিত।

এ প্রসঙ্গে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী জানান, সাম্প্রতিক ছোট ছোট কম্পন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়েও বেশি চিন্তার বিষয় হলো অতীতে হয়ে যাওয়া বড় ভূমিকম্পগুলোর পুনরাবৃত্তি। বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এখন থেকেই সব ধরনের অবকাঠামো নির্মাণে ভূমিকম্প সহনীয় নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।

সূত্র: ইত্তেফাক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়