শিরোনাম
◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই ◈ গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের ১০০ দিন: স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও প্রবৃদ্ধির নতুন সমীকরণ ◈ ভূমি কর্মকর্তাদের ২৫ জুনের মধ্যে সম্পদের হিসাব দেওয়ার নির্দেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের ◈ দ. এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য বাংলাদেশ ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ: তুরস্ক ◈ ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস, সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ◈ স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে ◈ ডিপফেক-মিথ্যা তথ্য রোধে এআই নীতিমালা আনছে সরকার ◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক ◈ হাদি হত্যা মামলায় জাবেরকে বাদী করার কারণ জানতে চান বোন মাসুমা ◈ বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ

প্রকাশিত : ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৩৮ সকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ বাস্তবায়নে দুই দলের শীর্ষ নেতাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির মধ্য দিয়ে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ বাস্তবায়নে জোর চেষ্টা চালিয়েছিল এক-এগারোর সরকার। যার মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে নির্বাসনে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করেছিল তখনকার সেনা নেতৃত্ব। এরই অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ-বিএনপি নেতাসহ শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পর তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় রিমান্ডে নিয়ে। এরপর মিথ্যা স্বীকারোক্তির অডিও এবং ভিডিও সিডি গণমাধ্যমে পাঠিয়ে প্রচার করানো হয়। এমনকি ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ভেঙে সংস্কারপন্থি নেতাদের দল ভারী করারও চেষ্টা হয় এক এগারো সরকারের আমলে। এ সব বিষয়ে পুলিশ রিমান্ডে থাকা দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং শেখ মামুন খালেদকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান।

রাজধানীর মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে ডিজিএফআই সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ এবং অপর একটি মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.)

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ছয় দিনের রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ ছাড়া ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা লে. কর্নেল (বরখাস্ত) আফজাল নাছের ভূঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল আদালত থেকে ৬ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এই কর্মকর্তাকে এক এগারো সরকারের সময় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, মাইনাস টু ফর্মুলা এবং দেশে বিরাজনীতিকরণের অংশ হিসেবেই এক এগারো সরকারের আমলে ২০০৭ সালে তিনদফা ‘ক্রাকডাউন অভিযানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের টিএফআই সেলে নিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনকারী টিমের নেতৃত্বে ছিলেন আফজাল নাছের ভূঁইয়া। তার নেতৃত্বে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, আওয়ামী লীগের তখনকার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার শেখ ফজলুল করিম সেলিমসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতাকে নির্যাতন করা হয় সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। শুধু রাজনীতিকই নয়, দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও গ্রেপ্তার করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। এ ছাড়া তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় কোটি কোটি টাকা। এমনকি টাকার জন্য বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

সূত্র জানিয়েছে, ২০০৭ সালের মে মাসের শেষ দিকে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর শেখ হাসিনা, বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তাদের মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে বলা হয়। কিন্তু তারা স্বীকারোক্তি দিতে রাজি না হওয়ায় টিএফআই সেলে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। এরপর তাদের দিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। পরবর্তীকালে সেই স্বীকারোক্তির অডিও-ভিডিও সিডি গণমাধ্যমে প্রচারে বাধ্য করা হয়। নির্যাতনের মাধ্যমে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় রেকর্ড করার কাজটি করত ডিজিএফআই। বেশিরভাগ ঘটনাতেই এ কাজে আফজাল নাছের ভূঁইয়া নেতৃত্ব দিতেন বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য এসেছে। গতকাল তাকে রিমান্ডে নিয়েই এ ব্যাপারে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। আফজাল ছাড়াও এ ব্যাপারে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং শেখ মামুন খালেদকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা এসব বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এ ছাড়া বিদেশে পলাতক ডিজিএফআইয়ের সাবেক দুই কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারীর ওপর কিছু কিছু বিষয়ে দায় চাপাচ্ছেন বলে গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা গতকাল আমাদের সময়কে জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক এগারো সরকারের কুশীলবরা দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে ঠেলে দিতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন নানা ইস্যুতে। যখন তারা ডিজিএফআইয়ের কথামতো কাজ করতে রাজি না হন তখনই একে একে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আর যারা কথা শোনেন তাদের দিয়ে সংস্কারপন্থি নেতা হিসেবে আবির্ভাব ঘটান। এমনকি ফেরদৌস আহমেদ কোরাইশীকে দিয়ে কিংস পার্টি গঠন করেন। যেখানে অনেক নেতা ডিজিএফআইয়ের কথামতো যোগ দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফেরদৌস আহমেদ কোরাইশীর দল বেশিদূর যেতে পারেনি। এমন একটি অবস্থায় দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে নির্বাসনে যাওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। তাদের শর্তানুযায়ী শেখ হাসিনা বিদেশে চলে যান। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে যেতে রাজি হননি। খালেদা জিয়া বিদেশে যেতে রাজি না হওয়ায় পরবর্তীকালে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন। তার দেশে ফেরা ঠেকাতে এক এগারো সরকার নানা চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় প্রভাবশালী একটি দেশের চাপে। এসব বিষয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মামুন খালেদ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়