শিরোনাম
◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা ◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই

প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৩২ সকাল
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাষ্ট্রপতিকে চাপে ফেলতে পিস্তল দেওয়ার অভিযোগ সামরিক সচিবের বিরুদ্ধে

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দুপুরের পর ৬ ঘণ্টা ধরে বঙ্গভবনে নানা নাটকীয় ঘটনার অবতারণা হয়। ওইদিন জরুরি অবস্থা জারি এবং প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা ছিল না রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদের। কিন্তু সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের নেতৃত্বে বঙ্গভবনে যাওয়া তিন বাহিনী প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের চাপাচাপিতে শেষ পর্যন্ত তিনি জরুরি অবস্থা জারি করেন। এর আগেই মইন উ আহমেদসহ তার সঙ্গে আসা সেনা কর্মকর্তাদের হাতে ৩টি পিস্তল তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন রাষ্ট্রপতির তখনকার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আমিনুল করিম। সামরিক সচিবই ওইদিন তিন বাহিনী প্রধানকে ডেকে নিয়েছিলেন। আর তখনকার নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মইন উ আহমেদই বঙ্গভবনে ডেকে নিয়েছিলেন। রাজধানীর পল্টন থানার একটি মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ছয় দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘১১ জানুয়ারি বঙ্গভবনে তিন বাহিনী প্রধানের যাওয়া, রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করার পুরো বিষয় মইন উ আহমেদ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত আমার জানা ছিল না। ভেতরে ভেতরে তিনি আমাকে অবিশ্বাস ও সন্দেহ করতেন। তার ভয় ছিল আমি পাল্টা ক্যু করতে পারি। কিন্তু আমার এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্বান্ত সেনাপ্রধান গ্রহণ

করতেন। তার কোনো কোনো সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমিসহ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা বিরোধিতা করতাম। কিন্তু আমাদের কম গুরুত্ব দেওয়া হতো। যে কারণে তার সঙ্গে আমার সম্পর্কে ফাটল ধরে।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির দিন বঙ্গভবনের অন্দর মহলের অনেক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের প্রেস সেক্রেটারি (পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় উপদেষ্টা) মো. মোখলেসুর রহমান। আমাদের সময়কে তিনি টেলিফোনে বলেন, ওইদিন তিন বাহিনী প্রধানকে রাষ্ট্রপতি ডাকেননি। তাদের সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত কোনো মিটিংও ছিল না। রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আমিনুল করিমই তাদের ডেকে নিয়েছিলেন। ওইদিন তিন বাহিনী প্রধানকে বঙ্গভবনে প্রথমে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে আমিনুল করিম গেট থেকে তাদের নিয়ে তার রুমে বসান। আমিনুল করিম মইন উ আহমেদের অনুগত ছিলেন বলেও জানান মোখলেসুর রহমান।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, তখন আওয়ামী লীগসহ সমমনা রাজনৈতিক দলের রাজপথের আন্দোলন ঘিরে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি টালমাটাল। দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় পুরো জাতি। উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। ১১ জানুয়ারি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দুপুরে রাষ্ট্রপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে বঙ্গভবনে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক চলছিল। তখন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব (এমএসপি) আমিনুল করিম রাষ্ট্রপতিকে গিয়ে বলেন, তিন বাহিনী প্রধান বঙ্গভবনে আসছেন। তিনি বৈঠক বন্ধ করার জন্য কৌশলে চাপ সৃষ্টি করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি বৈঠক থেকে উঠে রাষ্ট্রপতির অফিস কক্ষে যান। এরই মধ্যে মইন উ আহমেদের নেতৃত্বে তিন বাহিনী প্রধান বঙ্গ ভবনের গেটে হাজির হন। পূর্বানুমতি ছাড়া তারা আসায় তিন বাহিনী প্রধানকে ওই সময় বঙ্গভবনের গেটে আটকে দেন নিরাপত্তাকর্মীরা। রাষ্ট্রপতির গার্ড রেজিমেন্টের প্রধান (পিজিআর) এবং প্রেস সেক্রেটারি তিন বাহিনী প্রধানকে বঙ্গভবনে ঢুকতে না দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। এ নিয়ে বঙ্গভবনের গেটে এক ধরনের হট্টগোল চলছিল। এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আমিনুল করিম তিন বাহিনী প্রধানসহ তাদের সঙ্গে আসা অন্যান্য সেনা কর্মকর্তাদের বঙ্গভবনের ভেতরে নিয়ে যান। পরে সামরিক সচিব তাদের নিজের রুমে বসান।

সূত্র আরও জানিয়েছে, বঙ্গভবনে প্রবেশের সময় কোনো অস্ত্র বহন করা নিষিদ্ধ থাকায় ওইদিন বঙ্গভবনে প্রবেশের পর সামরিক সচিব মইন উ আহমেদসহ তার সঙ্গে আসা সেনা কর্মকর্তাদের হাতে ৩টি পিস্তল তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। ওইদিন বিকাল ৪টার দিকে উপদেষ্টা পরিষদের পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক ছিল। সামরিক সচিব পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী উপদেষ্টা পরিষদের সে বৈঠক বাতিল করে দেন। এদিকে সেনাপ্রধানসহ সামরিক অফিসারদের বঙ্গভবনে আসা এবং তাদের সন্দেহজনক আচরণের বিষয়টি প্রেস সেক্রেটারি মোখলেসুর রহমান রাজনৈতিক দলের নেতাদের জানাতে ফোন করেন। কিন্তু কেউই ফোন রিসিভ করেননি। ফোন ব্যাকও করেননি।

রাষ্ট্রপতির সিটিং রুমে তিন বাহিনী প্রধান, এসএসএফ ডিজি, ডিজিএফআইয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিসহ কয়েকজন সামরিক অফিসারকে বসিয়ে রাখেন সামরিক সচিব আমিনুল করিম। সেখানে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা) ও ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজলুল বারী চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। তারা দুজন আগেই বঙ্গভবনে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকের কারণে। পরে তাদেরও ডেকে নেন সেনাপ্রধান। পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে ডাইনিং রুম থেকে বেডরুমে যাওয়ার পথে জোর করে রাষ্ট্রপতিকে ভেতরের সিটিং রুমে নিয়ে যায় সেনা কর্মকর্তারা। পরে রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে কয়েকটি কাগজে জোর করে স্বাক্ষর করানো হয়।

সূত্র বলেছে, ওই কাগজগুলোর মধ্যে ছিল প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদের পদত্যগ, দেশে জরুরি অবস্থা জারি এবং জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির ভাষণ। এরপরই সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। বঙ্গভবনে যে রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হবে এ বিষয়টি আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা আগেই জানতেন। এ ছাড়া প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের পুরো বিষয়টি জানা ছিল। সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ যখন ড. ইয়াজউদ্দিনকে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশে জরুরি আইন জারির আদেশে সই করতে বলেন তখন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও ছিলেন। মইন উ আহমেদ নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ফোনে বঙ্গভবনে ডেকে নেন। চাপের মুখে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে না চাইলে সেনাপ্রধান মইন কলম এগিয়ে দেন। সেখানে উপস্থিত সেনা কর্মকর্তাদের চাপের মুখে রাষ্ট্রপতি প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ এবং জরুরি অবস্থা জারি করেন। এ ব্যাপারে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়