শিরোনাম
◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার ◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ ◈ দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার টি-টোয়েন্টিতে খেল‌বেন রিশাদ হো‌সেন! ◈ ১৩ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মা‌টি‌তে ওয়ান‌ডে জ‌য়ের স্বাদ পে‌লো  শ্রীলঙ্কা ◈ নতুন-পুরনো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: এনআইডি ব্লকের প্রস্তুতি, নতুন তালিকা হচ্ছে, নজরদারিতে স্বজনরাও ◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে ◈ লিও‌নেল মে‌সি স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন, বা‌র্সেলোনার অভিনন্দন ◈ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: যুক্তিতর্ক শুনানি আজ ◈ মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যেও নীরব দিল্লি, বক্তব্য নেই বিজেপির

প্রকাশিত : ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:২৬ দুপুর
আপডেট : ২৮ মে, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

বাংলাদেশের তরুণরা রাজ‌নৈ‌তিক ক্ষমতা অর্জনে হোঁচট খেলেও নেপালের তরুণরা কীভাবে সফল হলো?

এল আর বাদল: গত মাসে নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বালেন্দ্র শাহ। একই সঙ্গে দেশটির পার্লামেন্টও এখন বহু তরুণ মুখে ভরপুর। নেপালের তরুণ প্রজন্মের মতো করে বাংলাদেশেও তরুণ প্রজন্মের উত্তাল বিক্ষোভ সরকারের পতন ঘটিয়েছিল।

তবে প্রায় দুই বছর হতে চললেও বাংলাদেশ তরুণদের আন্দোলন এখন পর্যন্ত তেমন অর্থবহ রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। ----- বি‌বি‌সি বাংলা

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে আন্দোলন-পরবর্তী প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, এতে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গড়ে তোলা দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মোটেই আশানুরূপ ফলাফল করতে পারেনি। অথচ নেপালের নির্বাচনে এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে।

বাংলাদেশের নির্বাচনের এক মাস পর সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বিপুল ভোটে জয় পায়, অথচ দলটির বয়স মাত্র চার বছর। এ জয়ে বেশ কয়েকজন জেন-জি রাজনীতিক পার্লামেন্টে জায়গা করে নেন। আর আরএসপির সঙ্গে জোট করা সাবেক র‍্যাপার বালেন্দ্র শাহ নেপালের নেতৃত্বে আসেন।

এটি এশিয়ায় এক বিরল সাফল্যের গল্প। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে অনেক জেন-জি আন্দোলন হলেও নেপালের মতো তরুণদের সরাসরি রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার ঘটনা আর কোথাও ঘটেনি।

দূর থেকে এসব দৃশ্য দেখে আক্ষেপ করেন বাংলাদেশের তরুণ আন্দোলনকারী উমামা ফাতেমা, যিনি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হাজার হাজার জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের একজন।

ব্যক্তিগতভাবে আমি ভীষণ হতাশ। নেপালের তরুণেরা যেভাবে নিজেদের সংগঠিত করতে পেরেছে, তা দেখে নিজের দেশের পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ না হয়ে পারিনি,'' বলছিলেন উমামা ফাতেমা।

উমামা আরও যোগ করেন, ''বাংলাদেশ এমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি…আমরা আমাদের দেশকে সেভাবে সংগঠিত করে নতুন করে গড়ে তুলতে পারিনি—এটা উপলব্ধি করাটা স্বাভাবিকভাবেই হতাশাজনক।''

কিন্তু কেন এক দেশে তরুণেরা সফল হলো, আর অন্য দেশে এতটা পিছিয়ে পড়ল? নেপালের তরুণ নেতারা বলছেন, তাদের এই সাফল্যের মূল কারণ ছিল সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারা।

নেপালে আরএসপির প্রার্থী হিসেবে কৈলালি অঞ্চলে জয়ী কেপি খানাল বলেন, ''দেশ কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা গভীর ক্ষোভ সামনে নিয়ে এসেছিল জেন-জি আন্দোলন। সেইসঙ্গে জেন-জিদের ত্যাগ আর কণ্ঠস্বর মানুষের মনে গেঁথে যায়—যা তারা ভুলে যাননি। কেপি খানাল মনে করেন, ধারাবাহিকতাও জয়ের ক্ষেত্রে বড় একটি কারণ।

তিনি বলেন, ''আমরা বারবার জবাবদিহিতা ও ন্যায়ের কথা তুলে ধরেছি, ধীরে ধীরে সেই বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। এটা শুধু পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানানোতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি সত্যিকারের নির্ভরযোগ্য আন্দোলনে রূপ নিতে শুরু করে। এ আন্দোলনের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয় এবং তারাও সেখানে যুক্ত হতে চায়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের তীব্র ক্ষোভ, যা জেন জি প্রজন্মের বিক্ষোভে প্রকট হয়েছিল, তা মূলত প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর দিকে ছিল। এতে অপেক্ষাকৃত নতুন দল আরএসপির প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।

ওয়েস্টমিনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেমোক্রেসির পরিচালক নিতাশা কাউল বলেন, ''নেপালে তিনটি প্রতিষ্ঠিত দলই বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছিল। ফলে তরুণকেন্দ্রিক দল আরএসপি ও এর নেতারা সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছেন।

বালেন্দ্র শাহ ও আরএসপির জোট করা এবং দলটিতে বহু তরুণ কর্মী ও আন্দোলনের নেতাদের যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দলটির সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে। কারণ, তরুণ প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং বড় পরিসরে ভোটারের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ করে দিতে পেরেছিল আরএসপি।

অনেকের মতে, এই জোট আরএসপিকেও সুবিধা দিয়েছে। দলটির নেতা রবি লামিচানে তহবিল তছরুপের অভিযোগে বিতর্কের মুখে পড়েন। তবে বালেন্দ্র শাহর সঙ্গে হাত মেলানোর মাধ্যমে দলটি সেই বিতর্ক কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। কারণ, বালেন্দ্র শাহ-র মতো জনপ্রিয় নেতাকে ঘিরে ভোটাররা একত্রিত হতে পেরেছেন। যদিও তার নিজের তেমন সংগঠিত কোনো দলীয় কাঠামো ছিল না।

নেপালের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমিশ মুলমির মতে, ''দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে দলীয় সংগঠন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই একটি তরুণ নেতৃত্বাধীন দলকে নির্বাচনে বড় সাফল্য পেতে বিস্তৃত একটি দলীয় কাঠামো গড়ে তুলতে হয়, বিশেষ করে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে।''

গত বছরের জেন-জি আন্দোলনের পর বন্ধুদের কাছ থেকে নতুন দল গঠনের প্রস্তাব পাওয়ার সময় তরুণ কর্মী পুরুষোত্তম সুপ্রভাত যাদব ঠিক এই বিষয়ই মাথায় রেখেছিলেন এবং প্রস্তাবটি নাকচ করে দেন।

বিবিসিকে যাদব বলেন, ''নির্বাচনে জেতা কোনো সহজ বিষয় নয়। আন্দোলন গড়া আর নির্বাচনে জয় পাওয়া—দুটি ভিন্ন বিষয়।' যাদব আরও বলেন,''একটি রাজনৈতিক দল হুট করে গঠন করা যায় না…এর জন্য বড় কাঠামো দরকার। তখন আমাদের অর্থ জোগাড় করা ও সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ছিল। ওই সময় আমাদের সেই সক্ষমতা ছিল না।''

এর পরিবর্তে ২৭ বছর বয়সী পুরুষোত্তম সুপ্রভাত যাদব গত ডিসেম্বরে আরএসপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি এ দলকে প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর তুলনায় নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করেন। দলটির দেশব্যাপী বিস্তৃত সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক ছিল এবং দলের তালিকায় অনেক নতুন মুখ ছিল।

কাউল উল্লেখ করেন যে নির্বাচনে জয়ী হতে দীর্ঘমেয়াদী সাংগঠনিক কাজ প্রয়োজন।

''একটা আন্দোলন মূলত আবেগ, হতাশা, ক্রোধ বা রাজনৈতিক শুদ্ধতার বোধ থেকে উদ্ভূত হয়, তা হয়তো পরিস্থিতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য ভালো, তবে নির্বাচনে জেতার জন্য তা যথেষ্ট নয়।''

বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায়, বিনয়ের সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী সামাজিক রীতিনীতি এবং লিঙ্গীয় শ্রেণিবিন্যাস প্রায়ই তরুণদের আন্দোলনকে সফল হতে বাধা দেয়। কিন্তু নেপালকে কাউল 'সাফল্যের একটি ভালো দৃষ্টান্ত' হিসেবে উল্লেখ করেন।

কাউল বলেন, ''তরুণ আন্দোলন তখনই বেশি কার্যকর হবে, যখন অভ্যন্তরীণ বিভাজন কম থাকবে। বিরোধ ছাড়াই মতাদর্শগত বৈচিত্র্য থাকবে এবং নিজেদের সুবিধায় ব্যবহারের জন্য আন্দোলনের ফলাফলকে ছিনিয়ে নেওয়ার মতো প্রতিষ্ঠিত দল কম থাকবে।''

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো অনুপস্থিত ছিল। জেন-জি আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে অনেক বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের আধিপত্য ছিল।

কাউল মনে করেন, এই অবস্থায় 'দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে' থাকা দলগুলো 'ভুক্তভোগী' হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তার মতে, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে 'ক্ষমতাশক্তির বিরুদ্ধে আবেগকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা ভোগ করেছে।'

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের গবেষণা ফেলো ইমরান আহমেদ মনে করেন, এই দলগুলো নিজেদের সংস্কারমুখী হিসেবে উপস্থাপন করেছিল এবং তরুণ আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। তরুণ নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর চেয়ে আরও ভালোভাবে বিক্ষোভের শক্তিকে গ্রহণ আর পরিচালনা করতে সক্ষম ছিল।

বিতর্কিত ও রক্ষণশীল দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি তাদের জন্য আরও বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত তাদের অনেক তরুণ সমর্থক, বিশেষ করে নারীদের দূরে ঠেলে দেয়। শেষ পর্যন্ত এনসিপি ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে মাত্র ছয়টি আসনে জিততে পেরেছে।

দিল্লির এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক ঋষি গুপ্তা বলেন, ''বাংলাদেশে রক্ষণশীল শক্তির সঙ্গে জোট বেঁধে এনসিপি জেন-জি আন্দোলনের চেতনার চেয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার দিকে বেশি মনোনিবেশ করেছে। এর মধ্য দিয়ে ভোটারদের কাছে টানার যে সুবর্ণ সুযোগ তাদের হাতে ছিল, তা নষ্ট হয়েছে।

সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ। ঋষি গুপ্তা মতে, বাংলাদেশের জেন-জি আন্দোলন ও নির্বাচন হওয়ার মধ্যে এক বছর ছয় মাসের যে ব্যবধানটা ছিল, তা আন্দোলনের গতির ওপর প্রভাব ফেলে থাকতে পারে। অন্যদিকে, নেপালে নির্বাচন আয়োজন করতে মাত্র ছয় মাস সময় লেগেছিল।

বাংলাদেশের বিক্ষোভকারীরা যা করতে পেরেছেন, তা হলো পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করা।

ইমরান আহমেদ বলেন, এসব বিক্ষোভ 'জাতীয় আলোচনাকে বদলে দিয়েছে'। তারা আলোচনাকে সংস্কারের প্রয়োজনের দিকে কেন্দ্রীভূত করতে পেরেছে। ফলে নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অধিকাংশ মানুষ সংবিধান, সংসদ ও আইনি ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

নতুন বিএনপি সরকারও কাঠামোত সংস্কার আনার জন্য একটি ৩১ দফাবিশিষ্ট পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করেছে। তবে কারো কারো মনে সংশয় থেকে গেছে।

''অনেক ক্ষেত্রে তারা আওয়ামী লীগ আমলে নেওয়া কর্মসূচির ধাঁচেই কাজ করছে। নতুন সরকারের উচিত ছিল বাংলাদেশের তরুণদের জন্য চাকরি ও অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধির দিকে আরও মনোযোগী হওয়া,'' বলেন উমামা ফাতেমা।

উমামা ফাতেমা আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেক তরুণ এখন বিদেশে ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজছে। নির্বাচনের পর অনেকে রাজনীতি নিয়েও হতাশ।

উমামা যোগ করেন, ''তরুণদের মধ্যে বিদেশে চলে যাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে…এমনকি যারা একসময় দেশে থাকতে চেয়েছিল, তারাও এখন সিদ্ধান্ত পাল্টাচ্ছে। তরুণেরা যখন দেশের ভেতর ভবিষ্যৎ দেখছে না, তখন তারা রাজনীতিতে নিজেদের জায়গা কীভাবে খুঁজবেন? এটি এখন একটি বড় সমস্যা।

কিছু মানুষ আশা করে যে সংসদে এনসিপির ছোট আকারের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও তার ওপর ভিত্তি করেই তারা তরুণ আন্দোলনকে পুনর্জীবিত করতে পারবে এবং নিজেদের ভাবমূর্তি ফেরাতে পারবে। দলটি স্থানীয় নির্বাচনে কোনো জোটে না থেকেই প্রার্থী দিচ্ছে। এনসিপি নেতা ও জেন-জি আন্দোলনকারী রাহাত হোসেন বলেন, ''আমি মনে করি, মানুষ এবার এই দলকে জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে বেশি গ্রহণ করবে।''

রাহাত হোসেন আরও বলেন, ''যদি এনসিপি মানুষের সঙ্গে রাস্তায় দাঁড়ায়, তাদের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যায় এবং প্রতিশ্রুতি পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকে, তবে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে। তবে নেপাল ও বাংলাদেশের তরুণ বিক্ষোভকারীদের একটি লক্ষ্য বেশ স্পষ্ট। তারা পরিবর্তনের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।

নেপালের নতুন জেন-জি পার্লামেন্ট সদস্যরা তাদের নতুন সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন।
পুরুষোত্তম সুপ্রভাত যাদব বলেন, ''আমরা এখন রাজপথ থেকে পার্লামেন্টে প্রবেশ করেছি। আমাদের জায়গা বদলেছে, কিন্তু এজেন্ডা নয়।''

''দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নেওয়া এবং রাজনৈতিক পরিচয় বা আত্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করাটা আমাদের মূল দাবি। যদি আমাদের নিজের দলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়, আমরা করব। বাংলাদেশের নতুন সরকার গণভোটের ফলাফল মেনে না চললে প্রয়োজনে আবার রাস্তায় বিক্ষোভে ফিরে আসবেন বলছেন এনসিপি নেতা রাহাত হোসেন।

যারা এখন তাদের থেকে ১০ বছর ছোট, তারাও আস্তে আস্তে নিজেদের আন্দোলন সংগঠিত করবে বলে মনে করেন উমামা ফাতেমা। তিনি বলেন, ''সম্ভবত বাংলাদেশের পরবর্তী বিক্ষোভের ধাপকে নেতৃত্ব দেবে জেনারেশন আলফা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়