শিরোনাম
◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক ◈ কুমির সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি, মাজারের দিঘিতে ফেরত চাইলেন খাদেম ◈ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বকাপ মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে ◈ ইরান অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা, আর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও ◈ স্বামী-সন্তান কানাডা প্রবাসী, সেই মিরপুরেই মিলল আরেক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ ◈ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ◈ অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ◈ তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৮.৫° সেলসিয়াস, আজও ঝড়-বৃষ্টির আভাস ◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার ◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২১ দুপুর
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইলিয়াস আলী গুম মামলা: সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মামুন খালেদের নতুন বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ

এম ইলিয়াস আলীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আইএবি কর্তৃক অবগত হই যে, র?্যাব কর্তৃক তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তীতে মৌখিকভাবে এবং পরে টকিং পয়েন্ট হিসেবে আমাকে জানালে আমি প্রথমে নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করি। প্রধানমন্ত্রী কোনো অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন নাই। ওই টকিং পয়েন্টে এম ইলিয়াস আলীকে কারা গ্রেপ্তার করেছে সে বিষয়ে উল্লেখ ছিল। টিপাইমুখ বাঁধ অভিমুখে লংমার্চ-এর পরিকল্পনা এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা হওয়ার কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ ছাড়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত অফিসারদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ।

গুম, খুনসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা একটি মামলায় গত ১৩ই এপ্রিল বিকালে শেখ মামুন খালেদকে ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। পরে, এই মামলায় খালেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন ও দু’দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান প্রসিকিউশন। শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ওয়ান-ইলেভেনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে গ্রেপ্তার নির্যাতনের নেপথ্যে কারা ছিলেন সে সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। সূত্র জানায়, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় দু’দিনব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদে শেখ মামুন খালেদ জানান, ডিজিএফআই সদর দপ্তরে ন্যাশনাল মনিটরিং সেল (এনএমসি) পরিচালিত হতো। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এখানে ফোন কল ট্র্যাকিং, কল রেকর্ডিং, মনিটরিং ইত্যাদির সুযোগ ছিল।

এখানে এনএসআই, ডিজিএফআই, র?্যাব, পুলিশ সংস্থার আলাদা আলাদা রুম ছিল। এই এনএমসি পরে বিশেষায়িত সংস্থা এনটিএমসি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন খালেদ আরও জানান, ২০০৭ সালের ৭ই মার্চ যখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয় তখন কুমিল্লা সেনানিবাসে কমান্ড্যান্ট স্কুল অব মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সে কর্মরত ছিলেন তিনি। সে বছর ২০শে জানুয়ারি পরিচালক (যোগাযোগ) হিসেবে যোগদান করেন। বিভিন্ন অফিসারদের সঙ্গে কথাবার্তার সূত্রে জানতে পারেন, ৪৬ পদাতিক ব্রিগেড বা সিগন্যালস্‌ ব্রিগেড কর্তৃক পরিচালিত টাস্ক ফোর্স কর্তৃক তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। ব্রিগেড কমান্ডারদের নাম অনার বোর্ডে পাওয়া যাবে। তবে এ মুহূর্তে মনে নেই। এ সমস্ত টাস্কফোর্সসমূহ সেনাসদরের একটি সমন্বয় সেল থেকে সমন্বিত হতো। সেখানে ব্রিঃ জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবর দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি আরও জানান, উনাকে (তারেক রহমান) জেআইসিতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যার অফিসার ইনচার্জ ছিল লে. কমান্ডার মেহেদী। তখন সিটিআইবি’র পরিচালক ছিলেন ব্রিঃ জেনারেল এটিএম আমিন। তার অধীনে জিএসও-১ ছিলেন লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার, লে. কর্নেল আফজাল নাসের, লে. কর্নেল রউফ, লে. কর্নেল মোয়াজ্জেম এবং লে. কর্নেল ফজলু। তবে সম্ভবত লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার এবং ব্রিঃ জেনারেল এটিএম আমিন জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মহোদয়কে দু’বার জেআইসিতে নেয়া হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এটি জেআইসিতে রক্ষিত রেজিস্ট্রারে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে বলে জানান মামুন খালেদ। তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা আরও জানান, ইলিয়াস আলীর গ্রেপ্তারের সময় ডিজিএফআই’র ডিজি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি পরিচালক আইএবি কর্তৃক অবগত হন, র?্যাব তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তৎকালীন পরিচালক আইএবি ছিলেন লে. জেনারেল সাইফুল আলম, প্রথমত মৌখিকভাবে এবং পরে টকিং পয়েন্ট হিসেবে আমাকে জানান। আনুমানিক ২ সপ্তাহ পরে সমস্ত টকিং পয়েন্ট নিয়ে প্রথমে নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিকী এবং পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করি। এটা একটা রুটিন তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। যতদূর মনে পড়ে ওই টকিং পয়েন্টে ইলিয়াস আলীকে কারা গ্রেপ্তার করেছে সে বিষয়ে উল্লেখ ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কোনো অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন নাই। সে সময়ে এডিজি অপস ছিল কর্নেল (পরবর্তীতে লে. জেনারেল) শামসুল ইসলাম, পরবর্তীতে র‍্যাব-এর সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে জানতে পারি। এসব তথ্য অধস্তন অফিসাররাই সংগ্রহ করেছিলেন। এ ছাড়া লে. কর্নেল জিয়া ছিলেন র‍্যাব ইন্টেলিজেন্টের প্রধান।

আমার জানামতে টিপাইমুখ বাঁধ অভিমুখে লংমার্চ এর পরিকল্পনা এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা হওয়ার কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আমি ইলিয়াস আলীর আটকের বিষয়টি জানলেও প্রতিকার করার কিছু ছিল না। ইলিয়াস আলীকে তৎকালীন সরকার পরিকল্পিতভাবে গুম করা হয়েছে বলে আমি জানতে পারি। মামুন খালেদ আরও জানান, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস হত্যাচেষ্টা মামলায় যেসব অফিসারদের নাম এসেছিল, সেসব অভিযুক্ত অফিসারদের বিষয়ে সিটিআইবি তদন্তে সহায়তা করে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

সূত্র: মানবজমিন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়