শিরোনাম
◈ নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে অসন্তোষ, বিইআরসিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের ◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক ◈ কুমির সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি, মাজারের দিঘিতে ফেরত চাইলেন খাদেম ◈ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বকাপ মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে ◈ ইরান অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা, আর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও ◈ স্বামী-সন্তান কানাডা প্রবাসী, সেই মিরপুরেই মিলল আরেক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ ◈ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ◈ অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ◈ তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৮.৫° সেলসিয়াস, আজও ঝড়-বৃষ্টির আভাস ◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৫৯ সকাল
আপডেট : ০২ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্কুল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট- বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করেন এবং একান্তে শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সকালে ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও অডিটোরিয়াম ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ করেই প্রধানমন্ত্রী ছুটে যান পাশেই থাকা স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে। বেলা ১১টা ৫ মিনিটে স্কুলে প্রবেশ করে প্রায় ১৫ মিনিট প্রধানমন্ত্রী স্কুলের শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করেন বলে জানায় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।

প্রধানমন্ত্রীকে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতেই নির্মাণাধীন ভবনটির পাশেই অবস্থিত বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের শ্রেণিকক্ষ থেকে হাত নাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে থাকে। বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর। তিনি নিজেও তাদের হাত নেড়ে সাড়া দেন।

এরপর তিনি চলে যান বিয়াম মিলনায়তনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে। সেখানকার পর্ব শেষ করে বেরিয়ে যেতেই প্রধানমন্ত্রী ছুটে যান বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে। ঘুরে দেখেন শিশুদের তিনটি শ্রেণিকক্ষ। সেখানে কিছুক্ষণ শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে শিশুরাও মেতে ওঠে আনন্দে। চিৎকার দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে শিশুরা।

প্রধানমন্ত্রী প্রথমে যান স্কুলটির দ্বিতীয় শ্রেণির একটি কক্ষে। সেখানকার শিশু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় শিশুরা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তাদের আঁকা বিভিন্ন ড্রয়িং তুলে ধরে। অনেকে তাদের ড্রয়িংয়ে প্রধানমন্ত্রীর অটোগ্রাফ নেয়।

বড় হয়ে নিজেরা কে কী হতে চায়, সেই অভিপ্রায়ও ব্যক্ত করে শিশুরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে। স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

জনগণের সেবক এবং বন্ধু হিসেবে ভাবুন

জনগণের সেবক ও বন্ধু হতে জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আপনারাই নীতি নির্ধারণ এবং নীতি বাস্তবায়নের মধ্যে সেতুবন্ধন। আপনাদের সততা, কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতাই সরকারের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান-নিজেদেরকে শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নয়, বরং জনগণের সেবক এবং বন্ধু হিসেবে ভাবুন।

শনিবার ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ইস্কাটনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট-বিয়াম ফাউন্ডেশনের তৃতীয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। পরে বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের প্রশাসনকে জনমুখী করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে প্রবেশ করেছে। সুতরাং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদেরকেও সময়ের সঙ্গে মোকাবিলায় নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক গড়ে তুলবে।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যতে সকল সরকারি সেবা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া। এক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিয়ামের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার বিয়ামকে আরও যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত।

তারেক রহমান বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব ব্যবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং সহজীকরণে সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রতিষ্ঠা এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল কর্মপ্রবাহ তৈরি করে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে সরকারি কর্ম সম্পাদন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। আমাদের উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এবং মানবিক। আমরা একটি বাংলাদেশ করতে চাই, যেখানে উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরে ধীরে ধীরে পৌঁছবে। বৈষম্য কমে আসবে; একপর্যায়ে ইনশাআল্লাহ থাকবে না। নারী এবং যুবসমাজ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অবশ্যই পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা আমাদের প্রতিটি নীতির অংশ হবে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বচ্ছ, দক্ষ, জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই-যদি আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। আমি আশা করি, বিয়ামের কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ পরিবেশ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা সমস্যার সমাধানের ক্ষমতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। আধুনিক প্রশাসনের দক্ষতা মানে শুধু নিয়ম জানা নয়, বরং প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জনসেবায় সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি। সেই লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ফলাফলমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। মৌলিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উন্নত কোর্স, গবেষণা এবং নীতিনির্ধারণমূলক শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আপনারা যথাযথভাবে সেই দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলেন কিনা কিংবা পালন করতে সক্ষম হয়েছিলেন কিনা? এই মুহূর্তে সেই প্রশ্ন না তুলে আমি আপনাদেরকে এই মুহূর্তে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে একটি বার্তা দিতে চাই এবং তা হলো দেশ এবং জনগণের কাছে আমাদের যেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছি। এসব স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং জনগণের সঙ্গে করা আমাদের চুক্তি। জনগণ আমাদের ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনে ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আমি আশা করি, আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে ভূমিকা রাখবেন। জনগণ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছে, সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নৈতিকতার দৃঢ় চর্চা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে অবস্থান করছেন। আপনারা যে দায়িত্ব পালন করেন, তা কেবল নথিপত্র পরিচালনা বা প্রশাসনিক তদারকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় অবশ্যই। বরং আপনার রাষ্ট্রযন্ত্রের কার্যকারিতা, ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার প্রধান ভিত্তি। একটি শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক আইনসম্মত এবং জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনারাই হচ্ছেন সেই মূল চালিকাশক্তি। যাদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা, নৈতিক দৃঢ়তা ও প্রশাসনিক প্রজ্ঞার উপরে একটি জাতির উন্নয়ন বা ভাগ্য নির্ভর করছে। আপনাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রভাব কখনো একটি পরিবারে, কখনো একটি অঞ্চলে কিংবা কখনো পুরা জাতির উপরে পড়ে। সেই কারণে আপনাদের দায়িত্ব স্রেফ প্রশাসক নয়, বরং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার মেরিটোক্রেসি বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা এগুলোকেই আমরা প্রধান বিবেচ্য হিসেবে গ্রহণ করতে চাই। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে শূন্যপদে সরকারি কর্মচারী নিয়োগ, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন এবং বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়ন সহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার ও বিয়ামের মহাপরিচালক আব্দুল মালেক।

উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ

ওদিকে রাজধানী ঢাকার সড়ক থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ডিএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে দ্রুত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করতে বলেছেন। তিনি বলেন, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের এমন জায়গায় পুনর্বাসন করতে হবে, যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্য ও উৎসাহের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের বিকল্প জায়গা ব্যবস্থা করে দেবে সরকার। পাশাপাশি নিবন্ধনের মাধ্যমে হকারদের পরিচয়পত্র দেয়া হবে- যাতে তাদের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়।

সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুর-১ এলাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, পল্টন ও গুলিস্তানসহ কয়েকটি এলাকার সড়ক থেকে কয়েক শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়।

এ ছাড়া স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু ও শেষের সময় সড়কে যানজট কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যানজট তৈরি হয়। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব মাঠের একটি অংশ গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার ও ডিআইজি (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

কলেজ শিক্ষার্থীর নির্মিত গো-কার্ট চালালেন প্রধানমন্ত্রী

কলেজ শিক্ষার্থী রিজওয়ান রশিদের নির্মিত গো-কার্ট (রেসিং কার) চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রাঙ্গণে গো-কার্টটি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে যান রিজওয়ান রশিদ। সেখানে নিজের তৈরি গো-কার্টটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন তিনি। আগ্রহভরে নতুন এই যানটি পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী রিজওয়ান রশিদের তৈরি করা গো-কার্ট পরিদর্শন করেন। একপর্যায়ে তিনি রিজওয়ান রশিদকে এ রকম উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহ দিতে নিজেই কারটি চালিয়ে দেখেন। প্রধানমন্ত্রী দেশীয় প্রযুক্তিতে গো-কার্ট (রেসিং কার) তৈরি করা তরুণকে উৎসাহ দিয়েছেন এবং তার প্রশংসা করে ভবিষ্যতে আরও আধুনিক সংস্করণ তৈরিতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী গো-কার্ট চালানোর অভিজ্ঞতা শেষে নির্মাতা তরুণের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণদের এমন সৃজনশীল কাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়া উচিত।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীকে গো-কার্ট তৈরির গল্প শোনান রিজওয়ান রশিদ। তিনি জানান, তার বাবা একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যান্ত্রিক বিভাগে কর্মরত, বাবার অনুপ্রেরণাতেই এই কাজ শুরু করেন তিনি। ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষার পর অবসর সময়কে কাজে লাগাতে কিছু করার পরিকল্পনা করেন রিজওয়ান রশিদ। পরিবারের পক্ষ থেকে মোটরসাইকেল কিনে দিলেও তার আগ্রহ ছিল গাড়িতে। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকায় তিনি নিজেই গো-কার্ট তৈরি করেন।

প্রধানমন্ত্রী গো-কার্টটি চালানোয় অভিভূত হয়েছেন তরুণ রিজওয়ান রশিদ। তিনি বলেন, তার বানানো গাড়ি প্রধানমন্ত্রী চালাবেন তা তিনি ভাবতেই পারেননি, এটি তাকে অনুপ্রাণিত করেছে।
রিজওয়ান রশিদ জানান, গো-কার্টটি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসেছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গো-কার্ট তৈরির বিষয়টি ভাইরাল হলে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

সূত্র: মানবজমিন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়