একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাইস চ্যান্সেলরের হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাক এবং তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছে সংঘবদ্ধ এক চক্র। এ ঘটনায় চক্রের ১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)’র সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম রিহাদ হাসান (২৩)। গ্রেপ্তারের সময় তার মোবাইল ঘেঁটে অবৈধ অনলাইন জুয়ার অনেকগুলো অ্যাপসের সক্রিয় উপস্থিতি পাওয়া যায়। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ আইডি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়। এ ঘটনায় ডিএমপি’র তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা তার কর্মস্থলে অবস্থানের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের পরিচয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পান। বার্তায় জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত দু’টি বিকাশ নম্বরে অর্থ পাঠানোর জন্য অনুরোধ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রতারক চক্র ফোন রিসিভ না করে বার্তার মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে। একপর্যায়ে মামলার বাদী সরল বিশ্বাসে তার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতারকদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ৫৫ হাজার টাকা পাঠান। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলে ভাইস চ্যান্সেলর জানান- তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি হ্যাক্ড হয়েছে এবং তিনি এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেননি। তখন বাদী নিশ্চিত হন যে, তিনি একটি পরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, মামলার তদন্তে সিআইডি’র একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের অবস্থান শনাক্ত করে।
ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের সক্রিয় সদস্য রিহাদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং মোবাইল ফোনটি পর্যালোচনার সময় অবৈধ অনলাইন জুয়ার প্রায় ৪০টির মতো অ্যাপস পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করে, সে প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত। সে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়মিত জুয়া খেলতো এবং প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ জুয়ায় ব্যয় করতো।