শিরোনাম
◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী ◈ দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২১; আহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশি ◈ ‘আসল’ তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রতের হাতে, মমতাকে উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের ওয়ান‌ডে দল ঘোষণা, মিরাজ অ‌ধিনায়ক ◈ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ তুলে নিল সরকার ◈ হাজিদের লাগেজ চুরি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ধর্মমন্ত্রীর ◈ ৩০০ দিনে ১৭ দেশ পেরিয়ে আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে ৩ ভক্ত সাইক্লিস্ট  ◈ হাদি ইস্যুতে মমতার মন্তব্য; যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৬:৪৬ বিকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

চীন, ভারত ও মার্কিন প্রিজমে বাংলাদেশ

ডেস্ক রি‌পোর্ট: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন সফরকে অতিরঞ্জিত ভূরাজনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা শুরু করেছে ভারত। দেশটির গণমাধ্যম একে বড় দাগের ঘটনা বলছে। তাদের মধ্যে এটিকে বৃহৎ শক্তির প্রতিযোগিতার প্রিজমে দেখার প্রবণতাও রয়েছে। তার সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল কিন্তু প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর হিসেবে ভারত সফর করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর অবশ্যই ভিন্ন মাত্রার। যদিও কোনো দেশের সরকারপ্রধানের বিদেশ সফরের গন্তব্য নির্বাচন সেই দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। এটি অন্য কোনো দেশের প্রতি সমর্থন, বিরোধিতা বা কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের নির্দেশক নয়। 

বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর নেতারাও নিয়মিত চীন সফর করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট, ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং যুক্তরাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থে বেইজিংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বজায় রাখেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য।

ভারতের আমন্ত্রণ এবং ভুটান সফরের সম্ভাবনার মাঝে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে চীন। যদিও সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি বিদেশ সফর শুরু হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া দিয়ে। আগামী ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরে যেতে পারেন তিনি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার কৌশল হিসেবে ভারত অথবা চীন সফরের আগে মালয়েশিয়া সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। ----- ঠিকানা/নিউইয়র্ক

মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ভারত অথবা চীন সফরে যেতে পারেন। তবে তিনি আগে কোন দেশ সফর করবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এদিকে চীনকে দ্বিপক্ষীয় সফরের গন্তব্য হিসেবে বিবেচনার পূর্বাপরে লুকিয়ে আছে সুপার ডিপ্লোমেসি। এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনা অর্থায়ন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ, বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা এবং আন্তঃসীমান্ত পানিবণ্টন ইস্যুকে। তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী ও কৌশলগত বার্তাও। বিশেষ করে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট, তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা এবং চীনের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাব ভারতের জন্য নিবিড় পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের পর্যবেক্ষণ বাড়বে। তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং আন্তঃসীমান্ত পানিবণ্টন ইস্যুতে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণও তৈরি হতে পারে। তা চীনের বিনিয়োগ, ঋণ, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়াবে। 

স্বাভাবিকভাবেই ভারতের নীতিনির্ধারণী মহলে বাংলাদেশের নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কৌশলগত মূল্যায়ন ও পুনর্বিবেচনা জোরদার হতে পারে। সেই সঙ্গে বঙ্গোপসাগর, আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য করিডোর ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে নতুন ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়ন, নদী ব্যবস্থাপনা ও জলসম্পদ পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি জাতীয় অগ্রাধিকার। যদি কোনো আন্তর্জাতিক অংশীদার অর্থায়ন, প্রযুক্তি বা প্রকৌশল সহযোগিতা দিতে আগ্রহী হয়, তাহলে বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থের আলোকে সেই প্রস্তাব মূল্যায়ন করবে। এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং বাংলাদেশের উন্নয়নের পক্ষে প্রয়োজন। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়ন যেমন স্বাভাবিক, তেমনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও নিরাপত্তাগত বাস্তবতায় ভারত বাংলাদেশের একটি অপরিহার্য অংশীদারও। একই সঙ্গে চীন বাংলাদেশের বৃহৎ বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন সহযোগী। ফলে উভয় সম্পর্ক পরস্পরবিরোধী নয়; বরং পরিপূরক হতে পারে। ভারত বরাবরই বাংলাদেশ প্রশ্নে বেশি প্রাসঙ্গিক। সময়ে সময়ে চীন আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। কখনো কখনো যুক্তরাষ্ট্র সবাইকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। গেল অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নোবেল লরিয়েট ড. ইউনূস সেখানে যোগ করেছেন আরও বহুমাত্রিকতা। সেই সূচনা তার ক্ষমতার দেড় বছরের আগে থেকেই। 

এমনকি ক্ষমতা থেকে বিদায়ের পরও চলমান। ঈদের দুয়েক দিন আগে হঠাৎ ফ্রান্স সফরের মাঝেও এর সংযোগ বিদ্যমান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বিশেষ ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়। এ সফরের উদ্দেশ্য বা কারণ নিয়ে কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এ সুযোগে যে যা পেরেছেন বলেছেন, রটিয়েছেন। বিচারের ভয়ে বা শেখ হাসিনা ফিরছেন বলে তিনি পালিয়ে গেছেন এমন রটনাও বাদ যায়নি। বাস্তবে প্যারিসে তিনি চুটিয়ে ব্যক্তিগত এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন।

প্যারিস ড. ইউনূসের সামাজিক ব্যবসাকে আত্মস্থ করতে চায়। তার ‘থ্রি জিরো’ (শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ, শূন্য সম্পদ কুক্ষিগতকরণ ও শূন্য বেকারত্ব) লক্ষ্য অর্জনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা এবং বিশ্বব্যাপী চলমান ৭ হাজার ‘থ্রি জিরো ক্লাব’-এর কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে সেখানে। অধ্যাপক ইউনূস ধনকুবেরদের দাতব্য তহবিলের পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘সোশ্যাল বিজনেস ফান্ড’-এ সম্পদ বিনিয়োগের একটি নতুন ও কার্যকর মডেল প্রস্তাব করেন, যা সম্পদ কুক্ষিগতকরণের প্রবণতা রোধে সহায়ক হবে। প্যারিসের বিলাসী হোটেল ল্যা বৃস্টোলে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বৈঠক তুরস্ক, পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পদস্থদের সঙ্গে। 

এ ছাড়া হোটেল ডি নেল এবং মাইসন ডেলানো প্যারিস হোটেলেও একাধিক বৈঠক হয়েছে। কারও কারও কাছে তথ্য আছে, শেখ হাসিনার পতনের দুই মাস আগে থেকেও ইউনূসের এ ধরনের রহস্যজনক ব্যস্ততা ছিল। তারা প্রশ্নবিদ্ধ, এবার কী নিয়ে ব্যস্ততা? ক্ষুদ্রঋণ, সামাজিক ব্যবসা না অন্য কিছু? এমন প্রশ্নে ঘুরপাকের মধ্যেই শেখ হাসিনার ‘খুব দ্রুত দেশে ফিরব, ফাঁসি দিলে দড়ি রেডি করেন’ মর্মে বার্তা। চব্বিশের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার পর এটিই তার সবচেয়ে দীর্ঘ ও ঝাঁজালো বক্তব্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বার্তাটি কবেকার বা এটি আদৌ তার বক্তব্য কি না, পরিষ্কার নয়। 

বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেয়ে গেছে, তিনি পদত্যাগ করে যাননি, তিন পৃষ্ঠার পদত্যাগপত্র ভ্যানিটি ব্যাগে করে নিয়ে গেছেন মর্মে নতুন করে পুরোনো তথ্য বাজারে আসায়। তার ওপর জাতিসংঘকে শেখ হাসিনার আইনজীবীর চিঠি নিয়ে হইচই বাধানোর চেষ্টাও হচ্ছে। যদিও এটিও পুরোনো বিষয়। গত বছরের ২৪ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্রিটিশ আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ডাউটি স্ট্রিটের পক্ষে ব্যারিস্টার স্টিভেন পাউলেস কেসি নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট’-এ একটা চিঠি পাঠিয়ে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর নিবর্তন-নির্যাতনের বিষয়গুলো তুলে ধরে এ বিষয়ে তদন্তের আবেদন করেন। 

ওই চিঠির বিস্তারিত ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের কিছু গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে এ সময়ে এসে। গত ২৮ মে একই আইনজীবী জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তা ভলকার টার্ককে একটা চিঠি পাঠিয়ে ২০২৪ সালের হাসিনাবিরোধী অভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন। এবার এই চিঠির বিষয় ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি। ভারতীয় গণমাধ্যমের একাংশ এটা নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করলেও ব্রিটেন, আমেরিকাসহ পশ্চিমা কোনো গণমাধ্যমে এ বিষয়ে কোনো রিপোর্ট নেই। কারণ এটার কোনো গুরুত্ব নেই। পুরোটাই ভাঁওতাবাজির মতো। জাতিসংঘ এ ধরনের বিষয়কে কখনো গুরুত্ব দেয় না। পশ্চিমা কিছু গণমাধ্যমে এর কভারেজ পাওয়ার চেষ্টা করেও পারা যায়নি। 

ব্যারিস্টার স্টিভেন পাউলেস কেসিকে দিয়ে লন্ডন কিংবা নিউইয়র্ক শহরে সংবাদ সম্মেলন করিয়ে একটা সাবজেক্ট বানানোর চেষ্টাও কুলায়নি। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু গুজব এবং শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরা সম্পর্কে অনুমাননির্ভর স্ট্যাটাসের তোড় দাগানো ছাড়া আপাতত ভিন্ন কোনো পথ নেই আওয়ামী লীগের।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়