আইনগতভাবে বিচ্ছেদ সম্পন্ন না করে বিয়ে ও ব্যভিচারের অভিযোগে দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন এবং তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি। বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা পরকীয়া, প্রতারণা ও ব্যভিচারের অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
এদিকে আদালতের এই রায়ের পর তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী এবং তামিমার সাবেক স্বামী ব্যবসায়ী রাকিব হাসান। আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মন্তব্য করেন, "টাকা যার আছে, তারই বিচার আছে।" তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি এই রায়ে ন্যায়বিচার পাননি এবং এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
আদালতে উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক
শুনানি চলাকালীন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, নাসিরের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু দাবি করেন যে, তামিমা নিয়ম মেনেই পূর্বের স্বামীকে তালাক দিয়েছেন এবং আইনি জটিলতা তৈরি করে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের আইনি লড়াই শেষে আজ আদালত নাসির ও তামিমাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
রায়ের সময় নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা দুজনেই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা থেকে সাময়িক স্বস্তি পেলেন এই তারকা দম্পতি। তবে বাদীপক্ষের উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণায় মামলাটির আইনি অধ্যায় এখনই শেষ হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান দণ্ডবিধির ৪৯৭ ও ৫০০ ধারায় এই মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ ছিল প্রথম স্বামীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থাতেই তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন। এ বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (PBI) তাদের তদন্ত প্রতিবেদনেও নাসির ও তামিমার বিয়েকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছিল।