শিরোনাম
◈ মরুভূমির দেশ হয়েও কেন বালু আমদানি করে সৌদি আরব? ◈ মাত্র ১৭০ টাকায় অনলাইনে এনআইডি বিক্রি! ◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী ◈ দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২১; আহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশি ◈ ‘আসল’ তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রতের হাতে, মমতাকে উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের ওয়ান‌ডে দল ঘোষণা, মিরাজ অ‌ধিনায়ক ◈ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ তুলে নিল সরকার ◈ হাজিদের লাগেজ চুরি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ধর্মমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:০৩ বিকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তারেক রহমানের বক্তব্য : বিশ্ব নেতৃত্ব দেওয়ার মতো রাজনৈতিক যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও পরিপক্বতার ইঙ্গিত বহন করে

শাহাজাদা এমরান : বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের কথা বহুবার শোনা গেছে, কিন্তু পরিবর্তনের দৃশ্যমান চিহ্ন খুব কমই দেখা গেছে। সেই বাস্তবতায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি সভায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমানের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া এবং পরবর্তী কয়েকটি ঘটনা দেশের রাজনীতিতে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।

চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তারেক রহমান দেশের খ্যাতিমান সিনিয়র সম্পাদক ও
সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং রাজনৈতিক
সংস্কৃতিতে একটি বার্তা—ক্ষমতার দাবির আগে জবাবদিহি, শাসনের আগে সংলাপ। বাংলাদেশের
রাজনীতিতে এমন দৃশ্য বিরল।

আজকের আলোচনায় দুটি বিষয় আলাদা করে গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

প্রথমত, তারেক রহমানের আচরণগত পরিবর্তন। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি উন্নত রাষ্ট্রব্যবস্থায় অবস্থান করেছেন। এই সময় তিনি কেবল নির্বাসিত কোনো রাজনীতিক ছিলেন না; বরং গণতন্ত্র, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও নাগরিক আচরণ ঘনিষ্ঠভাবে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

দেশে ফেরার পর তাঁর চলাফেরা, বক্তব্য ও আচরণে সেই অভিজ্ঞতার প্রতিফলন স্পষ্ট। গুলশানের বাসা থেকে পায়ে হেঁটে গুলশান কার্যালয়ে যাওয়া কোনো হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। এটি একটি প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতা মানেই নিরাপত্তা বহর, গাড়ির সারি ও জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা—এই সংস্কৃতির বাইরে এসে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, সাধারণ
মানুষের জীবনযাত্রা থেকে বিচ্ছিন্ন রাজনীতি আর গ্রহণযোগ্য নয়। পায়ে হাঁটা এখানে নীরব কিন্তু
শক্ত রাজনৈতিক ভাষা।

দ্বিতীয়ত, তাঁর বক্তব্যের রূপান্তর। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে ৩০০ ফিট এলাকায়
দেওয়া ভাষণে তিনি কাউকে আক্রমণ করেননি, কোনো প্রতিপক্ষের নাম উচ্চারণ করেননি। শেখ
হাসিনা বা আওয়ামী লীগ—কারও বিরুদ্ধে গর্জন ছিল না। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর
তারেক রহমানের বক্তব্যে যে সংযম ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ ভারসাম্য দেখা যাচ্ছে, তা বাংলাদেশের
রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন—সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে, মতপার্থক্য
থাকবে, কিন্তু তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে। যে কোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া
সচল রাখতে হবে। বড় রাজনৈতিক নেতারা সাধারণত এমন স্বীকারোক্তিমূলক ও সংলাপমুখী অবস্থান
নেন না। এই জায়গায় তারেক রহমান ব্যতিক্রমী।

তিনি আবেগ নয়, ইতিহাস দিয়ে কথা বলেছেন। এক পাশে ১৯৮১ সালের সেই দিন—যেদিন তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নিয়েছিল। অন্য পাশে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর—মায়ের জানাজা। মাঝখানে রয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—একটি দিন, যা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে নয়, গোটা জাতির রাজনৈতিক স্মৃতিতে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। এই দিনগুলো তাঁকে শিখিয়েছে, প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়—ভবিষ্যতের রাজনীতিই টিকে থাকে।

তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন, ৫ আগস্টের আগের বাংলাদেশ তিনি আর দেখতে চান না। অর্থাৎ
পুরোনো দমন-পীড়ন, প্রতিহিংসা ও একচেটিয়া ক্ষমতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিতই
এখানে মুখ্য।

এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে এবং সেই
নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। ৫ আগস্টের পর তাঁর প্রতিটি বক্তব্যে যে সংযম,
দূরদর্শিতা ও দায়িত্ববোধ ফুটে উঠেছে, তা একজন রাষ্ট্রনায়কের বৈশিষ্ট্য বহন করে।

বাংলাদেশ আজ এমন নেতৃত্বই চায়—যে নেতৃত্ব অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়, ক্ষমতার ভাষা নয়,
রাষ্ট্রের ভাষায় কথা বলে। ভবিষ্যতে যদি বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তাহলে তারেক রহমানের এই
বদলে যাওয়া রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তব নীতিতে রূপ নেয় কি না, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
তবে এটুকু বলা যায়—বিশ্ব নেতৃত্ব দেওয়ার মতো রাজনৈতিক যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও পরিপক্বতা
তারেক রহমানের আছে। তিনি চাইলে বাংলাদেশকে বদলে দিতে পারেন। এখন প্রশ্ন একটাই—এই
পরিবর্তন কি কেবল বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আগামী বাংলাদেশের বাস্তব রাজনীতিতে তার
প্রতিফলন ঘটবে?

লেখক : সম্পাদক, দৈনিক কুমিল্লার জমিন ও সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কুমিল্লা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়