বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার এক বেআইনি প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) যেন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়, তা নিশ্চিত করতে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন দেশের একজন স্বনামধন্য ক্রিকেটার। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি তিনি লন্ডনে সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে এক গোপন বৈঠক করেছেন।
সেখানে তিনি আইসিসি সভাপতি অমিত শাহর পুত্র জয় শাহর সঙ্গে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য পাপনকে বিশেষ অনুরোধ জানান। চাঞ্চল্যকর এই দাবি তুলেছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বর্তমানে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্রের দায়িত্বে আছেন।
ঘটনাটিকে দেশের ক্রিকেটে মারাত্মক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক দীর্ঘ বার্তায় এই রাজনীতিক পুরো বিষয়টি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। এখানে একটি বড় ধরনের লবিং কাজ করছে বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি, ওই ক্রিকেটার এই লবিংয়ের কাজে অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছেন।
আসিফ লিখেছেন, ‘অবৈধভাবে বোর্ড ভাঙার প্রক্রিয়ায় আইসিসি যেন কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একজন স্বনামধন্য ক্রিকেটার লবিংয়ে ব্যস্ত। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি তিনি সাবেক বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের সাথে লন্ডনে সাক্ষাৎ করেন।’ তবে কে সেই ক্রিকেটার তিনি তার নাম প্রকাশ করেননি। অন্যদিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) তদন্ত কমিটির ডাকেও সারা দেননি সাবেক এই উপদেষ্টা।
সাবেক এই ক্রীড়া উপদেষ্টার দাবি লবিংয়ের এই অপচেষ্টা একেবারেই নতুন নয়। ওই ক্রিকেটার আগেও এমন ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। ভারতীয় দলের তারকা বিরাট কোহলির সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে। সেই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি জয় শাহর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। বোর্ড ভেঙে দিলে আইসিসি থেকে যেন আর্থিক নিষেধাজ্ঞা না আসে, লক্ষ্য ছিল একটাই। অতীতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে শ্রীলঙ্কা বোর্ডের বিরুদ্ধে আইসিসি কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছিল।
দৃষ্টান্ত সামনে রেখেই এই অপচেষ্টা চলছে। সাবেক এই উপদেষ্টা এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। আসিফ বলেন, ‘এর আগেও বিসিবি নির্বাচনের সময় তার বিরাট কোহলির মাধ্যমে জয় শাহকে রিচ করার চেষ্টার বিষয়ে বলেছিলাম। অবৈধভাবে বোর্ড ভেঙে দেয়ার ক্ষেত্রে আইসিসি থেকে সম্ভাব্য ফাইনান্সিয়াল ব্যান কিংবা অন্য কোনো ধরনের ব্যবস্থা যেন গ্রহণ না করা হয় সেটা নিশ্চিত করতে জয় শাহকে অনুরোধ জানাতেই এসব লবিং।’
দেশের অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রশাসনে এমন নগ্ন বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নিতে পারছেন না তিনি। ফ্যাসিবাদের দোসরদের অতি তৎপরতায় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্বাধীন রাষ্ট্রে এমন লবিং কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বর্তমান সরকারের শীর্ষ মহলের দিকেও সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। তারেক রহমানের সরকার ষড়যন্ত্রের কথা জানে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। দেশবাসীকে এই চক্রান্তের কথা জানানো নিজের পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করেন।
বিষয়টি আরও পরিষ্কার করে আসিফ বলেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আবারো পার্শ্ববর্তী দেশ এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের অন্তর্ভুক্তির পায়তারার খবর শুনে মনে হলো দেশবাসীর এসব জানা থাকা উচিৎ। প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সরকার কি এসব বিষয়ে অবগত? নাকি সবাই মিলেই হচ্ছে সবকিছু।’ এদিকে বোর্ডে অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রণালয়।
কিন্তু সেই কমিটির সাক্ষাৎকারে যোগ দেননি তিনি। এর কারণ হিসেবে তিনি পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে দাবি করেছেন। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের এমন তদন্তকে সরাসরি আদালত অবমাননা মনে করেন তিনি। তার আরও বড় অভিযোগ হলো, বোর্ডের পরিচালকদের জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করানো হচ্ছে। এই গোটা ব্যাপারটিকে চরম নিয়মবহির্ভূত আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
অন্যায়ের প্রতিবাদ হিসেবে তিনি আর কমিটির সামনে উপস্থিত হবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। আসিফ বলেন, ‘আমি কেন বিসিবি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারে সাড়া দেইনি: প্রথমত, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিসিবির ওপর এখতিয়ার বহির্ভূত ভাবে তদন্ত করছে মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয়ত, তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয়ে তদন্ত করে তদন্ত কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সকলে আদালত অবমাননা করছেন। চতুর্থত, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড ডিরেক্টরদের পরের বোর্ডে ডিরেক্টর পদের লোভ, লোভে রাজি না হলে ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করাচ্ছেন।’