দীপক চৌধুরী:
চিরসুখী জন ভ্রমে কী কখন
ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে।
কী যাতনা বিষে , বুঝিবে সে কীসে
কভু আশীবিষে দংশেনি যারে।
কৃষ্ণ চন্দ্র মজুমদারের সেই বিখ্যাত কবিতাটি দিয়েই শুরু করলাম।
প্রায় দেড় দশক আগে রেল কেলেঙ্কারীর ঘটনায় মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এ কবিতাটি আবৃত্তি করেছিলেন। নিজের পক্ষে সততার সাফাই গেয়েছিলেন। সেদিন রাজধানীর ঝিগাতলার বাসায় ভরা মজলিসে আমিও সাংবাদিক এবং এলাকার মানুষ হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত রাজনীতির সিংহভাগ সময় ন্যাপ, জাতীয় একতা পার্টি ও গণতন্ত্রী পার্টি এসব ছোট ছোট দলের বড় নেতা ছিলেন। ৯০-এর দশকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক ট্র্যাডিশন এতে বলা যায়Ñ আওয়ামী লীগ সরকার সেসময় ক্ষমতায় ছিল বলে হয়তো তাকে জেল-জুলমে পড়তে হয় নাই। নতুবা দশম সংসদে সরকার পাল্টালে এরমধ্যে তাকে নিয়ে নানা কিচ্ছা-কাহিনি সৃজন হতো। কথাগুলো এ জন্য বলা যেÑ এদেশের রাজনীতিতে, নীতি, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, মেধা, অভিজ্ঞতাকে কখনো মূল্যায়ন করা হয় না। তথ্য সত্য হলেও স্রোতের বিপরীতে কেউ যেতে চান না। শুধু যে প্রশাসনে এ অবস্থা তা নয়। রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতিসহ সকল বিষয়েই ‘বেড প্র্যাকটিস’ অব্যাহত রয়েছে। এটা ভাঙার প্রয়োজনীয়তা কেউ করতে চান না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের কাছে এই ‘বেড প্র্যাকটিস’গুলো ভাঙতে অনুরোধ করব। সবাই জানি, তাঁর সরকারের সামনে এখন পাহাড়সম কাজ। তাঁর প্রশাসনের সামনে এখন বহু কাজ। জনগণের স্বপ্ন অনেক। এসব স্বপ্ন এদেশে এখন তাঁকে নিয়েই। ‘দুর্নীতি’ শব্দটি সবচেয়ে বেশিবার উচ্চারিত হয় আমাদের মুখে। এর বিরুদ্ধে একটা ‘স্পীড’ থাকে আমাদের মধ্যে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার আগে। অথচ ক্ষমতায় গিয়ে এটি আমাদের অনেকেরই তাড়ানোর চেষ্টা থাকে না। তারেক রহমান এ ব্যাপারে দারুণ মনোবলের সঙ্গে বলেছেন, ‘বিএনপি দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে।’ এখন দেশে উত্তপ্ত ক্রাইসিস্ কৃষিতে ডিজেল সরবরাহ। এটা নিশ্চিত করা জরুরি। এটুকু আমরা বুঝেছি যে, জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন তিনি। দ্রুত সংস্কার ও নতুন নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে তাঁর সরকার। কর্মসংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনাও তো খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, তাতে আমদানিনিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশকেও ভুগতে হচ্ছে। সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে আমাদের কৃষক। তারা বিক্ষোভ করতে পারেন না। কৃষিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করার কথা চিন্তাও করতে পারেন না। মানে তারা নিরীহ। কিন্তু আমরা বড়বড় চেয়ার-টেবিলে বসে কী আমাদের দায়িত্ব পালন করছি? বোরো ধান উৎপাদনে সেচসহ কৃষিযন্ত্র সচল রাখতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ার সংবাদ উদ্বেগজনক। কেননা, বোরো উৎপাদন ও ধান ঠিকমতো কৃষকের গোলায় ওঠার সঙ্গে ১৮ কোটি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্নটি সরাসরি যুক্ত। জানা গেছে, কৃষকেরা সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছেন না, আর পেলেও তিনগুণ দামে কিনতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম, জামালপুর, লালমনিরহাট, সিলেট, নীলফামারীসহ দেশের ২০টি জেলায় প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ার কথা বলেছেন। সকল ক্ষেত্রেই অনিয়ম চলমান। রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ ঘটছে একের পর এক। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আইন থাকা সত্ত্বেও সেই দায়বদ্ধতা পূরণে বড় ধরনের ব্যর্থতা রয়ে গেছে। কেউ কঠোর হচ্ছে না। বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শস্য বোরো। দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে বোরো থেকে। কিন্তু কে খবর রাখছে? একের পর এক বিস্ময়ের খবর আমাদের চারদিকে। কৃষি ধ্বংসের পথে। কৃষকরা অসহায়। শিলাবৃষ্টি ও ঝর-তুফান কৃষকদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে আমাদের খাদ্যে।
যেকোনো ক্ষেত্রেই আমাদের ব্যর্থতার পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত সমস্যা স্পষ্ট। প্রথমত, প্রশাসনিক জটিলতা।
তৃণমূলে জেলা প্রশাসন, ইউএনও ও সমন্বয় দুর্বলতা। কৃষিকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিতে হবে তৃণমূলের প্রশাসনের। বিভিন্ন সেক্টরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছেই। এ অবস্থায় প্রশ্ন জাগে, রাষ্ট্র কি কেবল আইন প্রণয়ন করেই দায় শেষ করেছে? নাকি বাস্তবায়নের দায়ও তার উপর? একটি মানবিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো মানুষকে মানবিক সহায়তা। একটি উদাহরণও কী দেওয়া যাবে!
সীমাহীন অযোগ্যতা থাকার পরও সচিবালয়ে এক ধরনের নেতা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। বিএনপির মন্ত্রী-মিনিস্টার এমপির কাছে এখন চিহ্নিত ও অসৎপ্রকৃতির লোককে বেশি দেখা যাচ্ছে। গৎবাঁধা কাজ করার সময় এটা নয়! সময়ক্ষেপন করার সময় এখন নয়।
ইদানিং সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় ‘হাম’। এই হামে যেসব মায়ের কোল খালি হয়েছে তাদের কাছে কী জবাব দেবেন নেতা-এমপিরা? যেসব মায়েরা তরতাজা শিশুকে হারিয়ে পাগল প্রায় তারা কীভাবে এই ক্ষত ভুলবেন? স্বাস্থ্যমন্ত্রী সস্তা কথা বলে সাময়িক স্বস্তি পেতে পারেন! কিন্তু এটা অনেক বড় ঘটনা! চলতি বছরে হামে যত মৃত্যু হয়েছে, তা গত দুই দশকে সর্বোচ্চ। এই সময়ে পাঁচবার হামে মৃত্যুর ঘটনা জানা যায়। ২০১৭ সালে মারা যায় ১০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২০ দিনে (১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল) ৯৮ শিশু সন্দেহেজনক হাম রোগে মারা গেছে। আর হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ১৬। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে চারজন এবং নিশ্চিত হামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে গত দুই সপ্তাহে একটি জাতীয় দৈনিক দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৬১ বলে জেনেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে হামে প্রতিবছর কতজন আক্রান্ত হয়, তার হিসাব নিয়মিত করা হলেও মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় না। দেশে হামে মৃত্যুর হার ছিল ১০ লাখে ১ শতাংশ। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। কী ভয়ঙ্কর তথ্য। ভাবা যায়? এক্ষেত্রে দায়ী কারা, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশন কবে নেওয়া হবে? স্বাস্থ্যে নেতাগিরি আর বক্তৃতার চমক দেখাতে মুখ নয় মেধা ব্যবহার করুণ! মন্ত্রী বাহাদুর বাহ্বা পাওয়ার জন্য অপরের ঘাড়ে এখন দোষ চাপাতে পারেন! শেষ বিচার কিন্তু রয়ে গেছে!
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ হিসেবে একটি শাখা আছে। সেই শাখা কী করছে এখন? তাদের কাজ কী? স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২০ দিনে ৮২৬ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। আর সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৬২৮। যদি ৮২৬ জনের হিসাব ধরে নেওয়া হয়, তবে সেই সংখ্যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ জন্য কারা কারা দায়ী খুঁজে কঠিন শাস্তি দিতেই হবে।
আমরা বড় কাঙাল গণতন্ত্রের। অথচ ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ বা ‘জনস্বার্থে’ স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্তের সুযোগ রেখে দিচ্ছে বিএনপি সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটার অপব্যবহারের আশঙ্কা আছে এবং তা স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের ‘ইচ্ছেমতো বরখাস্তর’ সুযোগ তৈরি করবে। এটা নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া বিএনপির প্রতিশ্রুতির বিপরীত। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গঠিত অধ্যাপক ইউনূসের সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে চারটি অধ্যাদেশ জারি করে এই সুযোগ তৈরি করেছিল। কারণ, তখন স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের বড় অংশই আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল। এতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নিয়মিত কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। এ ছাড়া তৎকালীন সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্থানীয় সরকার থেকে বিদায় করা হয়। এখন ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ বা ‘জনস্বার্থে’ স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করবেন কেন ? এই বিধান রাখা তো গণতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। সুযোগ রেখে দিচ্ছেন কার জন্য, কেন? বিএনপি সরকারকে কিন্তু জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এটা মনে রেখে কাজ না করলে পরিণতি সুন্দর হবে কীভাবে?
খবরে দেখলাম আরেকটি দুঃসংবাদ। সুন্দরবনের মধুসংগ্রকারী মৌয়ালরা জীবিকা ছেড়ে দিচ্ছে। আমাদের দেশের পুরনো পেশা যা ঐতিজ্যবাহী হিসেবে পরিচিত সেগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। মৃৎশিল্পীরা তাদের পেশা ছেড়ে দিচ্ছে যারা বিভিন্ন দেবদেবীর মূতি১ গড়তো তারাও এখন সবকিছু ছেড়ে দিচ্ছে। এগুলো ভালো লক্ষণ নয়। সুন্দরবনের মধু কেবল মৌয়ালদের জীবিকা নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এবং সরকারের রাজস্বের বড় উৎস। গত বছর মধু আহরণ ৩৫ শতাংশ কমে যাওয়া এবং মৌয়ালের সংখ্যা ৮ হাজার থেকে ৫ হাজারে নেমে আসা স্পষ্ট নির্দেশ করে তারা সরে যাচ্ছে পেশা থেকে।
জানা গেছে, সুন্দরবনের বনজীবীরা ধীরে ধীরে তাদের পৈতৃক পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এবারের মৌসুমের শুরুতেই যে নীরবতা কয়রা বা শাকবাড়িয়া নদীর তীরে দেখা যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন তো দূরের কথা, বাজারে মধুর তীব্রসংকট ও অস্বাভাবিক মূল্য বাড়বে।
জলবায়ু এখন আমাদের গলার কাঁটা। সরকার বৃক্ষরোপণের দিকে জোড় দিয়েছে। ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে কিন্তু যারা বনবাসী তারা বাদ পড়বেন। কেন বাদ পড়বেন! তাদের বাদ দিয়ে এত বড় ভালো উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব কি না জানি না। এভাবে বনায়ন সম্ভব? উদ্দেশ্য কী? কার লাভ এতে? সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। সন্দেহ নেই, এটি একটি মহৎ উদ্যোগ।
ভাব দেখে মনে হচ্ছে, নতুন সরকারের কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে সুকৌশলে । কীসের উদ্দেশে এটা বোঝা আর কঠিন নয়। এমন পরিসংখ্যান থাকলে জানা যেত, এ পর্যন্ত কত সংখ্যক বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে এদেশে। কোথায় রোপণ করা হয়েছে। এসবের চলমান অবস্থা কী? কোন প্রজাতি, স্থান, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা কী এবং রোপিত বৃক্ষের কত শতাংশ সফলভাবে টিকিয়ে রাখা গেছে। এটা কে বলবে? কার দায়িত্ব? কেন বলা যাবে না? কোনো সমীক্ষা বা পথনির্দেশিকা নেই। কেন নেই?
একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ জন্য দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিতে যাচ্ছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে প্রতিবছর যে বৃক্ষরোপণ অভিযান চলে আসছে, সে বিষয়ে কোনো বছরওয়ারি বা মোট পরিসংখ্যান নেই। যা ছিল তা নাকি সরিয়ে বা সের দরে কাগজের ফেরিওয়ালাদের কাছে বিক্রি করা হয়ে গেছে। অতএব ‘জামাই-শ^শুর’ লড়াই করেও হিসাব বের করা যাবে না। সুতরাং ভাগবাটোয়ারার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করবেন কীভাবে?
পরিসংখ্যান থাকলে জানা যেত, এ পর্যন্ত কত বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। কোন প্রজাতি, স্থান, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা কী এবং রোপিত বৃক্ষের কত শতাংশ সফলভাবে টিকিয়ে রাখা গেছে। এটা কে বলবে? কার দায়িত্ব? কেন বকলা যাবে না? কোনো সমীক্ষা বা পথনির্দেশিকা নেই। বর্তমান বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে এমন পরিসংখ্যান কী আছে, নাকি একদমই নেই কে জানে! স্বস্তির কোনো একটি রাস্তাও নেই। শ্বাস ফেলার কোনো সুযোগ নেই।
সবকিছুই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখতে হবে কেন? তিনি তো ভাগ করে দিয়েছেন দায়িত্ব। সকাল নয়টায় আফিসের চেয়ারে বসতে হয়, জনগণের জন্য কাজ শুরু করতে হয়। ফাইলের স্তূপ টেবিলে রাখতে নেই এসব শিখিয়েছেন আমলাদের। জনগণের সেবক হওয়া, সেবক হিসেবে তৈরি হওয়ার জন্য বিভিন্ন বৈঠকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েও কেউ যদি তার সদ্ব্যবহার না করেন তাদের কী সরকারি চাকরিতে রাখা উচিৎ?
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ফিল্মমেকার