মনিরুল ইসলাম : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দুর্গাপূজায় ড. ইউনূসের মুখাকৃতি দিয়ে ‘অসুর’ বানিয়ে ভারত নিম্নরুচির পরিচয় দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা দেখতে পেলাম যে, ভারতে ড. ইউনূসসহ আরও কয়েকজন বিশ্বনেতার মূর্তি বানানো হয়েছে। এগুলো অত্যন্ত নিম্নরুচির পরিচয়, এটা একেবারেই একটা অপসংস্কৃতির পরিচয়। ভারতে আমরা শুনেছি সঙ্গীত শিল্পকলার এত চর্চা হয়, সেই দেশ এত নিম্নরুচির পরিচয় দেবে এটা আমরা কল্পনা করতে পারি না।
আজ শনিবার সকালে জিয়া উদ্যানে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ-অ্যাব এর নবগঠিত কমিটির নেতাদের পক্ষ থেকে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতিহা পাঠ শেষে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, আজকে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সংঘাত তৈরি করার জন্য নানাবিধ প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু এদেশের জনগণ, এদেশের দেশপ্রেমিক মানুষ, এদেশের হিন্দু মুসলমান জনগোষ্ঠী, সবাই টের পেয়েছে কোথা থেকে কি হচ্ছে। তাই সবাই একত্রিতভাবে এবারের হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের দুর্গাপূজা হয়েছে। অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে তাদের উৎসব পালন করেছে সব ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করে।
রিজভী বলেন, এদেশের মানুষ, হিন্দু-মুসলমান, আলেম-ওলামা, মসজিদের মুয়াজ্জিন, মসজিদের ইমাম, মাদরাসার ছাত্র প্রত্যেকেই পূজামণ্ডপ পাহারা দিয়েছে। এইটা হচ্ছে আমাদের ঐতিহ্য। এটি সম্প্রীতির ঐতিহ্য। আমাদের নেতা সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, আমরা দীর্ঘদিন সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। তাই আমাদের মধ্যে কেউ কোনো বিভাজন তৈরি করতে পারবে না।
ফেব্রুয়ারিতে অবাধ- সুষ্ঠু নির্বাচন জনগণ প্রত্যাশা করছে দাবি করে তিনি বলেন, যে সময় পেয়েছেন এই সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করা মোটেই কঠিন কোনো কাজ নয়। আমি আশা করি, নির্বাচন কমিশন সেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন এবং জনগণ প্রস্তুত। জনগণ ভোট দিতে প্রস্তুত। সুতরাং নতুন কোনো ইস্যু তৈরি করে জনগনকে এবং মানুষের চোখকে বিভ্রান্ত করার যারা চেষ্টা করছেন তারাও জনগণের কাছে আজকে ধরা খেয়ে যাবেন।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরপেক্ষ সরকার। সে কোনো দিকে হেলবে না, কোনো দিকে যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আজকে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় একটি ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলের লোকজনদেরকে খুব কৌশলে নানাভাবে বসানো হচ্ছে, বসানো হয়েছে। এটা দিয়ে কিন্তু অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। জনগণ প্রত্যক্ষ করছে, আমরাও প্রত্যক্ষ করছি। কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে এই সব বিশেষ রাজনৈতিক দলের মনোভাবাপন্ন প্রশাসক এবং আমলাদেরকে বসানো হচ্ছে। তারা কখনোই নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে দেবে না। তাই আমি বলবো, আপনারা এমন ব্যক্তিদের নিয়োজিত করুন যারা নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে। কোনো দলের আজ্ঞাবহ হবে না।