মনিরুল ইসলাম : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ উপলক্ষে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয় উল্লেখ করে বলেন, ‘তাঁর প্রত্যাবর্তনকে আমরা গণতন্ত্র শক্তিশালী করার জন্য কাজে লাগাতে চাই। ব্যক্তিকে শক্তিশালী করার কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নেই।
তিনি প্রথম আলো, ডেইলি স্টারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। বলেন, সরকারের দুর্বলতার কারণেই ‘মবতন্ত্র’ প্রশ্রয় পেয়েছে এবং এটি কঠোর হাতে দমন করা প্রয়োজন।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ উপলক্ষে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথাগুলো বলেন।
এ ঘটনায় সরকারের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি ছিল বলে মন্তব্য করেন এই নেতা। তিনি বলেন, ‘এ রকম একটা প্রেডিকশন ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টে থাকে...আমরাও জেনেছি সে ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট। কিন্তু সেটা আমলে নেওয়া হলো না কেন?’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। বলেন, ‘শুনেছি এক-দুই ঘণ্টা পরে তারা রেসপন্স করেছে। সেটা কেন?’
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘প্রথম আলো, ডেইলি স্টার যেভাবে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে—বার্ন ডাউন টু দ্য গ্রাউন্ড...এ রকম দৃশ্য সারা বিশ্ব দেখেছে। সেটা আমাদের জন্য লজ্জার। জাতি হিসেবে এটা কোনোভাবে আমরা শুধু দুঃখ প্রকাশ করে সমাপ্ত করতে পারব না।’
গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পত্রিকা হচ্ছে সমাজের দর্পণ। এই মুহূর্তে সমাজের সেই দর্পণ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকদের দর্পণ যেন চূর্ণ না হয়।’
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘আমরা তো চেয়েছিলাম ডেমোক্রেসি। কিন্তু কেন হয়ে যাবে মবোক্রেসি? তাকে কেন লালন করতে দেওয়া হবে?’
মতবিনিময় সভায়, সফিক রেহমান, মাহফুজ আনাম, মতিউর রহমান চৌধুরী, মতিউর রহমান, এ কে আজাদ, কামাল আহমেদ, আব্দুল হাই সিকদার, এ কে এম বাহাউদ্দীন আহমেদসহ অন্যান্য সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক, ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার হেড অফ নিউজ বক্তব্য রাখেন।
তারা বলেন, সাংবাদিকদের সাথে বিএনপির এই মতবিনিময় জারি রাখা দরকার। প্রয়োজনে ৬ মাস। ৩ মাস বা প্রতি মাসে একবার বসা দরকার। বিএনপি যদি জনগনের ভোটে ক্ষমতায় যায় তাহলে সাংবাদিকদের সাথে যেনো বিগত ১৬ বছরের মতো আচরণ না করা হয়।