শিরোনাম
◈ দ. এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য বাংলাদেশ ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ: তুরস্ক ◈ ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস, সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ◈ স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে ◈ ডিপফেক-মিথ্যা তথ্য রোধে এআই নীতিমালা আনছে সরকার ◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক ◈ হাদি হত্যা মামলায় জাবেরকে বাদী করার কারণ জানতে চান বোন মাসুমা ◈ বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ◈ এশিয়ান গেমস ক্রিকে‌টে বাংলা‌দেশসহ ১০ দল চূড়ান্ত, অ‌ক্টোব‌রে খেলা হ‌বে জাপা‌নে  ◈ গ‌্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিমের হুম‌কি‌তে আ‌মি প্রস্রাব ক‌রে দেই, আইপিএলের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শোনালেন ললিত মো‌দি ◈ আগস্টে ইউপি নির্বাচনের তফসিল, আচরণবিধিতে আসছে বড় পরিবর্তন

প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:২৭ দুপুর
আপডেট : ২৪ মে, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : মহসিন কবির

জায়ায়াত ও এনসিপি এক হলে ভাঙবে ৮ দল, জোটে গেলে আত্মঘাতী হবে বলছেন এনসিপি নেতারা

মহসিন কবির: নানা জল্পনার পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি জোট করতে যাচ্ছে জুলাইযোদ্ধাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। এরই মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, জামায়াতের আদর্শের সঙ্গে এনসিপির আর্দশের মিল নেই। সমোঝাতা হলেও টিকবে না।  

এর মধ্যেই ‘দল ও বড় অংশের নেতারা ভুল পথে আছে’ উল্লেখ করে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

এর আগে, দলটির আরও তিনজন কেন্দ্রীয় নেতা অনিক রায়, তুহিন খান এবং অলিক মৃ দলটি থেকে পদত্যাগ করেছেন।

জামায়াতের সাথে আলোচনা চূড়ান্ত হয়ে গেলেও এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে আভাস পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপির কাছে নিজেদের ভোটব্যাংক তৈরির সুযোগ ছিল। কিন্তু সে পথে না গিয়ে গতানুগতিক ক্ষমতার রাজনীতির দিকেই ঝুঁকেছে দলটি।

তাদের মতে, বিভিন্ন জরিপে এনসিপির সমর্থকদের যে হার সামনে এসেছে, জামায়াতের সাথে জোটে গেলে সেই সংখ্যা আরও কমে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে দলটি পুরোপুরি জামায়াতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, রাজনীতিতে 'নতুন বন্দোবস্ত' আনার প্রতিশ্রুতি, ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা, নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের মতো আত্মবিশ্বাস দেখানোর পরও শেষ পর্যন্ত কয়েকটি আসনের জন্য পুরোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেই জোট বাঁধার আলোচনা এনসিপিকে একটি প্রশ্নবিদ্ধ জায়গায় ফেলে দিচ্ছে।

এদিকে আগে থেকেইএনসিপি জোটবন্ধভাবেই নির্বাচন করবে-এমনটা প্রায় নিশ্চিত। জোট কার সঙ্গে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নাকি জামায়াতে ইসলামীর সাথে? এনিয়ে অনেকের মধ্যে নানা প্রশ্ন ছিল। তবে এখন জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রায় চূড়ান্ত। জোট হচ্ছে জামায়াত-এনসিপির মধ্যে।

আসন ভাগাভাগি কেমন হবে-তা নিয়ে দড়ি টানাটানি অব্যাহত রয়েছে। তবে এনসিপি নেতারা বলছেন, জোট নিয়ে টানা বৈঠক চলছে। ৫০টির অধিক আসন চাচ্ছে এনসিপি। কিন্তু জামায়াত নেতারা বলছেন, আসন সমঝোতা নিয়ে-জরিপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। মিত্রদের এমন আসন ছাড়া হবে না-যেখানে ওই মিত্রদের পরাজয় নিশ্চিত। মিত্রদের জয় নিশ্চিত, এমন আসন ছাড়া হবে।

এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ। এছাড়া আরো ডজনখানেক দল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এনসিপির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক নাম প্রকাশ না করে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি জোট করার বিষয়ে আমাদের দলে রেজুলেশন পাস হয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করার জন্য সভাপতি ও সেক্রেটারিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আট দলের মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ সংশ্লিষ্টদের আসন সমঝোতার আলোচনা চলার মধ্যে নতুন করে যুক্ত হয়েছে দলটি। এতে সবারই আসন ছাড় দিতে হবে।

এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ বলেন, আট দলের সঙ্গে এনসিপিও আসতে চাচ্ছে বলে শুনেছি। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। দলটির একজন সহকারী মহাসচিব বলেন, জুলাইযোদ্ধাদের দল হিসেবে এনসিপি আট দলের সঙ্গে এলে সবাইকেই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।

এ নিয়ে প্রশ্ন করলে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, আমরা শুরু থেকেই একক, যৌথ বা আসন সমঝোতার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের বিষয়ে ওপেন ছিলাম। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াত এবং আরও রাজনৈতিক দলের সাথে আমাদের জোট গঠন বা আসন সমঝোতার বিষয়ে এবং রাজনৈতিক পরিবেশ পরিস্থিতি মূল্যায়নের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলমান রয়েছে।

সমাজ বিশ্লেষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনের মধ্যে থেকে গড়ে ওঠা দল এনসিপি, যাকে বলা হয় 'মুভমেন্ট পার্টি'। ফলে শুরু থেকেই দলটি 'নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের' যে বয়ান উৎপাদন করেছে, তার সাথে দলটির বর্তমান অবস্থানের কোনো মিল নেই।

অধ্যাপক সাহান বিবিসি বলেছেন ‘জামায়াতের বি টিম’ হওয়ার যে অভিযোগ উঠেছিল, দলটি যদি আসন সমঝোতায় যায় তাহলে সেই দাবিকেই সত্যি প্রমাণ করবে এবং ‘একটি আলাদা স্বতন্ত্র আইডেন্টি নিয়ে একটা মুভমেন্ট পার্টি হিসেবে এনসিপির বেড়ে ওঠার যে সম্ভাবনা ছিল সেটাকে তারা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করবে’ বলে মনে করেন অধ্যাপক সাহান।

মো. এসআর বশির নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, অবশেষে জুলাই বিক্রি হলো। এ আই শাহরিয়ার নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, নাহিদ প্রধান মন্ত্রী এটা মানতে পারলাম না। মোহিদুল ইসলাম নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, 
হিতে বিপরীত হতে পারে। আলহামদুলিল্লাহ বলেছেন অনেকে। মনির নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, জামায়াতের সবচেয়ে বড় ভুল হলো এটা। সোহাত ইসলাম নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, আমার মতে এনসিপি কে দলে নেয়া জামায়াতের বড় ভুল সিদ্ধান্ত।

জায়াতাত ও এনসিপি এক হলে ভাঙতে পারে ৯ দল। জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি ধর্মভিত্তিক দলের যে জোট ছিল, সেই জোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারে মাওলানা মামুনুল হক নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। আসনবণ্টন, এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের নতুন করে বোঝাপড়া তৈরির কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে জোটের একাধিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এ কথা জানান।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়