শিরোনাম
◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ ◈ দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার টি-টোয়েন্টিতে খেল‌বেন রিশাদ হো‌সেন! ◈ ১৩ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মা‌টি‌তে ওয়ান‌ডে জ‌য়ের স্বাদ পে‌লো  শ্রীলঙ্কা ◈ নতুন-পুরনো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: এনআইডি ব্লকের প্রস্তুতি, নতুন তালিকা হচ্ছে, নজরদারিতে স্বজনরাও ◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে ◈ লিও‌নেল মে‌সি স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন, বা‌র্সেলোনার অভিনন্দন ◈ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: যুক্তিতর্ক শুনানি আজ ◈ মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যেও নীরব দিল্লি, বক্তব্য নেই বিজেপির ◈ মরুভূমির দেশ হয়েও কেন বালু আমদানি করে সৌদি আরব?

প্রকাশিত : ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৭:৪৪ সকাল
আপডেট : ২৭ মে, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জরিপ: আওয়ামী লীগের ৪৮ শতাংশ ভোটার এবার বিএনপির পক্ষে, ৯০ শতাংশের ভোট দেওয়ার আগ্রহ

এক জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের ৯০ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, তাঁরা এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে চান। আর ৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা এখনো ভোট দেওয়ার বিষয়ে অনিশ্চিত বা ভোটে অংশ নেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা করছেন না। অন্যদিকে আগে যাঁরা আওয়ামী লীগকে (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ভোট দিতেন, তাঁদের ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দেবেন।

‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস: ফাইন্ডিংস ফ্রম আ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক মতামত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক অপিনিয়ন স্টাডিজ একসঙ্গে এই জরিপ করেছে।

আজ বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই জরিপের ফল তুলে ধরা হয়। ফল তুলে ধরেন সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ। তিনি জানান, তাঁরা দেশের ৬৪ জেলার ১৮০টি সংসদীয় আসনে ভোটারদের ওপর এই মতামত জরিপ করেছেন। মতামত জরিপে অংশ নিয়েছেন ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই ধাপে জরিপটি করা হয়।

জাকারিয়া পলাশ বলেন, জরিপে দেখা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে দুর্নীতির ইস্যু। জরিপে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির ইস্যুটিকে গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন। ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মকে গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন বলে মত দিয়েছেন।এ ছাড়া ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেবেন বলে জরিপে এসেছে।

আগে যাঁরা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন, তাঁদের ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দেবেন বলে জরিপে উঠে এসেছে—সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ ছাড়া আগে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন এমন ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার জামায়াতকে, ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। ১৩ শতাংশ ভোটার অন্যদের ভোট দেবেন। ২ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন।

জরিপের ফল অনুযায়ী, ২০০৮ সালের পর প্রথম ভোট দেবেন—এমন ভোটারদের ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা এবার জামায়াতকে ভোট দেবেন। ২৭ শতাংশ বিএনপি, ১৭ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। আর ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন।

জাকারিয়া পলাশ বলেন, মতামত জরিপে উঠে এসেছে, এবারের নির্বাচনে মানুষ এমন নেতাদের ভোট দিতে চান, যেই নেতা মানুষের কথা ভাবেন, আর শক্তিশালী নেতৃত্ব দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ভোটাররা ব্যক্তিগত বিশেষ যোগ্যতার তুলনায় জনদরদি প্রার্থীকে বেশি পছন্দ করছেন বলে জানিয়েছেন।

জরিপের ফলের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ দল ও প্রার্থী দুটিকে সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে—এমনটা জানিয়েছেন ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার। ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার শুধু দলকে গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন। শুধু প্রার্থীকে গুরুত্ব দেবেন ৩০ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার। আর ৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনটিকে গুরুত্ব দেবেন, তাঁরা এখনো তা ঠিক করেননি বলে জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের রেডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির ভিজিটিং প্রফেসর ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রফেসরিয়াল ফেলো এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যেহেতু নির্বাচনে নেই, তাই তাদের ভোট এবার কোন দিকে যাবে, সেটি এখন গুরুত্বপূর্ণ। জরিপের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো এবারের নির্বাচনে অনেক মানুষ ভোট দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তবে ভোটের দিনের পরিস্থিতি কেমন হবে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যে ৮ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন—নিরাপত্তা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা ভালো না থাকলে তাঁদের অনেকে ভোটকেন্দ্রে না–ও যেতে পারেন। তখন এই ৮ শতাংশ হয়ে যেতে পারে ৮০ শতাংশ।

ভোটের দিনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষ যাতে কোনোভাবেই উদ্বিগ্ন না থাকেন, বিশেষত নারী ও বয়স্ক ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন।

এই অধ্যাপক মনে করেন, জরিপের ফল যেমনই হোক, নির্বাচনের দিন পরিস্থিতি কেমন হবে, ভোটাররা কতটা নিরাপত্তা পাবেন, ভোট গ্রহণ কতটা সুশৃঙ্খল থাকবে—এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে কত মানুষ ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সিআরএফের সহসভাপতি ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাবুল হক। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে, যেটা অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে বেশি।

মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে এখনো উদ্বেগ আছে বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক সাহাবুল হক। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে একধরনের টেনশন কাজ করছে যে ভোটটা সুষ্ঠু হবে কি না, নিরপেক্ষ হবে কি না, ব্যালট বাক্স দখল হয়ে যায় কি না, কোনো ধরনের সংঘাত হয় কি না। এই উদ্বিগ্নতা মানুষের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও সাধারণ ভোটারও আছেন।

ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ আগের চেয়ে ধর্মকে কম গুরুত্ব দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘বেশি মানুষ কিন্তু এটা নিয়ে ভাবছে না; বরং তাঁরা দুর্নীতিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে—প্রার্থী বা প্রার্থীর দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে কি না।’ সূত্র: প্রথম আলো

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়