শিরোনাম
◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী ◈ দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২১; আহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশি ◈ ‘আসল’ তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রতের হাতে, মমতাকে উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের ওয়ান‌ডে দল ঘোষণা, মিরাজ অ‌ধিনায়ক ◈ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ তুলে নিল সরকার ◈ হাজিদের লাগেজ চুরি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ধর্মমন্ত্রীর ◈ ৩০০ দিনে ১৭ দেশ পেরিয়ে আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে ৩ ভক্ত সাইক্লিস্ট  ◈ হাদি ইস্যুতে মমতার মন্তব্য; যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (ভিডিও)

প্রকাশিত : ২৭ মে, ২০২৬, ১১:৪৮ রাত
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

পাকিস্তান থেকে ভারত— উত্তপ্ত ভূরাজনীতিতে ঢাকার আকাশে ‘পঞ্চ ঢঙ্কা’

এল আর বাদল: বাংলাদেশকে দানে-অনুদানে, ভক্তি-ভালোবাসায় ভরিয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতা প্রতিবেশীসহ শক্তিমান দেশগুলোর। দিচ্ছেও। সেই সঙ্গে সমানে চুক্তি, সমঝোতা, প্রতিশ্রুতি। তিন বছরের দায়িত্ব চার বছর পালন শেষে বিদায়কালে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা জানিয়ে গেছেন, এত দিন মন খুলে দিয়েছে তার দেশ। সামনে আরও দেবে। সূত্র: ঠিকানা/নিউইয়র্ক

বাংলাদেশ ছেড়ে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পরবর্তী দায়িত্বে যোগদানের আগে আবেগঘন ভাবনা জানিয়ে গেছেন তিনি। একই সময়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন অর্থনীতি, জ্বালানি ও নিরাপত্তা খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এমন উতল ভালোবাসার মাঝে পাকিস্তান তো যুদ্ধ তথা জঙ্গি বিমানই দিতে যাচ্ছে। এ নিয়ে তেলে বেগুনে জ্বলছে ভারত। তার ওপর একাত্তরের পর এই প্রথম বাংলাদেশ তার শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের মুসৌরি একাডেমির পরিবর্তে পাকিস্তানে পাঠিয়েছে। পুরো কর্মসূচির অর্থায়ন করেছে পাকিস্তান। তা দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের এক বড় লড়াইয়ে ভারতকে হারিয়ে দিল। শেখ হাসিনা-পরবর্তী ভূ-রাজনৈতিক পুনর্গঠনে এটি এক বড় বাস্তব।

এ সময়েই সীমান্তে ভারতের বিএসএফের গুলির জবাবে বাংলাদেশের বিজিবির পাল্টা গুলি ও চাঁছাছোলা বাংলায় তুই-তোকারি। এসব গুলি আবার চীনের। বিজিবির চীনা অস্ত্র ও গুলি ভারতের দিকে তাক হয়ে থাকা আরেক বাস্তবতা। পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা চুক্তির আবহ তৈরির প্রাক্কালে বিজিবির এ ট্রেলার ভারতের জন্য হজম করা কঠিন হয়ে গেছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে অলরাউন্ড প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়ে গেলে ৫০ হাজার বিজিবি পাকিস্তানের কাশ্মীর ও পাঞ্জাব সীমান্তে পাঠিয়ে দিতে হবে আর পাঞ্জাব ও কাশ্মীর সীমান্ত থেকে ৫০ হাজার পাকিস্তান রাইফেলসের সদস্য নিয়ে এসে বাংলাদেশের সীমান্তগুলোতে ডেপ্লয় করতে হবে বলে উড়াল খবর ঘুরছে। ভারত এ সময়টা উতরাতে নিচ্ছে নানা কূটনৈতিক পদক্ষেপ। মধ্যসহ নানা প্রাচ্যে দৌড়াচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নরওয়ে সফর পর্যন্ত করেছেন। উদ্দেশ্য বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং ভূরাজনৈতিক কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার করা। ১৯৮৩ সালে ইন্দিরা গান্ধীর পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি অসলোতে তৃতীয় ভারত-নরডিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন। তার নরওয়ে যাওয়ার আসল কারণ ছিল আমদানির জন্য তদবির করা।

নরওয়ের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ‘আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন’কে তাদের বিনিয়োগের তালিকা থেকে বাদ দেয়। ইন্দিরা গান্ধী বিগত স্নায়ুযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে ভারতকে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেছেন। কিন্তু নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সময় নরেন্দ্র মোদি হঠাৎ হঠাৎ জেগে ওঠা অপ্রত্যাশিত ঘটনা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।

 রাশিয়ার দিকে ঢুলছেন। মার্কিনি চাপ পড়লে দিক বদলাচ্ছেন। কোয়াডভুক্ত দেশগুলো নিয়েও ভারত বেশ যন্ত্রণায়। পশ্চিম এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই নয়াদিল্লিতে কোয়াডভুক্ত দেশÑভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতে চার দিন সফর করে গেছেন।

 প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফর শেষে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরটি মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে গুরুত্বপূর্ণ। অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে, কোয়াড নিয়ে ভারত যত বেশি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে এগোবে, তত রাশিয়া থেকে দূরে সরতে হবে। রাশিয়া এখন চীনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। রাশিয়ার সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি করার অর্থ হলো ভারতের অভ্যন্তরে জ্বালানি তেলের সংকট হ‌ওয়া, আর তা হতে থাকলে খাদের মধ্যেই গড়াগড়ি খেতে থাকবে ভারতের রুপিকে। যুক্তরাষ্ট্র প্রথম স্নায়ুযুদ্ধের খেলা নতুন মোড়কে পুনরায় শুরু করতে চায়।

এ অঞ্চলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রধান নোবেল লরিয়েট ড. ইউনূস তা ঢের এগিয়ে দিয়ে গেছেন। তার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক উষ্ণতায় মাত্রা যোগ হয়। 

বিশেষ করে বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সংলাপের ক্ষেত্রে দু’দেশের কিছু নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়। ড. ইউনূস এখন ক্ষমতায় না থাকলেও তিনি ফ্যাক্টর। তার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিগত স্নায়ুযুদ্ধের সময় পঁচাত্তরে আধিপত্যবাদী ভারতের এখানে চরম পরাজয় ঘটে। আবার ঘটল ২০২৪ সালের জুলাই গণ‌অভ্যুত্থানে।

শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বাঁচেন। এখন ঢাকার সঙ্গে ইসলামাবাদের মাখামাখি ভারতকে ভাবাচ্ছে। অথচ তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও নির্বাচনে জেতার পেছনে যারপরনাই ভূমিকা রেখেছে ভারত। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তিতে বাংলাদেশ সফর করেছে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর পদস্থ আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধি দল। 

মাদক পাচার রোধে পাকিস্তানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান এবং যৌথ অভিযান ভারতের জন্য কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো। নমুনা বুঝেই বাংলাদেশকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলতে বিজেপিকে বিভিন্ন রাজ্যে বিজয়ী করা। পাকিস্তানের জন্য এটি উদ্বেগের। দেশটির বাংলাদেশকে গায়ে পড়ে সহযোগিতা যেমন কষ্টের ভারতের জন্য। 

ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী এ খেদ ধরে রাখতে পারেননি। বলেছেন, পাকিস্তান ‘সন্ত্রাসীদের আশ্রয়’ দেওয়া অব্যাহত রাখলে তাদের ‘ভূগোলের অংশ থাকবে নাকি ইতিহাসে পরিণত হবে’ তা ঠিক করতে হবে। এই বক্তব্য কেবল সামরিক হুঁশিয়ারি নয়; বরং এটি ভারতের বর্তমান কৌশলগত অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ।

গত কয়েক বছরে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ক্রমাগত সংঘাতমুখী হয়েছে। বিশেষ করে, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রসঙ্গ তুলে ভারতীয় সেনাপ্রধান বোঝাতে চেয়েছেন, ভবিষ্যতেও সীমান্তপারের হামলা বা কাশ্মীরভিত্তিক সশস্ত্র তৎপরতার জবাবে ভারত দ্রুত ও আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখাতে প্রস্তুত। 

ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীর প্রশ্নকে আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে চাইলেও ভারত এখন এটিকে সরাসরি ‘সন্ত্রাসবাদ’ প্রশ্নে রূপান্তর করতে চেষ্টা করছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের জন্যও এই উত্তেজনা তাৎপর্যপূর্ণ। 

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি আঞ্চলিক বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, পানি, সীমান্ত ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার এই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। সেখানে গেম প্লেয়ার হিসেবে বাংলাদেশের বিতাড়িত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাসঙ্গিক করতে চায় ভারতের একটি শক্তিশালী মহল। তাদের কারসাজিতেই ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বুক ফুলিয়ে ফেরার ঘোষণা প্রচার করে একটি ভূমিকম্প তোলার চেষ্টা। তিনি বিমানে ফিরবেন, না সড়কপথে ফিরবেন, সেদিন ঢাকায় কত লোক জমায়েত হবে, এ সংক্রান্ত আলোচনা জমানোর চেষ্টাও ব্যাপক। 

শেখ হাসিনা ফেরার আগে বা পরে কে হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক, কারা থাকবেন দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে, ওবায়দুল কাদের-হাছান মাহমুদদের কী হবে, সেই গুঞ্জন জমানোর চেষ্টাও হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার রাজ্যে শেখ হাসিনাকে সফরের আবদার করছেন মর্মে খবর রটাতেও ছাড়া হয়নি। এসবের প্রথম উদ্দেশ্য বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল বিএনপি, বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপির পালস বোঝা। আর দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগ কর্মীদের চাঙা করা। কিন্তু চালাক-চতুর নেতা-কর্মীরা খুব সাবধানী। এসব ফেক হাইপে গা মেখে তারা বিপদে পড়তে নারাজ।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়