স্পোর্টস ডেস্ক : ভিলেমস্টাডের শহরতলির কুয়াশাচ্ছন্ন একটি সকাল। কুরাসাওয়ের ঐতিহ্যবাহী একটি পরিবার কফির আড্ডায় মগ্ন। ঘুমকাতুরে পরিবেশ, বাতাসে মৃদু সুগন্ধ। পাশের বাড়ির খুঁটিতে উড়ছিল লাল-নীল মিশেলে দেশটির জাতীয় পতাকা। একটি মনোমুগ্ধকর আবহ বটে!
পরিবারের আলোচনায়—ফুটবল। দুঃখের দিন গলিয়ে সুদিনে ফেরা ফুটবল। ১৯২৪ সালের নিভু নিভু জ্বলা ফুটবল ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের কানাগলি পেরিয়ে সমতল ভূমিতে। আর মাত্র একটি পয়েন্ট মিললেই স্বপ্ন আরও প্রসারিত হবে—ক্যারিবিয়ান সাগরের মাঝখানে, ভেনেজুয়েলার উত্তরে প্রায় দেড় লক্ষ জনসংখ্যার এই দেশের।
বৃহস্পতিবার বারমুডাকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কুরাসাও। গ্রুপে ৫ ম্যাচে তিন জয় দিয়ে ১১ পয়েন্ট দলটির। পরবর্তীতে জ্যামাইকাকে পরাজিত করা অথবা ন্যূনতম ড্র হলেই স্বপ্নের উপাখ্যান—সরাসরি বিশ্বকাপ টিকিট। মূলত এ নিয়েই উৎসবের আমেজ এখনও ফিফার বড় কোনো টুর্নামেন্ট না খেলা দেশটিতে।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কুরাসাওয়ের সাফল্য
কনকাকাফ অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কুরাসাও প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর বিপক্ষে। ম্যাচটি ছিল গোলশূন্য ড্র। দ্বিতীয় ম্যাচে তারা বারমুডার বিপক্ষে ৩-২ এবং তৃতীয় ম্যাচে জ্যামাইকার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয় পায়।
প্রথম ম্যাচের মতো চতুর্থ ম্যাচটিও হয় ড্র। তবে এবার দুই দলই একটি করে গোল হজম করে। পঞ্চম ম্যাচে বারমুডাকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেয়। তাদের পরবর্তী এবং বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ জ্যামাইকা। দেশটির বিপক্ষে এর আগের ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল কুরাসাও।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কুরাসাওয়ের পয়েন্ট ১১। দ্বিতীয় স্থানে জ্যামাইকার ১০। শেষ ম্যাচে যে বা যারা জিতবে, তারাই টিকিট পাবে বিশ্বকাপে। সে ক্ষেত্রে ১৯ নভেম্বরের ম্যাচটি ডু-অর-ডাই। হারলেও কোয়ার্টার খেলার সুযোগ আছে।