স্পোর্টস ডেস্ক : মরক্কোয় চলমান মহাদেশীয় প্রতিযোগিতাটির গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের একটিতে জিতেছে সুদান। নিজেদের গ্রুপে শীর্ষ দুইয়ে থাকতে না পারলেও, তৃতীয় সেরা দলগুলোর একটি হিসেবে শেষ ষোলোয় উঠেছে তারা।
১৯৭০ সালে এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের একমাত্র শিরোপা জিতেছিল সুদান। তারপর থেকে এবারের আগে তারা নকআউট পর্বে উঠতে পেরেছিল শুধু ২০১২ আসরে। সেবার কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলেছিল দলটি। ----- বিডিনিউজ
সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সরকারের সঙ্গে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ ) নামের সশস্ত্র একটি গোষ্ঠী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন অংশে প্রায়ই সশস্ত্র হামলা ও পাল্টা হামলায় হতাহতের খবর আসে।
এই সংঘাত শুরুর পর থেকে দেশটিতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং দেশের বড় অংশজুড়ে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়েছে।
সংঘাতের ফলে নিজ দেশ থেকে নির্বাসিত হয়েও, খেলা চালিয়ে যাচ্ছে সুদান জাতীয় দল। আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শনিবার সেনেগালের মুখোমুখি হবে তারা। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে দলের ওপর যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে হলে কিছুটা যেন বিরক্ত হন আপিয়া। একই সঙ্গে আশার কথাও শোনান সুদান কোচ।
বেশিরভাগ সময় আমি এই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি, কারণ অনুভূতিগুলো ভয়াবহ। এটা এমন কিছু নয়, যা নিয়ে আমরা কথা বলতে চাই। তবে আমরা আশা করছি যে, যদি আমরা জিতি তাহলে তা হয়তো যুদ্ধ-পরিস্থিতিকে শান্ত করবে, এমনকি যুদ্ধ থামিয়ে দেবে।”
“এর আগে একটি ম্যাচ হয়েছিল যেখানে আমরা জিতেছিলাম (বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে), তখন সেনাবাহিনী তাদের বন্দুক নামিয়ে রেখেছিল এবং সবাই উদযাপন করছিল। ফুটবল এই পৃথিবীর অনেক কিছু বদলে দিতে পারে।
সুদান জাতীয় দলই যে শুধু ঘরের মাঠে খেলতে পারছে না তা নয়, দেশটির শীর্ষ দুটি ক্লাব রুয়ান্ডায় চলে গেছে। সেখানে তারা স্থানীয় লিগে অতিথি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
দেশের বাইরে খেলা কতটা কঠিন, ভালো করেই জানেন সুদান অধিনায়ক বাখিত খামিস। তিনিও ফুটবলের সাফল্য দিয়ে দেশের পরিস্থিতি উন্নতির আশায় আছেন।
“আপনারা সবাই জানেন, দেশের বাইরে খেলা এবং এমন পরিস্থিতিতে খেলা চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন। পরিবার থেকে দূরে, বাড়ি থেকে দূরে থাকা আমাদের জন্য খুবই কঠিন। আমরা এই পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছি, আমাদের ভক্তদের খুশি করার চেষ্টা করছি এবং আশা করি, পরিস্থিতি ভালো হবে।
মাঠে আমরা যা করছি, তা আমাদের দেশের মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও ভালো করার প্রচেষ্টা।