স্পোর্টস ডেস্ক : একটা সময় বয়স জালিয়াতির কারণে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। ক্রিকেট খেলার জন্য বাবার হাতে মার খেতেন নিয়মিত। সেই প্রিন্স চলতি আইপিএলে দুর্দান্ত বোলিং করে এখন ব্যাটারদের ত্রাসে পরিণত হয়েছেন।
দিল্লির দক্ষিণ পশ্চিম উপশহর ও বীরেন্দর শেবাগের জন্মস্থান নাজাফগরের দরিয়াপুর খুর্দ গ্রামে জন্ম প্রিন্সের। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আসক্তি ছিল তার। এলাকায় নিয়মিত খেলতেন টেপ টেনিস বলের ম্যাচ। তবে ক্রিকেটকে ভালোভাবে নিতেন না রেলওয়ে পুলিশ বাহিনীতে চাকরি করা প্রিন্সের বাবা। --- ডেইলি ক্রিকেট
পরিবারের সিংহভাগ উপার্জন আসতো গম চাষ থেকে। তাই প্রিন্সের বাবার চাওয়া ছিল ছেলে বড় হয়ে ভালো চাকরি করে পরিবারের হাল ধরবেন। যার কারণে ছেলে ক্রিকেট খেলতে গেলে মারতেও দ্বিধাবোধ করতেন না তিনি। সেই স্মৃতি মনে করে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে প্রিন্স বলেন, ‘বাসায় অনেক মার খেতাম।
লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের হয়ে চলতি আইপিএল খেলা এই পেসার আরও বলেন, ‘আমি কখনো পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি। আমার মনে এমন চিন্তা কখনো আসেনি। আমি শুধু টেনিস বল ক্রিকেট খেলা উপভোগ করতাম, আর কিছুই নয়।’
চলতি আইপিএলে এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচ খেলে ১১ উইকেট শিকার করেছেন প্রিন্স। দিল্লি ক্রিকেটে ইয়র্কারের জন্য পরিচিত এই পেসার এখনও নিয়মিত খেলেন টেপ টেনিস ক্রিকেট। এই বলে খেললে নাকি গতি বাড়াতে কাজে আসে বলেও অকপটে স্বীকার করলেন প্রিন্স।
তিনি বলেন, আমি এখনো টেনিস বল ক্রিকেট খেলি, গত বছরের আইপিএল খেলে আসার পরও। আমি সবার কথা বলতে পারব না, কিন্তু এটা আমার হাতের গতি বাড়াতে সাহায্য করে, কারণ টেনিস বল দিয়ে দ্রুত বল করতে গেলে অনেক শক্তি লাগে। ইয়র্কারে গতি লাগে।’ এরপর সঙ্গে সঙ্গে যোগ করলেন, ‘যখন আমি ক্রিকেটের বাইরে থাকি, আমি ক্ষেতে যাই। আমার চাষ করতে ভালো লাগে। কয়েকদিন আগেই আমরা গম কেটেছি।
দুর্দান্ত বোলিং করে ভারত জাতীয় দলের রাডারে চলে এসেছেন প্রিন্স। বিশেষ করে তার কিছু গুণের কারণে নজর কেড়েছেন তিনি। প্রিন্সের প্রশংসা করে লক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসের কোচ ভারত অরুণ বলেন, ‘আমরা দেখেছি সে বল সুইং করতে পারে এবং বৈচিত্রও আছে। স্লোয়ার বলে ভালো বৈচিত্র আছে এবং ইয়র্কারেও। বল করার সুযোগ পেলে সে এই দক্ষতাগুলো শানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
২০২০ সালে বয়স জালিয়াতির কারণে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন প্রিন্স। তখন অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট খেলছিলেন তিনি। নিষিদ্ধ হওয়ার সময়টাতে বসে থাকেননি প্রিন্স। নিয়মিত করেছেন অনুশীলন, আর খেলেছেন টেপ টেনিসে ম্যাচ।
সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রিন্স বলেন, ‘ওটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার পর্ব। আমার পরিবার আমাকে সমর্থন দিয়েছে কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল আমি ক্রিকেট খেলে আমার জীবনে কিছু একটা করতে পারব। সাবেক দিল্লি ফাস্ট বোলার প্রদীপ সাংগোয়ান আমাকে ওই সময় ট্রেনিং করতে বললেন। দুই বছর আমি তার সঙ্গে চুপচাপ অনুশীলন করেছি এবং টেনিস বল ক্রিকেট খেলেছি। এ কারণেই নিষেধাজ্ঞা শেষে আমি পুরোদমে কাজ করতে পেরেছি।