১০০ কোটির সম্পত্তি থেকে কতো দূরে সাবেক ক্রিকেটার হরভজন সিং?
স্পোর্টস ডেস্ক : ক্রিকেট কেরিয়ারে তাঁর ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়েছে প্রতিপক্ষ। ব্যাটারদের মাথা ঘুরিয়ে দিতেন বলে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল টার্বুনেটর। এবার রাজনীতির ময়দানেও সকলকে ঘোল খাইয়ে দিলেন তিনি-হরভজন সিং। তারকা স্পিনারের কেরিয়ারের শেষ দিক থেকেই জল্পনা ছিল, রাজনীতির ময়দানে নাম লেখাবেন তিনি। একবার শোনা গিয়েছিল, কংগ্রেসের টিকিটে পাঞ্জাবের বিধানসভা নির্বাচনে লড়বেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত আদমি পার্টিতে নাম লিখিয়েছেন হরভজন। ২০২২ সালে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ হন আপের টিকিটে। কিন্তু চারবছরের মধ্যে নিজের দলকেই গুগলি দিলেন তিনি। শুক্রবার সাতজন সাংসদ আপ ছেড়ে যোগ দেন বিজেপিতে। তার মধ্যে অন্যতম হরভজন। রাজ্যসভায় আপের সাংসদ সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ পদ্মশিবিরে যোগ দিয়েছেন। ফলে হরভজনের সাংসদ পদ যাবে না। --- সংবাদপ্রতিদিন
রাজনৈতিক মহলে হইচই ফেলে দিয়েছে আপ সাংসদদের এহেন পদক্ষেপে আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, আসলে পাঞ্জাবিদের ধাক্কা দিয়েছে বিজেপি। হরভজন কেন বিজেপিতে নাম লেখালেন, সেই নিয়েও চর্চা চলছে ক্রীড়াদুনিয়ায়। আপের টিকিটে সাংসদ হওয়ার পর জানিয়েছিলেন, পাঞ্জাবের কৃষক পরিবারের মেয়েদের উন্নতি ও নারীকল্যাণে পাশে দাঁড়াতে চান।
সাংসদ খাতের জন্য বরাদ্দ বেতন কৃষকদের কন্যা সন্তানের শিক্ষা ও উন্নতিকল্পের জন্য দান করার সিদ্ধান্ত নেন হরভজন। পাঞ্জাবে ক্রীড়াক্ষেত্রের সার্বিক উন্নয়নেও কাজ করতে চেয়েছিলেন। আচমকা হরভজন কেন দলবদলের সিদ্ধান্ত নিলেন, সেই নিয়ে চর্চা চলছে। তারমধ্যেই উঠে আসছে পাঞ্জাবি স্পিনারের সম্পত্তির খতিয়ানও।
২০২২ সালে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ে নিজের সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ জমা করেছিলেন ভাজ্জি। ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও ধারাভাষ্যকার হিসাবে উপার্জন করেন তিনি। একাধিক বিলাসবহুল বাড়ির মালিক হরভজন। চণ্ডীগড়ে রয়েছে তাঁর বাড়ি, যার দাম প্রায় ৭ কোটি টাকা। প্রাসাদোপম বাড়িতে রয়েছে হোম থিয়েটার এবং বিরাট বাগান।
এছাড়াও পাঞ্জাবের একাধিক জায়গায় রয়েছে হরভজনের সম্পত্তি। মুম্বইয়ের সান্টা ক্রুজে রয়েছে ফ্ল্যাট। গুজরাট এবং অন্ধ্রপ্রদেশেও সম্পত্তি রয়েছে তাঁর। সবমিলিয়ে প্রায় ৫৯ কোটি টাকার মালিক হরভজন। বেশ কয়েকটি বহুমূল্য গাড়িও রয়েছে ভাজ্জির গ্যারাজে। অডি, মার্সিডিজ বেঞ্জ, হামার এইচ২ এসইউভির মতো গাড়ি রয়েছে তাঁর। এছাড়াও বেশ কিছু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী স্পিনার।
২০২২ সালের মনোনয়নের হলফনামা অনুযায়ী, হরভজনের সম্পত্তির পরিমাণ ৮৪ কোটি টাকা। তবে চার বছরে এই সম্পত্তির মূল্য অবশ্যই বেড়েছে। রাজনৈতিক মহল বলে, সাংসদ হওয়ার কয়েকমাস পর থেকেই আপ নেতৃত্বের সঙ্গে ভাজ্জির সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় ছিলই না তাঁর।
সেই অসন্তোষ থেকেই কি বিজেপিতে যোগ দিলেন ভাজ্জি? জল্পনা তুঙ্গে। তবে আপের প্রতি অসন্তোষ থাকলেও দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কখনও মুখ খোলেননি। বিজেপির সমর্থনও করতে দেখা যায়নি তাঁকে।
বিজেপি সাংসদ হিসাবে রাজ্যসভায় ভাজ্জি কেমন কাজ করেন, সেদিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল। তবে জোড়া বিশ্বকাপজয়ীর এই সিদ্ধান্তে বেশ অবাক ক্রিকেটমহল।