শিরোনাম
◈ হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তা ◈ ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে অসন্তোষ, বিইআরসিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের ◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক ◈ কুমির সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি, মাজারের দিঘিতে ফেরত চাইলেন খাদেম ◈ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বকাপ মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে ◈ ইরান অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা, আর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও ◈ স্বামী-সন্তান কানাডা প্রবাসী, সেই মিরপুরেই মিলল আরেক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ ◈ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ◈ অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান

প্রকাশিত : ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:১১ দুপুর
আপডেট : ১৩ মে, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

২০ কোটি বছর পর পৃথিবীর দিনের সময় হবে ২৫ ঘণ্টা, কিন্তু কেন?

ভবিষ্যতে পৃথিবীতে দিন হবে ২৫ ঘণ্টায়। শুনতে অবাক লাগলেও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই তথ্য কিন্তু ভুল নয়। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করে দেখছেন যে পৃথিবীর আবর্তনের গতি ক্রমেই কমছে। যদিও এই পরিবর্তনের গতি এতটাই ধীর যে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর কোনো প্রভাবই পড়ে না। আমরা আমাদের জীবনকে ২৪ ঘণ্টার চক্রে গুছিয়ে নিয়েছি বলে এই সময়কে ধ্রুবক বলে মনে হয়। কিন্তু নক্ষত্রের সাপেক্ষে পৃথিবীর ঘূর্ণন গণনা করলে দেখা যায়, দিন ২৪ ঘণ্টার চেয়ে কিছুটা ছোট। পৃথিবী তার কক্ষপথে ঘোরার সময় সূর্যকে আবার আকাশে একই অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে কিছুটা বাড়তি সময় ঘোরে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্য ক্রমাগত বাড়ছে।

পৃথিবীর গতি কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করছে চাঁদ। চাঁদের মহাকর্ষীয় শক্তি পৃথিবীর সাগরে জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি করে। এই বিশাল জলরাশি যখন সমুদ্রতলের ওপর দিয়ে চলাচল করে, তখন একধরনের ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ভাষ্যে, এই ঘর্ষণ পৃথিবীর ঘূর্ণন শক্তি সামান্য কমিয়ে দেয়। এই শক্তি হারিয়ে যায় না বরং তা চাঁদকে পৃথিবী থেকে দূরে ঠেলে দেয়। একে তুলনা করা যেতে পারে একটি ঘূর্ণমান চেয়ারের সঙ্গে যার পা মেঝেতে ঘষা লেগে গতি কমিয়ে দিচ্ছে।

চাঁদ ছাড়াও পৃথিবীর উপরিভাগের পরিবর্তন ঘূর্ণন গতিতে প্রভাব ফেলে। নাসা ১২০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, হিমবাহ গলে যাওয়া, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি—এসবই পৃথিবীর ভরের ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে। যখন গ্রিনল্যান্ড বা অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে মহাসাগরে মিশছে, তখন পৃথিবীর ঘূর্ণন অক্ষ কিছুটা সরে যাচ্ছে যাকে বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন ‘পোলার মোশন’। ২০০০ সালের পর থেকে গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে বরফ গলার হার বেড়ে যাওয়ায় এই পরিবর্তনের গতিও ত্বরান্বিত হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত ১২ দশকের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। দেখা গেছে, পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের পেছনে প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রের যেমন ভূমিকা আছে, তেমনি গত কয়েক দশকের দ্রুত পরিবর্তনের জন্য মানুষের কর্মকাণ্ড দায়ী। প্রাকৃতিক ব্যবস্থার পাশাপাশি মানুষের প্রভাব এখন পাল্লায় নতুন ওজন যোগ করছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দিন কবে ২৫ ঘণ্টায় পৌঁছাবে? উত্তরটি আসলে চমকে দেওয়ার মতো। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীর দিন এক ঘণ্টা বাড়তে অর্থাৎ ২৫ ঘণ্টায় পৌঁছাতে প্রায় ২০ কোটি বছর সময় লাগবে।এই সময়কাল এতটাই দীর্ঘ যে মানবসভ্যতা বা আধুনিক সমাজব্যবস্থার ওপর এর কোনো ব্যবহারিক প্রভাব পড়বে না।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়