শিরোনাম
◈ একটি শিশুর ওপর নির্যাতন পুরো সমাজকে আহত করে: রামিসার রায়ে আদালতের বার্তা ◈ এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে: তারেক রহমান ◈ বালুবোঝাই ট্রাক উঠতেই ভেঙে পড়ল সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ ◈ ভালো ব্যাংকও রক্ষা পায়নি, ৬১ ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টির অবস্থার অবনতি, বেড়েই চলেছে খেলাপি ঋণের পাহাড় ◈ ভারতে ডেটা সেন্টার খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী রবিন খুদা! ◈ জেল থেকে ফিরে নানা আলোচনার কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী, সরগরম চুনকা কুঠির ◈ মাদকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নাকি আইন হাতে তুলে নেওয়া? ভাইরাল গণপিটুনির ঘটনায় বিতর্ক ◈ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সেই ‘ডলার’কে নিয়ে ভিন্ন কথা বললেন রামিসার বাবা ◈ আদালতের ঐতিহাসিক রায়: ১৬ দিনে বিচার সম্পন্ন, রামিসা হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ◈ অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি, ১৭ মাসে ৪৬০০ ভারতীয়কে ফেরাল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০৮:০২ রাত
আপডেট : ১৮ মে, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মানবপাচারচক্রের গুলিতে লিবিয়ায় তিন বাংলাদেশি নিহত

লিবিয়ায় মানবপাচারচক্রের গুলিতে মাদারীপুরের দুই উপজেলা—রাজৈর ও সদর উপজেলার—তিনজন বাংলাদেশি যুবকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় মাফিয়াদের গুলিতে নিহত এই যুবকেরা হলেন: রাজৈরের দুর্গাবদ্দী গ্রামের মুন্না তালুকদার, ঘোষলাকান্দির বায়েজিত শেখ এবং সদর উপজেলার আদিত্যপুর গ্রামের ইমরান খান।

এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে তিন পরিবারে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, দালালদের প্রতারণা ও নিষ্ঠুর ব্যবসার শিকার হয়ে তাদের ছেলেরা প্রাণ হারাল।

মুন্না ও বায়েজিত পরিবারকে ভালো রাখার স্বপ্ন নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যাত্রার আগেই তারা শিকার হন মাফিয়াদের গুলির।

মাদারীপুর সদরের ইমরান খান গত ৮ অক্টোবর বাড়ি ছাড়েন। তাকে ২২ লাখ টাকায় ইতালিতে পৌঁছে দেওয়ার চুক্তি করে এলাকার দালাল শিপন খান। তবে ইতালিতে না পৌঁছে ইমরানকে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় এবং পরিবার থেকে আরও ১৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এরপর পহেলা নভেম্বর লিবিয়া থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যাত্রা শুরুর পরপরই সমুদ্রে এই বিপর্যয় ঘটে। ভূমধ্যসাগরের মাঝপথে মাফিয়াদের গুলিতে নিহত হন ইমরান, মুন্না এবং বায়েজিত। তাদের লাশ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।

ইমরানের মৃত্যুর খবর মঙ্গলবার তার পরিবারে পৌঁছানোর পর অন্য দুই পরিবারও একই খবর পেয়ে ভেঙে পড়ে। ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকার দালালচক্রের সদস্যদের বাড়িতে তালা ঝুলে গেছে। অভিযুক্ত শিপন খানের পরিবার কোনো যোগসূত্রের কথা অস্বীকার করলেও এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় বসে শিপন এই ব্যবসা চালিয়ে আসছে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, লিবিয়ায় তিন যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি তারা জেনেছেন। তিনি আশ্বস্ত করেন, যেকোনো পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।  তার ভাষায়, মানবপাচার কিংবা দালালি—কারও জন্যই ছাড় নেই।

তিন যুবকের এমন মৃত্যু শুধু তিন পরিবারকেই নয়, পুরো এলাকাকে শোকে ডুবিয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়