শিরোনাম
◈ প্রতিযোগিতায় টিকতে টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ◈ বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার ম‌ধ্যে ওয়ান‌ডে সিরিজের প্রথম ম‌্যাচ আজ ◈ নতুন মোড় তনু হত্যা মামলায়, সাবেক দুই সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ◈ রাজধানীতে ছুরিকাঘাতে সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ককে হত্যা ◈ পদ্মার চর থেকে সবুজ জ্বালানি : পাবনায় দুই সোলার পার্কে ১৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন, যোগ হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে ◈ মঙ্গলবার ভো‌রে বিশ্বকাপের শেষ প্রস্তুতি ম‌্যা‌চে মিশ‌রের মু‌খোমু‌খি ব্রাজিল ◈ কোরআ‌নে চুমু দি‌য়ে যাত্রা শুরু, মেক্সিকোতে ইরানের বিশ্বকাপ দল‌কে উষ্ণ অভ্যর্থনা ◈ নাহিদ রানাকে নিয়ে আতং‌কে আ‌ছি, বললেন অ‌স্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ◈ মোবাইলের স্ক্রিন থেকে মাঠে ফিরুক শিশুরা, খেলার মাঠ ও পার্ক দখলমুক্তের ঘোষণা সংসদে ◈ ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেই, তবু বলছি’— আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার তোপ

প্রকাশিত : ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:২৩ দুপুর
আপডেট : ৩১ মে, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সর্বপ্রথম আমি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করি, পরে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেন: কর্ণেল অব. অলি

লোহাগাড়ায় নির্বাচনি জনসভায় কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, শহিদ জিয়ার বিএনপি এখন আর নাই। বেগম জিয়ার বিএনপি এখন আর নাই। এখন ভাড়াটিয়া, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বিএনপি ওই কারণেই আমি ২০০৬ সালে বিএনপি থেকে বের হয়ে গিয়েছিলাম। যদিও পরবর্তী পর্যায়ে বেগম জিয়ার অনুরোধে আমি তাদের সঙ্গে আবারও জোটে গিয়েছিলাম। কিন্তু দেখলাম যে, বেগম জিয়া যখন অসুস্থ হয়ে যায় তারা আবার চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়ে যায়। সুতরাং এই চাঁদাবাজদের সঙ্গে থেকে আমি দোযখে যাওয়ার জন্য রাজি না।

তিনি সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমিতো বিএনপিতে ছিলাম। বিএনপির দুইজন সংগঠকের মধ্যে আমি একজন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমি দুজনেই বিএনপি করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্যাপ্টেন অলি আহমদ হিসেবে সর্বপ্রথম আমি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলাম। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তখনো পর্যন্ত আমরা বিদ্রোহ করবো এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয় নাই।

তিনি যাচ্ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে। ইতোমধ্যে আমি যখন খবর পেলাম ঢাকা ও চট্টগ্রাম সেনানিবাসে গোলাগুলি শুরু হয়েছে। তখন অষ্টম বেঙ্গল সেনাদেরকে নিয়ে আমি বিদ্রোহ করি এবং প্রেসিডেন্ট জিয়াকে দেওয়ানহাট নামক স্থান থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসি। অতঃপর দুজনে মিলে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে যায়। পরের দিন তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, আমরা কেন সেদিন পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা চেয়েছিলাম? ওরাও তো আমাদের ভাই। তার কারণ হলো আমাদের যে ন্যায্য অধিকার সে অধিকার থেকে তারা আমাদের বঞ্চিত করেছিল। বাংলাদেশের লোকজনের বিদেশে যাওয়া খুবই কঠিন ছিল। এখন ১ কোটির উপরে বাংলাদেশি লোক বিদেশে আছেন। রাওয়ালপিন্ডিতে দূতাবাস থাকলে আমাদের দেশের লোকেরা বিদেশে যেতে পারত না।

আমাদের যে অর্থনীতি হয়েছিল এ অর্থনীতি হতে পারত না। আজকে হাসিনা ও তার দোসররা এবং কিছু দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা মিলে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাংলাদেশ থেকে পাচার করেছে। এই টাকা যদি থাকতো বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম ধনী দেশ হিসেবে পরিচিত হতো। বাংলাদেশের মানুষের কোনো সমস্যা নাই। উর্বর জায়গা ও আল্লাহর মেহেরবানিতে এরকম জায়গা পৃথিবীতে কোথাও নাই। যেখানে বীজ পড়ে সেখান থেকেই চারা উঠে। কিন্তু এখানে রাজনীতিবিদরা হলো মহা দুর্নীতিবাজ।

তিনি আরও বলেন, আজকে এই মাঠে বলে যাই, এ জাতি যদি সঠিক সিদ্ধান্ত না নেই তাহলে স্বাধীনতা বিপন্ন হবে। যুদ্ধ করেছিলাম স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য। এখন একটা দল বিদেশিদের দালালি করছে এবং তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করছে। তাদের ইচ্ছার বাইরে যেতে পারবেনা। আমি বলেছিলাম এরশাদকে একটা চেইন লাগিয়েছিল। এরশাদের ভাই কাদেরকে দুইটা চেইন লাগিয়েছিল ভারতে।

এখন যারা আমাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছে তাদেরকে তিনটা চেইন লাগিয়েছে। সুতরাং ভারতের বাইরে এবং র (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং) এর বাইরে তারা যেতে পারবে না। আমরা চাই না এদেশ ভারত শাসন করুক। সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত হল ১১ দলীয় ঐক্যজোটকে ক্ষমতায় আনার জন্য ভোট দিতে হবে। যে যেখানে প্রার্থী আছে বিভিন্ন মার্কা নিয়ে আমরা আছি। আমি জামায়াত হই নাই, জামায়াতের লোকেরাও এলডিপি হয় নাই। আমরা নিজস্ব পরিচয় নিয়ে এক জায়গায় একত্রিত হয়েছি। হাসিনার দোসরদের পরাজিত করার জন্য আমরা একত্রিত হয়েছি।

কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, হাসিনা চলে গেছে। আপনারা শুনেছেন বিএনপির মহাসচিব কী বলেছে। দুইটা গুরুত্বপূর্ণ স্টেটমেন্ট। একটা হলো তিনি বলেছেন, জুলাই বিপ্লবে তাদের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না। তাদের কোনো ছাত্রদল ও যুবদলের ছেলে মৃত্যুবরণ করে নাই। আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের যে বা যারা আছে তার এলাকায় ও বাংলাদেশে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবেনা।

আওয়ামী লীগের জায়গায় এখন বিএনপি কাজ করছে। আপনাদেরকে বুঝতে হবে এদেশ তারা বিক্রি করার জন্য পায়তারা করছে। আপনারা যদি নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারেন, আপনাদের কেউ সাহায্য করতে পারবেনা। সমগ্র জাতিকে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ আমরা সুশাসন চাই। আমরা ন্যায় বিচার, দুর্নীতিমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ চাই। বেইমান, মোনাফেক ও দেশদ্রোহীদের হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দরকার সঠিক ঈমানদার লোক। ঈমান যদি না থাকে তার কাছে কিছুই নাই। বেইমান ও মোনাফেকদের দিয়ে বাংলাদেশ আর চলবে না। যেখানেই যান এক একজন জামায়াতের আমিরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন। সবাইকে বলবেন দেশকে বাঁচান, দেশ কি স্বাধীন থাকবে নাকি ভারতের অধীনে চলে যাবে। এ দেশ যদি স্বাধীন রাখতে হয় আপনাদের সবাইকে আবার শহিদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

আমি আমার একটা প্রেস কনফারেন্সে বলেছি, ভারত যদি মনে করে সহজে এদেশ দখল করে নিবে। তাহলে আমরা ১৫ দিনের মধ্যে ১ কোটি লোককে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে পারব। আমাদের ছেলেরা জান দিতে শিখেছে। সুতরাং এখন কোনো ভয় নাই। ভারতকে বুঝতে হবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা না। কোনো হিন্দু ও বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে আমরা না। যে মুসলমান কোরআন হাদিস মেনে চলে সে কখনো অন্য ধর্মের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারেনা। আমরা চাই সকল ধর্মের মানুষ সুখে শান্তিতে দেশে বসবাস করুক। আমরা তাদেরকে শান্তি, নিরাপত্তা ও ও নিশ্চয়তা দিয়েছি।

কর্নেল (অব.) অলি আরও বলেন, একটা ভুল ভোটের কারণে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ হতে পারে। যারা বেইমানি করেছে ও দুর্নীতি করেছে তাদেরকে ভোট দেওয়ার কোনো কারণ নাই। ভোট হলো একটি আমানত। আমানতের খেয়ানত যারা করে আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবে না। আপনি যোগ্য প্রার্থীকে থেকে ভোট দিবেন, মার্কা দেখে নই। ১১ দলীয় জোটের যে যোগ্য প্রার্থীরা আছেন এখানে কোন ঋণখেলাপি নাই, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ নাই। এখানে কোন র (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং) এর দালাল নাই। সুতরাং নিঃসন্দেহে আপনারা আমাদেরকে বিশ্বাস করতে পারেন। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কেন জামায়াতে আসলাম এটা আপনাদেরকে বুঝতে হবে। কারণ আমি যেটা করতে পারি নাই, এখন শফিক সাহেব (জামায়াতে ইসলামীর আমির) সেই দায়িত্ব নিয়েছেন। তার নেতৃত্বেই সেটা হবে। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়