মো. কামরুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা ক্লিনিকে ভাঙচুর চালালে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
নিহত প্রসূতি রাকিবা আক্তার (২২)। তিনি উপজেলার লাউর ফতেহপুর গ্রামের প্রবাসী শফিকুল ইসলামের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৫ এপ্রিল) মধ্যরাতে প্রসব ব্যথা উঠলে রাকিবা আক্তারকে নবীনগর উপজেলা সদরের আহমেদ প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তবে অপারেশনের কিছু সময় পরই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পর রোগীর অবস্থা সম্পর্কে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে কিছু জানায়নি। পরে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টা করা হলে তাঁরা জানতে পারেন, রাকিবা আক্তার মারা গেছেন।
নিহতের মা রেহেনা আক্তার বলেন, তার মেয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং গর্ভকালীন সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টও স্বাভাবিক ছিল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “অদক্ষ চিকিৎসকের মাধ্যমে অপারেশন করানোর কারণেই আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অন্যদিকে, এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্বজনরা ক্লিনিক প্রাঙ্গণে ভাঙচুর চালায়। এতে হাসপাতালের ইসিজি কক্ষসহ কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই চিকিৎসক ও কর্মচারীরা ক্লিনিক থেকে সরে পড়েন।
খবর পেয়ে নবীনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব কান্তি নাথ বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।