শিরোনাম
◈ অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা ক‌তোটা শ‌ক্তিশালী, রোববার সকা‌লে পরীক্ষা নে‌বে হন্ডুরাস ◈ দেশের শিশুস্বাস্থ্যে গবেষণার কেন্দ্র বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, তবু শয্যা ও প্রযুক্তি সংকট ◈ কাল শুরু হচ্ছে সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন, বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ◈ 'অনেক কষ্টে এসএসসি পাস করেছে' কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নিয়ে আসিফের কড়া মন্তব্য; দিলেন বরাদ্দের ব্যাখ্যা ◈ তুরস্ক কেন বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে? ◈ ট্রাম্পের জন্য ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’: জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত চায় ইরান ◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক ◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৬:৫০ বিকাল
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে'র মালী চালাচ্ছে এ্যাম্বুলেন্স, ভেজস বাগানের পরিচর্যাকারী ষ্টোর কিপারের দায়িত্বে ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পদই শূন্য

ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ফুল বাগানের মালী মিলন হোসেন চালাচ্ছেন এ্যাম্বুলেন্স। আর ভেজস বাগানের পরিচর্যাকারী (হারবাল এ্যাসিষ্টান্ট) মাহবুবার রহমান দ্বায়িত পালন করছেন ষ্টোর কিপারের।

এমন ভাবেই চলছে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের একমাত্র ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতালটিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকতার পদ শূণ্যসহ নেই প্রধান অফিস সহকারী, ষ্টোর কিপার, এ্যাম্বুলেন্স চালক, ইসিজি ও আলট্রাসনো টেকনিশিয়ানসহ একাধিক পদ। সংকট রয়েছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, ঔষধসহ পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীর। তবে, এত সংকটের মধ্যেও কর্মস্থলে না এসে বাইরে থেকেই প্রতি মাসের বেতন ভাতা নিচ্ছেন ডাক্তার ও নার্সসহ ৫ জন। বছরের অধিক সময় ধরে হয়না অপারেশন কার্যক্রম। প্রায় সাড়ে ৪ লাখ জনসংখ্যা অধ্যাষিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে বর্তমানে শূন্যপদ আর নানান ধরনের সমস্যা নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই এখন রোগী হয়ে গেছে।হাসাপাতালের ভিতরে বনজঙ্গল এবং  কোন রকমে জোড়াতালী দিয়েই চলছে সাধারন মানুষের সেবাদানসহ হাসপাতালটির কার্য্যক্রম।

সরেজমিনে হাসপাতালটিতে গিয়ে খোজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘ ৬ বছর ধরে ষ্টোর কিপারের পদ শুন্য। তার পরিবর্তে দ্বায়িত্ব পালন করছেন হাসপাতালের ভেজস বাগানের হারবাল এ্যাসিষ্টান্ট মাহবুবার রহমান। অতি গুরুত্বপূর্ণ দুইটি এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর জন্য নেই কোন চালক। তাই, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে খুলনা সিভিল সার্জনের এক আদেশে হাসপাতালের গার্ডেনের মালী মিলন হোসেন নামে একজন চালকের দ্বায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতালটিতে ৪৩ জন ডাক্তার পোষ্টিং থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আছেন মাত্র ২১ জন। মেডিসিন, গাইনি, অর্থপেডিক ও শিশুসহ ১১ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মধ্যেও পোষ্টিং আছে মাত্র ৫ জন। তবে, এত সংকটের মধ্যেও এখানে পোষ্টিং নিয়ে জুনিয়র কনসালটেন্স অর্থপেডিক মোয়াজ্জেম হোসেন দিপু গত এক বছর ধরে ডেপুটেশনে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে কাজ করছেন। বর্তমানে এ হাসপাতালটিতে শূন্য পদ রয়েছে ১ম শ্রেনীর কর্মচারী ১৬ টি, ২য় শ্রেনীর কর্মচারী ৬ টি, ৩য় শ্রেনীর কর্মচারী ৪৩ টি ও ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী ১৮ টি।
 
অপরদিকে চিকিৎসা সেবার এমন বেহাল অবস্থার মধ্যেই এ উপজেলার বলরামপুর ও বারবাজার দু’টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে বর্তমানে কোন ডাক্তারই নেই। বলরামপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তার মুরাদ আলী ডেপুটেশনে (প্রেষনে) গত ৬ মাস ধরে কুষ্টিয়া জেলাতে রয়েছেন। সে কারনে বলরামপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে সেবাদান একেবারেই বন্ধ রয়েছে। অপরটি বারবাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার সংকটে কোনরকমে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে।   

এদিকে উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে ১১ জন মেডিকেল এ্যাসিস্টেনট (সেকমো) এর মধ্যে ৩ জন ডেপুটেশন প্রেসনের কাগজ করে ১০ বছরেরও অধিক সময় ধরে রয়েছেন অন্য জেলা শহরে। এদের মধ্যে জামাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাঃ ইয়াসমিন আরা রয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরে, কোলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাঃ জয়নাল আবেদিন রয়েছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এবং রাখালগাছী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাঃ মোঃ মনিরুজ্জামান রয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরে। এরা কাজ না করেই প্রতি মাসে ই-মেইলে বেতন ভাতার শীট পাঠিয়ে বেতন তুলে নিচ্ছেন। তবে কাজ না করেই মাস বছরের পর বছর বেতন ভাতা তুলে নেবার পেছনে এদের সবারই রয়েছে ডেপুটেশন (প্রেষন) নামক এক তেলেসমাতী কাগজ।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারী বিধি মোতাবেক ওই সকল ডাক্তার নার্সদের কর্মস্থল কালীগঞ্জ দেখানো হলেও তাদের প্রেশনের কাগজটিতে অন্য জেলাতে কাজ করার কথা। কিন্তু সেখানেও শুভংকরের ফাকি দিয়ে ব্যাক্তিগত কাজ করে বেড়ান তারা। এ নিয়ে কারো কারো অভিমত, বছরের পর বছর কর্মে ফাকি ও অনিয়মে জড়িত ওইসব ডাক্তারদের পেছনে শক্ত দেওয়াল হয়ে আছে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়, জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তারা। তারা বাড়িতে বসেই প্রতিমাসে বেতন তুলতে পারার সুবাদে ওই টাকার একটি অংশ ওইসব অসৎ কর্তাদের দিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বছরের পর বছর ডেপুটেশন বা প্রেষনে বাইরে থাকা উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসারদের মধ্যে কুষ্টিয়ার দৌলৎপুরে থাকা জয়নাল আবেদিন মুঠোফোনে জানান, তার স্ত্রীও দৌলতপুরে একই চাকুরী করেন। ছেলে মেয়ে বাবা মা সহ পরিবারের দেখাশুনার জন্য তিনি ডেপুটেশন নিয়ে সেখানে আছেন। আর কুষ্টিয়ার মিরপুরে থাকা ইয়াসমিন আরা জানান, তিনি একজন মহিলা হওয়ায় দুরে যাতায়াত করা কঠিন। তার দুটি ছেলে মেয়ের দেখাশোনা করার কেউ নেই। তাই পরিবারের কারনে ৮ বছর ধরে প্রেশনে মিরপুরে রয়েছে। তিনি বলেন মুরাদ হোসেন নামে আরো একজন প্রেষনে মিরপুরে রয়েছেন। একজন পুরুষ হিসাবে তাকে কতৃপক্ষ স্বস্থানে নিতে পারেন।

এদিকে উপজেলার ১১ টি ইউুনয়নে ২৯ টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ডাক্তার না থাকায় তাদের পরিবর্তে সিএইচসিপি কর্মীরা কাজ করছে। সেখানেও ঔষধের সাপ্লাই বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে সেবাদান। এছাড়াও টিকাদান কার্য্যক্রমে এ উপজেলাতে ৩৯ জন স্বাস্থ্য সহকারী প্রয়োজন হলেও আছেন মাত্র ১৩ জন। যে কারনে টিকাদান কার্ষ্যক্রমও ব্যহত হচ্ছে। 

এসব বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ অরুন কুমার দাস জানান, মাত্র কয়েক মাস হল তিনি ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দ্বায়িত্বে আছেন। একাধিকপদ শূন্যসহ হাসপাতালটির নানা সংকটে সেবা প্রদানে অনেকটা বিঘ্ন ঘটে। তিনি বলেন, ডেপুটেশনে বাইরে থাকা ডাক্তার, নার্সদের বিষয়ে ইতিপূবে লিখিত রেজুলেশন জেলা সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু, অদ্যবধি কোন উত্তর আসেনি বলে জানান তিনি। 

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ জানান, হাসপাতালের নানা সমস্যার বিষয়ে তিনি অবহিত আছেন। বিষয়গুলি সমাধানে জেলা সিভিল সার্জনসহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা পূর্বক পদক্ষেপ নিবেন বলে যোগ করেন তিনি।

ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মনিরুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন নতুন কোন নিয়োগ না হওয়ায় সংকট আছে। প্রেষনে বাইরে থাকা ডাক্তারদের বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম. খোজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা নিব। চালক না থাকায় মালি দিয়ে এ্যাম্বুলেন্স চালানোর বিষয়টি স্বীকার করেই বলেন, এমন নানা সংকটে সেবাদানে সমস্যার বিষয়গুলি তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে অবহিতসহ সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে যোগ করেন তিনি। 

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি মাওঃ আবু তালিব হাসপাতালটির নানা সংকটের কথা স্বীকার করেই বলেন, তিনি কয়েক মাস হল এমপি হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতালটির বর্তমান অবস্থার উন্নয়ন করতে একশ’শর্য্যা রুপান্তরিত করা প্রয়োজন। মহান সংসদে বিষয়টি তুলে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়