ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না। আজকের চীন যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, তা তাদের নিজেদের প্রচেষ্টা, শিক্ষা ও কঠোর পরিশ্রমের ফল।
শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী উদ্যোগে আয়োজিত স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. ইয়াও ওয়েন।
“তরুণ মেধার বিকাশ, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণ” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার প্রায় ৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুলব্যাগ, খাতা, কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার শিশুদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পোশাক ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার উপযোগী করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আজ এখানে চীনের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত রয়েছেন। আমি তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। চীন বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ এবং তারা বিভিন্ন দেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশের উন্নয়নেও চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, চীনের রাষ্ট্রদূত তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে চলতি বছর ও আগামী বছরের মধ্যে শিল্পকারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করতে চীন থেকে একটি প্রতিনিধি দল ঠাকুরগাঁও সফর করবে।
অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. ইয়াও ওয়েন বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ বিতরণের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। আমি আশা করি, এই শিক্ষা সামগ্রী তাদের শিক্ষাজীবনকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।”
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষি খাতে সহযোগিতার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কাজের সম্ভাবনা যাচাই করতে আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে একটি প্রতিনিধি দল এ অঞ্চল পরিদর্শনে আসবে।
ইয়াও ওয়েন জানান, আগামী বছরের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে চীন সফরের আয়োজন করা হবে। পর্যায়ক্রমে আরও শিক্ষার্থী এ সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পায়গাম আলী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।