শিরোনাম
◈ পাহাড়ি অঞ্চলে সফল আর্লি ওয়ার্নিং মডেল: আগাম সতর্কবার্তায় কমছে প্রাণহানি, ভূমিধস মোকাবিলায় নতুন আশার আলো ◈ মার্কিন ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ‘পাবলিক’ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ◈ মিথ্যা কাহিনি ও জাল কাগজে অ্যাসাইলাম, হাজারো আবেদন বাতিলের হুঁশিয়ারি ◈ ট্রাম্পের অকথ্য ভাষায় গালাগাল প্রসঙ্গে নেতানিয়াহুে এবার যা বললেন ◈ মধ্যপ্রাচ্যের যে ১৪ দেশে নতুন সতর্কতা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বি‌শ্বের নেতৃত্ব নি‌য়ে যুক্তরাস্ট্র, রা‌শিয়া ও চী‌নের ম‌ধ্যে রশি টানাটানি ◈ বিশ্বকাপের প্রস্তু‌তি, ফ্রান্স‌কে হারা‌লো আইভ‌রি কোস্ট, স্পেনকে রুখে দিলো ইরাক ◈ ৩০০ ফিটে ঝটিকা মিছিলের অভিযোগে যুবলীগ নেতা আটক ◈ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে আবারো তলিয়ে গেছে যাত্রীবাহী বাস (ভিডিও) ◈ নতুন সতর্কতায় ‘সুপার এল নিনো’, কোন সংকটে পড়তে পারে বিশ্ব?

প্রকাশিত : ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০১:০৯ দুপুর
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আসছে নতুন পরিপত্র: ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমার আভাস

ছয় মাসের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবারও কমতে পারে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য নতুন হার নির্ধারণে একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। প্রস্তাবসংবলিত সারসংক্ষেপ সম্প্রতি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের অনুমোদনের জন্য তার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

অর্থ উপদেষ্টার অনুমোদন মিললে অর্থ বিভাগ প্রস্তাবটি পাঠাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে (আইআরডি)। এরপর আইআরডি পরিপত্র জারি করবে। গতকাল রোববার (২১ ডিসেম্বর) অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ গত রাতে বলেন, প্রস্তাবটি এখনো আমার কাছে আসেনি। তবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির স্বার্থে ব্যাংকারদের দিক থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কিছুটা কমানোর একটা দাবি আছে। সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন হার ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে গড়ে দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। 

তবে কম অঙ্কের বিনিয়োগে মুনাফার হার তুলনামূলক বেশি রাখা হবে এবং বড় অঙ্কের বিনিয়োগে হার হবে কম। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা এর কম বিনিয়োগে মুনাফা বেশি এবং এর বেশি বিনিয়োগে মুনাফা কম নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

সরকার গত ৩০ জুন আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নিয়মিত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়। তখন গড় মুনাফার হার কিছুটা কমিয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, ছয় মাস পর আবার হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে। ৩১ ডিসেম্বর সেই ছয় মাসের মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে।

এ বিষয়ে আইআরডি সচিব মো. আবদুর রহমান খান গতকাল বলেন, মুনাফার হার বাড়ছে না কমছে, বলতে পারব না। পুরো বিষয়টি এখন অর্থ বিভাগ দেখছে। অর্থ বিভাগের সুপারিশ এলে আমরা পরিপত্র জারি করব।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে জনপ্রিয়। বর্তমানে এ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। গত ১ জুলাইয়ের আগে এ হার ছিল ১২ শতাংশের বেশি।

এ ছাড়া পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ, বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের মেয়াদি হিসাবে তিন বছর মেয়াদ পূর্ণ হলে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। তবে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবের মুনাফার হারে কোনো পরিবর্তন আসছে না বলে জানা গেছে।

এ দিকে বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বেশি হলে স্বাভাবিক কারণেই সঞ্চয় চলে যায় সরকারি তহবিলে। এ হার একটু কমলে তা ব্যাংকে আসবে, যা বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

তবে তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ঋণের চাহিদাই কম। বেসরকারি খাতে ঋণ দিতে না পারলে সেটিও ব্যাংক খাতের জন্য একধরনের বোঝা।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই–অক্টোবর) সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকার নিট ২ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর আগের ২০২৪–২৫ অর্থবছরে নিট ঋণ ছিল ঋণাত্মক, প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। গত অক্টোবর শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। উৎস: নিউজ24

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়