শিরোনাম
◈ পাহাড়ি অঞ্চলে সফল আর্লি ওয়ার্নিং মডেল: আগাম সতর্কবার্তায় কমছে প্রাণহানি, ভূমিধস মোকাবিলায় নতুন আশার আলো ◈ মার্কিন ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ‘পাবলিক’ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ◈ মিথ্যা কাহিনি ও জাল কাগজে অ্যাসাইলাম, হাজারো আবেদন বাতিলের হুঁশিয়ারি ◈ ট্রাম্পের অকথ্য ভাষায় গালাগাল প্রসঙ্গে নেতানিয়াহুে এবার যা বললেন ◈ মধ্যপ্রাচ্যের যে ১৪ দেশে নতুন সতর্কতা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বি‌শ্বের নেতৃত্ব নি‌য়ে যুক্তরাস্ট্র, রা‌শিয়া ও চী‌নের ম‌ধ্যে রশি টানাটানি ◈ বিশ্বকাপের প্রস্তু‌তি, ফ্রান্স‌কে হারা‌লো আইভ‌রি কোস্ট, স্পেনকে রুখে দিলো ইরাক ◈ ৩০০ ফিটে ঝটিকা মিছিলের অভিযোগে যুবলীগ নেতা আটক ◈ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে আবারো তলিয়ে গেছে যাত্রীবাহী বাস (ভিডিও) ◈ নতুন সতর্কতায় ‘সুপার এল নিনো’, কোন সংকটে পড়তে পারে বিশ্ব?

প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর, ২০২৫, ০৭:২০ বিকাল
আপডেট : ০৯ মে, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : মহসিন কবির

ইসরায়েল-হামাসের যুদ্ধবিরতির সম্মতিতে বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া

মহসিন কবির: গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হামাস। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন দেশের নেতারা শান্তির আশা ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি উভয় পক্ষকে এ–বিষয়ক অঙ্গীকারগুলো পূরণের আহ্বান জানিয়েছেন। 

দুই পক্ষের চুক্তি অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস কয়েক দিনের মধ্যে তাদের কাছে থাকা জীবিত ২০ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। বিনিময়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি বন্দীদের ছেড়ে দেবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনারা গাজার অধিকাংশ এলাকা থেকে সরে যাওয়া শুরু করবেন।

ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘এর মানে হলো, খুব শিগগির সব জিম্মি মুক্তি পাবেন, আর ইসরায়েল তাদের সেনাদের এক সমঝোতাকৃত সীমারেখায় ফিরিয়ে আনবে। এটি একটি শক্তিশালী, টেকসই ও চিরস্থায়ী শান্তির প্রথম ধাপ।’

তুরস্ক: হামাস ও ইসরায়েল—দুই পক্ষের আলোচনায় ভূমিকা রাখা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পকে ‘প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রদর্শন করার’ জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে কাতার ও মিসরকেও মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং এ প্রক্রিয়ায় অবদান অব্যাহত রাখবে। তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর ধরে বর্ণনাতীত কষ্ট সহ্য করা আমার ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের প্রতি আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

ফ্রান্স: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এ চুক্তিকে ‘জিম্মি ও তাঁদের পরিবার, গাজার ফিলিস্তিনি ও গোটা অঞ্চলের জন্য এক বড় আশার বার্তা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

এক্সে দেওয়া বার্তায় মাখোঁ ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কাতার, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং ইসরায়েল ও হামাস দুই পক্ষকে চুক্তির শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান।

যুক্তরাজ্য: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চুক্তির খবরকে স্বাগত জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গাজায় সহায়তা প্রবেশে সব ধরনের অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।

স্টারমার বলেন, এটি এমন এক মুহূর্ত, যা সারা বিশ্বে গভীর স্বস্তি এনে দেবে; বিশেষ করে জিম্মিদের পরিবার ও গাজার বেসামরিক মানুষদের জন্য। তাঁরা গত দুই বছর অকল্পনীয় দুর্ভোগ সহ্য করেছেন।

স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মিসর, কাতার ও তুরস্কের ‘অবিরাম কূটনৈতিক প্রচেষ্টা’র প্রশংসা করেন এবং বলেন, যুক্তরাজ্য যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তির পথে পরিণত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

ইতালি: ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই চুক্তিকে ‘অসাধারণ খবর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই চুক্তি এবং ট্রাম্পের পরিকল্পনার নির্দেশিত বৃহত্তর পথ এই সংঘাত শেষ করার এক বিরল সুযোগ। এটি আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’

মেলোনি আরও বলেন, ‘আমি সব পক্ষকে আহ্বান জানাই, তারা যেন ইতিমধ্যে গৃহীত পদক্ষেপগুলো সম্পূর্ণভাবে সম্মান জানায় এবং শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে।’

মেলোনি জানান, ইতালি মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রচেষ্টায় সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং গাজায় স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন ও উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রস্তুত।

জাতিসংঘ: জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘জাতিসংঘ এ চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে এবং মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করবে। পাশাপাশি আমরা গাজার পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমও এগিয়ে নেব।’

মহাসচিব আরও বলেন, এখন এই ঐতিহাসিক সুযোগ কাজে লাগিয়ে এমন একটি রাজনৈতিক পথ তৈরির সময় এসেছে; যা দখলদারির অবসান ঘটাবে, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের স্বীকৃতি দেবে এবং দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পথে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের নিরাপদে সহাবস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

কানাডা: কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘জিম্মিদের শিগগিরই পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন ঘটবে জেনে আমি স্বস্তি পেয়েছি।’

মার্ক কার্নি আরও বলেন, বহু বছরের তীব্র কষ্টের পর অবশেষে মনে হচ্ছে, শান্তি এখন নাগালের মধ্যে। কানাডা সব পক্ষকে আহ্বান জানায়, তারা যেন দ্রুত চুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়ন করে একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির দিকে এগিয়ে যায়।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলে এক্সে লেখেন, ‘এ সুযোগে আমি জানাতে চাই, আন্তর্জাতিক শান্তিতে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আমি ডোনাল্ড জে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেব।’

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত এই নেতা আরও লেখেন, অন্য কোনো নেতা এমন সাফল্য অর্জন করলে অনেক আগেই এ পুরস্কার পেতেন।

মালয়েশিয়া: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এক বিবৃতিতে বলেন, মাসের পর মাস অসহনীয় কষ্ট ও ধ্বংসের পর এ চুক্তি কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে। আনোয়ার ইব্রাহিম সব পক্ষকে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থায়ী ও সর্বাত্মক শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

জাপানের চিফ কেবিনেট সেক্রেটারি ইয়োশিমাসা হায়াশি সাংবাদিকদের বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ‘প্রথম ধাপের চুক্তি’ হওয়ায় জাপান তাকে স্বাগত জানাচ্ছে। এটি পরিস্থিতি শান্ত করার ও দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

অস্ট্রেলিয়া:  অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ চুক্তিটিকে ‘আশার আলো’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আলবানিজ বলেন, এ ঘোষণা আট দশকের সংঘাত ও সন্ত্রাসের পর সহিংসতার চক্র ভেঙে একটি ভালো ভবিষ্যৎ গড়ার আশা এনে দিয়েছে। আজকের দিনটি বিশ্বের জন্য সত্যিকারের আশার দিন।

নিউজিল্যান্ড: নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বলেন, গত দুই বছর ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিরা প্রচণ্ড কষ্ট ভোগ করেছেন। আজকের এ চুক্তি সেই কষ্ট অবসানের প্রথম ইতিবাচক পদক্ষেপ। হামাস ও ইসরায়েলকে চুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

ভারত: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্সে লেখেন, ‘জিম্মিদের মুক্তি ও গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি তাঁদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করবে এবং স্থায়ী শান্তির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করবে, আমরা সেই আশাই করি।’

পাকিস্তান: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক্সে লেখেন, এ চুক্তি গাজার জনগণের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো এবং ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ।

শাহবাজ চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, সংলাপ ও আলোচনার পুরো প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্ব তাঁর বিশ্বশান্তির প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়