শিরোনাম
◈ অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও বৃহৎ শক্তির ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ◈ বিশ্বকা‌পের প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ‌রোববার সকা‌লে মিশরের মুখোমুখি ব্রাজিল ◈ অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা ক‌তোটা শ‌ক্তিশালী, রোববার সকা‌লে পরীক্ষা নে‌বে হন্ডুরাস ◈ দেশের শিশুস্বাস্থ্যে গবেষণার কেন্দ্র বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, তবু শয্যা ও প্রযুক্তি সংকট ◈ কাল শুরু হচ্ছে সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন, বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ◈ 'অনেক কষ্টে এসএসসি পাস করেছে' কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নিয়ে আসিফের কড়া মন্তব্য; দিলেন বরাদ্দের ব্যাখ্যা ◈ তুরস্ক কেন বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে? ◈ ট্রাম্পের জন্য ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’: জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত চায় ইরান ◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক

প্রকাশিত : ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৯:৪৪ সকাল
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সোনার লোভে পাথর ভাঙার চেষ্টা, মিলল ৪৬০ কোটি বছরের মহাজাগতিক সম্পদ

অস্ট্রেলিয়ার মেলবার্নের কাছে মেরিবোরো রিজিওনাল পার্কে সোনা খুঁজতে গিয়েছিলেন ডেভিড হোল। ২০১৫ সালে হলদে মাটির নিচে লালচে রঙের অস্বাভাবিক ভারী একটি পাথর খুঁজে পান তিনি। ধারণা করেছিলেন, এর ভেতর লুকিয়ে আছে সোনার টুকরো।

সেই বিশ্বাসে পাথরটি বাড়িতে এনে বছর পর বছর চেষ্টা করেছেন সেটি ভাঙার—পাথর কাটার করাত থেকে ড্রিল, গ্রাইন্ডার, অ্যাসিড, এমনকি হাতুড়িও ব্যবহার করেছেন। কিন্তু কোনোভাবেই ভাঙতে পারেননি পাথরটি।

সোনা নয়, আরও দামী জিনিস!

মেরিবোরো অঞ্চলের অতীত সোনার খনি ইতিহাসের কারণে হোল নিশ্চিত ছিলেন—এটি সোনায় ভরা। কিন্তু বহু বছর পর বিশেষজ্ঞদের কাছে নিয়ে গেলে জানা যায়—ওটি সোনা নয়, বরং বিরল একটি লোহা-নিকেলের উল্কাপিণ্ড। বিজ্ঞানীদের মতে, এর মূল্য সোনার চেয়ে অনেক বেশি—জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসের জন্য অমূল্য সম্পদ।

মেলবার্ন মিউজিয়ামের ভূতত্ত্ববিদ ডারমট হেনরি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এর বাইরের দিকে খাঁজকাটা ও দাগযুক্ত যে চেহারা, তা সাধারণ পাথরের হয় না। উল্কাপিণ্ড যখন মহাকাশ থেকে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, বাইরে গলে গিয়ে এমন আকার তৈরি হয়।”

বছরের পর বছর ভাঙতে না পারলেও কৌতূহল থেকে হোল শেষ পর্যন্ত পাথরটি নিয়ে যান মেলবার্ন মিউজিয়ামে।

হেনরি বলেন, “৩৭ বছরের চাকরিজীবনে হাজারো পাথর দেখেছি, যেগুলো মানুষ উল্কাপিণ্ড মনে করে এনেছেন। তার মধ্যে মাত্র দুটো আসল ছিল—এটি তার একটি।”

১৭ কেজি ওজনের মহাজাগতিক অতিথি

পাথরটি হাতে নিয়ে মিউজিয়ামের আরেক ভূতত্ত্ববিদ বিল বার্চ বলেন, “এ ধরনের পাথর যদি সত্যিই পৃথিবীর হতো, তবে এত ভারী হওয়ার কথা নয়।”

গবেষকেরা পরে পাথরটির আনুষ্ঠানিক নাম দেন ‘মেরিবোরো উল্কাপিণ্ড’—যে শহরের কাছ থেকে এটি পাওয়া গেছে। ওজন প্রায় ১৭ কেজি। গবেষণায় জানা যায়, এটি একটি H5 ordinary chondrite—অর্থাৎ প্রচুর লোহা-সমৃদ্ধ প্রাচীন উল্কাপিণ্ড।

হিরার করাত দিয়ে ছোট একটি অংশ কাটার পর দেখা যায় এর ভেতরে রয়েছে সূক্ষ্ম স্ফটিককণা—‘কন্ড্রিউলস’—যা প্রাচীন সৌরজগতের উল্কাপিণ্ডগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

সৌরজগতের জন্মকাহিনির সাক্ষী

বিজ্ঞানী হেনরি বলেন, “উল্কাপিণ্ডই হলো সবচেয়ে সস্তা মহাকাশ অনুসন্ধান। এগুলো আমাদের সময়ের গোড়ায় নিয়ে যায়—সৌরজগত, এমনকি পৃথিবী কীভাবে গঠিত হয়েছে, তার সূত্র দেয়।”

তিনি আরও জানান, অনেক উল্কাপিণ্ড পৃথিবীর গভীরতম অংশের গঠন সম্পর্কে ধারণা দেয়। আবার কিছু উল্কাপিণ্ডে থাকে সৌরজগতেরও আগের ‘তারার ধূলিকণা’, যা দিয়ে বোঝা যায়—কীভাবে নক্ষত্র তৈরি হয় এবং কীভাবে মৌল উপাদানগুলো জন্ম নেয়।

আরও বিস্ময়ের বিষয়—কিছু বিরল উল্কাপিণ্ডে পাওয়া যায় অ্যামাইনো অ্যাসিডসহ বিভিন্ন জৈব অণু—যেগুলো জীবন সৃষ্টির ভিত্তিমূল।

বিজ্ঞানীদের মতে, সোনার চেয়েও মূল্যবান এই উল্কাপিণ্ড মানবজাতিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় সৌরজগতের জন্ম-মুহূর্তে—৪৬০ কোটি বছর আগে।

সূত্র: এনডিটিভি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়