মার্কিন বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যালকম পাউডারে ক্যানসারের উপাদান থাকার অভিযোগে কোম্পানিটিকে আবারও জরিমানা করা হয়েছে। এবার অভিযোগকারী দুই নারীকে ৪০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
এর আগে চলতি বছরের অক্টোবর মাসেই ক্যানসারে মারা যাওয়া এক নারীর পরিবারকে ৯৬৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে জনসন অ্যান্ড জনসনকে নির্দেশ দেস যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। এর মধ্যে ১৬ মিলিয়ন ডলার ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণে এবং ৯৫০ মিলিয়ন ডলার শাস্তিস্বরূপ।
দুই মাসের মাথায় জনসন অ্যান্ড জনসনকে আবারও জরিমানা করা হলো। প্রতিবেদন মতে, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্ট এই রায় ঘোষণা করে। রায়ে জরিমানার অর্থের মধ্যে অভিযোগকারী মনিকা কেন্ট নামে এক নারীকে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং ডেবোরা শুলজ এক নারী ও তার স্বামীকে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
ভুক্তভোগীরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে জনসন অ্যান্ড জনসনের আইন বিষয়ক ভাইস-প্রেসিডেন্ট এরিক হাস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কোম্পানি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে এবং আগের মতোই জয়ী হবে।’
আদালতের নথি অনুযায়ী, মনিকা কেন্টের ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ধরা পড়ে ২০১৪ সালে এবং ডেবোরা শুলজের ২০১৮ সালে। দুজনই ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা এবং তারা আদালতে জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে গোসলের পর নিয়মিতভাবে জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডার ব্যবহার করতেন।
ভুক্তভোগীদের মতে, জনসন অ্যান্ড জনসন বহু বছর ধরেই জানত যে তাদের পাউডার পণ্যগুলোর ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু এ বিষয়ে তারা ভোক্তাদের সতর্ক করেনি। ক্যান্সারের চিকিৎসায় তাদের বড় ধরনের অস্ত্রোপচার ও বহুবার কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে।
যুক্তিতর্কে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যান্ডি বার্চফিল্ড বলেন, ‘১৯৬০-এর দশক থেকেই জনসন অ্যান্ড জনসন জানত যে তাদের পণ্য ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘ওরা পুরোপুরি জানত। জানত বলেই তারা সত্য আড়াল করার, বিপদের তথ্য চাপা দেয়ার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছিল’।
অন্যদিকে জনসন অ্যান্ড জনসনের আইনজীবী অ্যালিসন ব্রাউন বলেন, ‘কেন্ট ও শুলজকে একমাত্র তাদের আইনজীবীরাই বলেছেন যে পাউডারের কারণে তাদের ক্যানসার হয়েছে। তার দাবি, এই কথিত যোগসূত্র যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বড় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সমর্থন করে না এবং এমন কোনো গবেষণাও নেই যাতে প্রমাণিত হয় যে, শরীরের বাইরে ব্যবহৃত পাউডার প্রজনন অঙ্গে পৌঁছাতে পারে।’
আদালতের নথি অনুযায়ী, জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৬৭ হাজারেরও বেশি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় বাদীরা অভিযোগ করেছেন যে, বেবি পাউডার ও অন্যান্য ট্যালকম পাউডার ব্যবহারের পর তাদের ক্যানসার হয়েছে। তবে কোম্পানিটি বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের সব পণ্য নিরাপদ, এতে অ্যাসবেস্টস নেই এবং এটি ক্যানসার সৃষ্টি করে না।
সূত্র: সময়