শিরোনাম
◈ বাংলাদেশকে ২৩ খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব চীনের, প্রধানমন্ত্রীর সফরে হতে পারে চুক্তি ◈ যে কারণে হোটেলের বুকিং বাতিল করে কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা! ◈ আসিফ আকবর আটক হননি, গুজব উড়িয়ে দিলেন নিজেই! ◈ অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও বৃহৎ শক্তির ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ◈ বিশ্বকা‌পের প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ‌রোববার সকা‌লে মিশরের মুখোমুখি ব্রাজিল ◈ অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা ক‌তোটা শ‌ক্তিশালী, রোববার সকা‌লে পরীক্ষা নে‌বে হন্ডুরাস ◈ দেশের শিশুস্বাস্থ্যে গবেষণার কেন্দ্র বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, তবু শয্যা ও প্রযুক্তি সংকট ◈ কাল শুরু হচ্ছে সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন, বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ◈ 'অনেক কষ্টে এসএসসি পাস করেছে' কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নিয়ে আসিফের কড়া মন্তব্য; দিলেন বরাদ্দের ব্যাখ্যা

প্রকাশিত : ০৭ জুন, ২০২৬, ০৩:১০ রাত
আপডেট : ০৭ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দুই বছর পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আশার আলো, সিদ্ধান্ত আসতে পারে প্রধানমন্ত্রীর সফরে

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে দীর্ঘ দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারো উন্মুক্ত হওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ। আসছে ২১শে জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানি ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির আশা করছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সরকারের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ইতিবাচক বার্তার মধ্যে শ্রমবাজার খোলার সম্ভাবনা জোরালো হলেও সিন্ডিকেট নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সফরকালে শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারো খুলে যেতে পারে বহুল কাঙ্ক্ষিত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২১ থেকে ২২শে জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুর সফর করবেন। এরপর ২৩ থেকে ২৬শে জুন সরকারপ্রধানের চীন সফরের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকা শ্রমবাজারের জট খুলতে পারে। আবারো বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা আসতে পারে। তবে শিগগিরই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার একটি ইঙ্গিতও দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সমপ্রতি মন্ত্রী মালয়েশিয়া সফরের পর বাজারটি শিগগিরই খুলতে পারে বলে আশা তৈরি হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে নতুন করে দেখা দিয়েছে সিন্ডিকেট ফিরে আসার আশঙ্কা। কারণ, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংশোধন ছাড়াই কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার আলোচনা চলছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ও মন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের পর দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা এসেছে। তবে বিষয়টি এখনো কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আগে যে ওয়েবসাইট বা অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ হতো, সেটি বহাল থাকবে নাকি নতুন কোনো পদ্ধতি চালু হবে এসব বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের পর তা দেশটির মন্ত্রিসভায় (ক্যাবিনেট) যাবে এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। বর্তমানে এই প্রক্রিয়াগুলো চলমান থাকায় কিছুটা সময় লাগছে। এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি দ্রুত এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। সার্বিকভাবে এখন বললে, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি অনেকটাই মালয়েশিয়া সরকারের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। এ ছাড়াও পুরনো ১০০টি এজেন্সির যে তালিকা ছিল- যারা কর্মী পাঠাতেন। সেই তালিকা বাদ দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন তালিকা দেয়া হয়েছে। সেই তালিকাই এখনো বহাল আছে। বর্তমান সরকার নতুন করে কোনো তালিকা পাঠায়নি। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। আশা করছি, দ্রুতই এই শ্রমবাজার প্রবাসীদের জন্য উন্মুক্ত হবে।

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর দাবি, বর্তমান এমওইউ ও মালয়েশিয়ার আরোপিত কিছু শর্ত সীমিতসংখ্যক এজেন্সির হাতে নিয়োগ কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে অতীতে যেভাবে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, একই ধরনের পরিস্থিতি আবারো ফিরে আসতে পারে।

সূত্র জানায়, বিদ্যমান এমওইউ সংশোধন না হলে সিন্ডিকেটের সুবিধাভোগীরা আবারো সুযোগ পাবে। বাংলাদেশের প্রায় আড়াই হাজার লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সি থাকলেও নতুন শর্তের কারণে অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই সুবিধা পেতে পারে। এর আগে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে ১০টি শর্ত দিয়েছিল। এসব শর্তের মধ্যে কয়েকটি নিয়ে আপত্তি জানায় বাংলাদেশ। দীর্ঘ আলোচনার পর তিনটি শর্ত শিথিল হলেও শ্রমবাজার এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। বাংলাদেশ ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ার কাছে পাঠিয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিচ্ছে প্রতিযোগী দেশগুলো। নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার ইতিমধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নিজেদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ফলে বাংলাদেশের জন্য বাজারটি উন্মুক্ত হওয়ার আগেই বড় অংশের চাহিদা অন্য দেশগুলো পূরণ করে ফেলছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার মূল কারণ শুধু প্রশাসনিক না, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিয়োগ সিন্ডিকেট, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব এবং দুই দেশের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থ।

তথ্য বলছে, ২০২২ সালে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর পর ১০০ এজেন্সির একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠে। একই সময়ে কর্মী পাঠানোর খরচও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। যেখানে সরকারি নির্ধারিত খরচ ৭৯ হাজার টাকা, সেখানে অনেক কর্মীকে প্রায় ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়েছে।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে হলে প্রথমেই সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমাতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান এমওইউ পুনর্বিবেচনা, সব যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে আরও শক্তিশালী কূটনৈতিক আলোচনা চালানো জরুরি। অন্যথায় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে, আর অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে বাংলাদেশকে।

২০২৪ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তির বাজার বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বন্ধ রয়েছে। একই বছরে মালয়েশিয়ার সরকার ঘোষণা করেছিল, আগে থেকে অনুমোদন পাওয়া বাংলাদেশের কর্মীদের ৩১শে মে’র মধ্যে দেশটিতে যেতে হবে। এরপর কর্মী ভিসায় আর কেউ সেখানে ঢুকতে পারবেন না। ওই তারিখের পর থেকে আর কোনো কর্মী যেতে পারেননি দেশটিতে। এরপর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দফায়-দফায় চেষ্টা করেও এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে পারেনি।

বিএনপি সরকার গঠনের পর গুরুত্বপূর্ণ এই জনশক্তি বাজার আবার উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গত এপ্রিলে মালয়েশিয়া সফর করেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও উপদেষ্টা দ্রুতই বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজারটি খোলার সম্ভাবনার কথা বলে আসছেন। বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রথমবার বন্ধ হয় ২০০৮ সালে। এরপর ২০১৬ সালে শ্রমবাজারটি আবার খোলা হলেও দুর্নীতির অভিযোগের মুখে ২০১৮ সালে ফের বন্ধ করে দেয়া হয়। তারপর ২০২২ সালে বাজারটি আবার খুললেও ২০২৪ সালে আবারো বন্ধ হয়ে যায়। ঐ বছরের ৩১শে মে বন্ধ হওয়া দেশটির শ্রমবাজার এখনো বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খোলেনি। দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবার শ্রমবাজার খোলার বিষয়টি আশার আলো দেখালেও রিক্রুটিং এজেন্সি ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া চললে আবারো পুরনো সিন্ডিকেট সক্রিয় হতে পারে। কারণ, ওই চুক্তিতে যোগ্য এজেন্সি বেছে নেয়ার ক্ষমতা মালয়েশিয়াকে দেয়া হয়েছিল। এটি হলে অতীতের সেই বিতর্কিত সিন্ডিকেট ব্যবস্থারই পুনরাবৃত্তি হবে।

২০২৫ সালের ২৮শে অক্টোবর মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে একটি চিঠি দেয়। তাতে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্তের ভিত্তিতে কর্মী পাঠাতে সক্ষম রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর তালিকা চাওয়া হয়। পরে মালয়েশিয়াকে অন্তত তিনটি শর্ত শিথিল করার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ। শর্তগুলো হলো-গত পাঁচ বছরে অন্তত ৩ হাজার প্রবাসী কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা, নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকা ও গত তিন বছর ধরে অন্তত ১০ হাজার বর্গফুটের একটি স্থায়ী অফিস স্পেস থাকা বাধ্যতামূলক। বাকি শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্তত পাঁচ বছরের বৈধ লাইসেন্স থাকা, কমপক্ষে তিনটি দেশে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা, গুড কন্ডাক্ট সার্টিফিকেট ও বলপূর্বক শ্রম বা মানব পাচারে জড়িত থাকার কোনো রেকর্ড না থাকা।
বাংলাদেশে ২ হাজার ৫০০ এজেন্সি সরকারি নিয়ম-কানুন মেনে লাইসেন্স পেয়েছে।

এরমধ্যে ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা মালয়েশিয়া সরকারকে দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য মতে, ১৯৭৮ সালে প্রথম ২৩ জন শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যান। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক জনশক্তি নিয়োগ চুক্তি সই হয় ১৯৯২ সালে। ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সে দেশে বাংলাদেশি শ্রমিক রপ্তানি বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ জন মালয়েশিয়ায় গেছেন।

গত মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমি প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি, আমি যতদিন মন্ত্রী থাকবো, কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না। এ বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স। ইনশাআল্লাহ, দীর্ঘদিন ধরে যেটা আপনারা শুনেননি, আগামী ১০-১৫ দিন থেকে এক মাসের মধ্যে-সময়টা কিছুটা বেশি লাগতেও পারে, সেই প্রস্তাবনা আপনারা দেখতে পাবেন। তখন বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমাদের শ্রমবাজারও খুলে যাবে। তিনি আরও বলেন, এটাই আমার চ্যালেঞ্জ। যদি সিন্ডিকেটমুক্ত শ্রমবাজার গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে আমি চলে যাবো। বিষয়টিকে আমি বিশেষভাবে নিয়েছি এবং এটিই আমার চ্যালেঞ্জ।

চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন। এ সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার সংক্রান্ত কোনো সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। আমরা একটি এমওইউ করে এসেছি, সেটা আপনারা জানেন।
বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব টিপু সুলতান মানবজমিনকে বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটির কর্মপরিবেশ বাংলাদেশের সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। ফলে কর্মীদের আগ্রহও বেশি। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের তুলনায় মালয়েশিয়ায় বেতন-ভাতাও তুলনামূলক ভালো। তাই দেশের স্বার্থে, রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের স্বার্থে এবং সরকারের আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের কথা বিবেচনা করে শ্রমবাজারটি সব রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করা উচিত বলে আমরা মনে করি। বাজার সবার জন্য খুলে দেয়া হলে সেটিই হবে সবচেয়ে ইতিবাচক ও কার্যকর সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, সরকারের চেয়ে কোনো সিন্ডিকেট কখনোই শক্তিশালী হতে পারে না-আমরা এটা বিশ্বাস করতে চাই। সিন্ডিকেট তো কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত হয়, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। তাই রাষ্ট্রের চেয়ে কোনো সিন্ডিকেট শক্তিশালী হতে পারে না। সরকার যদি আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নেয়, তাহলে দুই দেশের সরকারের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা সম্ভব।

টিপু সুলতান আরও বলেন, আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে আগামী ২১ তারিখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে। কর্মকর্তা পর্যায়ে যে আলোচনা চলছে, তার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে আমরা এখনো পুরোপুরি অবগত নই। তবে বাংলাদেশের ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে শ্রমবাজার খোলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমরা আশাবাদী। উৎস: মানবজমিন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়