শিরোনাম
◈ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধে ইরানের সঙ্গে গোপন সমঝোতা আমিরাতের? ১০-২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের তথ্য প্রকাশ করল রয়টার্স ◈ ‘দেশের মালিক ২০ কোটি মানুষ, কোনো দল বা পরিবার নয়, জনগণের সমর্থন নিয়েই দেশের ভাগ্য বদলাবে বিএনপি’ ◈ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের অভিযোগ, এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য ক্লোজড ◈ ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশিকে বেনাপোল দিয়ে ফেরত পাঠাল ভারত ◈ কক্সবাজারে ঝুম বৃষ্টির মধ্যেই পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর ◈ ‌ক্রমেই বাড়ছে সরকারের ঋণের বোঝা, ৩ বছ‌র পর ঋণ দাঁড়াবে প্রায় ৩৪ লাখ কো‌টি টাকায় ◈ জঘন্য আজেবাজে কাজে আমার গান ব্যবহার করবেন না: ট্রাম্পের প্রশাসনকে মার্কিন পপ তারকা ◈ ‘পরিচয় দেওয়ার পরও মারছিল’, ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার চেষ্টা, মারধরের অভিযোগে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ক্রিকেটার নাঈম ◈ বাংলাদেশে শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন বন্ধ কেন? ◈ বিশ্বকা‌প, প‌্যারাগু‌য়ে‌কে উড়ি‌য়ে দি‌য়ে যুক্তরাস্ট্র ম‌্যাচ জিত‌লো ৪-১ গো‌লে  

প্রকাশিত : ১৩ জুন, ২০২৬, ০২:৩১ দুপুর
আপডেট : ১৩ জুন, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন

‘দেশের মালিক ২০ কোটি মানুষ, কোনো দল বা পরিবার নয়, জনগণের সমর্থন নিয়েই দেশের ভাগ্য বদলাবে বিএনপি’

বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘তাহলে এবার বিরোধীদলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন? লক্ষ্য বুঝতে পেরেছেন? তাদের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, তাদের লক্ষ্য একটাই—সেটা হচ্ছে, দেশের মধ্যে একটি অস্থিতিশীলতা, অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’

বিরোধীদলের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘যে বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধীদল মানে না। যে বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধীদলের পছন্দ নয়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা জানি, বাংলাদেশে শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ গ্রামাঞ্চলে বাস করে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়ে গিয়েছিলেন। বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা। এই নারীরা যদি শিক্ষিত না হয়, তারা যদি স্বাবলম্বী হতে না পারে, তাহলে পুরুষের পাশে দাঁড়াতে পারবে না, এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। নারীরা যাতে আরও শিক্ষার সুযোগ পায়, সে জন্য বর্তমান সরকার স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করার ঘোষণা দিয়েছে। একইসঙ্গে যারা ভালো রেজাল্ট করবে, তাদের আমরা উপবৃত্তিও দেবো। সে ব্যবস্থাও আমরা রেখেছি বাজেটে।’

আজ শনিবার সকালে কক্সবাজারে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ট্যাক্স কমিয়েছি। লক্ষ্য একটি, দেশের মানুষ যাতে একটু ভালো থাকতে পারে।

প্রতি বছর বাজেটের পরের দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য বেড়ে যায়, এবার বাড়েনি—উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারণ চাল-ডাল, তেল-নুনসহ প্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর যে ট্যাক্স ছিল, বর্তমান সরকার ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে। যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম না বাড়ে।’

বিরোধীদলের সমালোচনা করে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘বিরোধীদল বলছে, এই বাজেট তারা মানে না। গণবিরোধী বাজেট তারা মানে না।’

প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষকের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী জুলাই থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে আগামী এক বছরের ভেতরে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৮ থেকে প্রায় ১০ হাজার কৃষকের কাছে ‘কৃষক কার্ডের’ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে মানুষের জন্য রাজনীতি। সে জন্যই আমরা কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, কৃষক ভাইদের সুবিধাদের জন্য, স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য আমরা এই খাল খনন কর্মসূচি যেমন শুরু করেছি, একইসঙ্গে আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, প্রতি বছর কৃষক ভাইদের বীজ, কীটনাশক সার কেনার জন্য এককালীন আড়াই হাজার টাকার একটি সুবিধা দিতে চাই। সেটি দেবো আমরা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে।’

গ্রামের খেটে খাওয়ার পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

কৃষির পাশাপাশি শিল্প-বাণিজ্য গড়ে তুলতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিল্প-বাণিজ্য গড়ে উঠলে আমাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। যেসব পণ্য দেশে উৎপন্ন হয়, একই জিনিস যেগুলো বিদেশ থেকে আসে সেগুলোর ওপর আমরা ট্যাক্স বাড়িয়েছি। যাতে করে দেশে যে দ্রব্যটি উৎপাদিত হচ্ছে, সেটি যেন সহায়তা পেতে পারে, তার ব্যবস্থা আমরা বাজেটে রেখেছি। এটিও বিরোধীদলের পছন্দ নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ কোনো দল বা পরিবার নয়। দেশের মালিক হচ্ছে ২০ কোটি জনগণ। আপনারা দেশের মালিক, আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যাচ্ছি, আপনাদের কাছে আমি বিচার দিয়ে যাচ্ছি, যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, যে বাজেটের মাধ্যমে জনগণের জন্য স্বস্তির ব্যবস্থার চেষ্টা করছে সরকার, সেই বাজেট বলে বিরোধীদল মানে না। তারা দাবি তুলেছে কেন মদের ওপর আমরা ট্যাক্স বাড়ালাম! তারা দাবি তুলেছে কেন আমরা সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বাড়ালাম! এই তাদের দুঃখ। তাদের কষ্ট, কেন বর্তমান সরকার ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ট্যাক্স কমিয়ে দিলো—এই হচ্ছে তাদের দুঃখ।’

‘তাহলে কি এরা জনগণের বন্ধু হলো? জনগণের বন্ধু তারা হলো না। আজ সময় এসেছে কারা জনগণের বন্ধু, এবং কারা জনগণের বন্ধু নয় এটি সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হবে। আমরা অতীতে দেখেছি, জনগণকে বিভ্রান্ত করে অনেকে অনেক কথা বলেছে, কিন্তু জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি, দেশের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। এই প্রথম আমরা চেষ্টা করছি,’ যোগ করেন তিনি।

বিএনপি অতীতেও চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আপনারাই বলেছেন, এখানে শহীদ জিয়া খাল খনন করেছিলেন, দেশনেত্রী বৃক্ষ রোপণ করেছিলেন। এই কাজগুলোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে দেশের অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছিল।’

‘কিন্তু যারা বিভ্রান্তকারী, যারা ষড়যন্ত্রকারী, বিভিন্ন সময় তারা ষড়যন্ত্র করেছে। ষড়যন্ত্র করে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে গতি, তাকে তারা বন্ধ করতে চেয়েছিল। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের যে গতি, তাকে তারা বন্ধ করতে চেয়েছিল। বিগত ১২ তারিখের নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দেশের জন্য যারা কাজ করে, তাদেরকে বাংলাদেশের মানুষ দায়িত্ব দিয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। কাজেই জনগণের শক্তি হচ্ছে আমাদের শক্তি। জনগণের সমর্থনই হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় সমর্থন। আমাদের সঙ্গে জনগণের সমর্থন আছে বলেই যতক্ষণ এই ধরে প্রাণ থাকবে, আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত এই দেশ, এবং এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব। এই কাজের মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এই দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য। এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য। কারণ এই দেশই বিএনপির প্রথম ঠিকানা, এই দেশই হচ্ছে বিএনপির শেষ ঠিকানা।’ সূত্র: ডেইলি স্টার

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়