শিরোনাম
◈ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে আবারো তলিয়ে গেছে যাত্রীবাহী বাস (ভিডিও) ◈ নতুন সতর্কতায় ‘সুপার এল নিনো’, কোন সংকটে পড়তে পারে বিশ্ব? ◈ আওয়ামী লীগের দ্রুত পুনরুত্থান কেন এখনই অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে? ◈ ‘মোদি আর এক বছরও টিকবেন না’, জরুরি অবস্থা জারি হতে পারে : রাহুল গান্ধী ◈ জাপা‌নের ভা‌র্ডিকে হারিয়ে এশিয়ার সেরা উত্তর কো‌রিয়ার ক্লাব! কিমের সঙ্গে নাচলেন ফুটবলাররা ◈ কারামুক্ত আইভীর বাড়ির সামনে সিসি ক্যামেরা, নজরদারিতে পুলিশ ◈ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচ দেখা যা‌বে সর্বনিম্ম ২০০ টাকায়  ◈ ঝুঁকিতে বিশ্বের ১৫ দেশ: আগামী ৫০ বছরে হারিয়ে যেতে পারে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ◈ আপা ডাকায় নয়, পুরোনো বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি: সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা ◈ শার্শায় আইনজীবী মিন্টুকে গ্রেফতারচেষ্টা, গ্রামবাসীর বাধায় ব্যর্থ পুলিশ

প্রকাশিত : ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:০১ দুপুর
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তারেক রহমান দেশে না থেকেও যেভাবে দল সামলেছেন

দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থান শেষে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার প্রভাব কখনোই নিস্তেজ ছিল না। বরং প্রযুক্তিনির্ভর ও সংগঠিত নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি দূর থেকে দল পরিচালনার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

শারীরিকভাবে অনুপস্থিত থাকলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আন্দোলনের কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কৌশল নির্ধারণে তারেক রহমান ছিলেন সক্রিয়। দলীয় সূত্রগুলো জানায়, লন্ডনে অবস্থানকালীন সময়ে তিনি নিয়মিত ভিডিও কনফারেন্স, এনক্রিপটেড ফোনকল ও অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবহিত থাকতেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতেন।

দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোর ভেতরে তার ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত নেতাদের একটি নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। বিএনপির মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের মাধ্যমে তার সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হতো। এর ফলে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ অটুট থাকে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় তার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও দলের ভেতরে তার বার্তা পৌঁছানো থেমে থাকেনি। জাতীয় দিবস, রাজনৈতিক সংকট কিংবা আন্দোলনের সময় তার বিবৃতি বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য দিকনির্দেশনার ভূমিকা পালন করেছে। এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়েই দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার ভাষা নির্ধারিত হতো।

লন্ডনে অবস্থানের কারণে প্রবাসী রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগেও সক্রিয় ছিলেন তারেক রহমান। প্রবাসী বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলো তার নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, কূটনৈতিক মহল ও বিদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টাও চালান তিনি। 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার হিসেবে তারেক রহমান বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতীক। দলীয় সমর্থকদের বড় অংশ তাকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। যা তার অনুপস্থিতিতেও দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে ভূমিকা রেখেছে।

তবে সমালোচকদের মতে, বিদেশে অবস্থানের কারণে মাঠের রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকা তার নেতৃত্বের একটি সীমাবদ্ধতা ছিল। আন্দোলনের সময় বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে বলেও তারা মনে করেন। যদিও দলীয় সমর্থকদের দাবি, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে ভৌগোলিক দূরত্ব আর বড় বাধা নয়।

 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়