স্পোর্টস ডেস্ক : গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মহাকাব্যিক জয়ের অন্যতম প্রধান নায়ক ছিলেন আনহেল ডি মারিয়া। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মাটিতে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এই কিংবদন্তিকে আর দেখা যাবে না। ২০২৪ সালে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোপা আমেরিকা জয়ের পর ডি মারিয়া তাঁর আকাশী-সাদা জার্সি আজীবনের মতো তুলে রাখার ঘোষণা দেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেও, এবারের বহুল কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ ট্রফিটি শেষ পর্যন্ত কার ঘরে যেতে পারে—তা নিয়ে ডি মারিয়ার মনে কিন্তু একদম পরিষ্কার একটা ধারণা রয়েছে। ---- টি স্পোর্টস
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় ৪৮ দলের বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর মধ্যেই ফুটবল বিশ্বে চলছে ফেবারিটদের নিয়ে নানা সমীকরণ। এবারের মহাযজ্ঞে ট্রফি জয়ের দৌড়ে কারা সবচেয়ে এগিয়ে, তা নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন রোজারিও সেন্ট্রালের তারকা আনহেল ডি মারিয়াও।
‘ব্যালন ডি’অর’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যৎবাণী করেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার ডি মারিয়া। কথোপকথনে ডি মারিয়া জানান, এবারের বিশ্বকাপে শিরোপার দাবিদার বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দল রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ফুটবলারদের উত্থানের কারণে অনেকেই এবার এই দৌড়ে যুক্ত হয়েছে।
ডি মারিয়া নিজের বিশ্লেষণ শুরু করেন এভাবে, ‘সম্প্রতি যুব দল বা একাডেমি থেকে উঠে আসা চমৎকার সব তরুণ খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যে বেশ কয়েকটি দেশ শিরোপার লড়াইয়ে যোগ দিয়েছে... ফ্রান্স নিশ্চিতভাবেই অন্যতম ফেবারিট, কারণ তারা প্রতিনিয়ত বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করে চলেছে এবং নিজেদের শীর্ষ অবস্থানটা ধরে রেখেছে। আমার মনে হয়, স্পেনও এবার বেশ বড়সড় চমক দেখাতে পারে; তারা দারুণ ফর্মে আছে, তবে চোট পাওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে তারা শেষ পর্যন্ত কেমন করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ডি মারিয়া নিজের বিশ্লেষণ শুরু করেন এভাবে, ‘সম্প্রতি যুব দল বা একাডেমি থেকে উঠে আসা চমৎকার সব তরুণ খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যে বেশ কয়েকটি দেশ শিরোপার লড়াইয়ে যোগ দিয়েছে... ফ্রান্স নিশ্চিতভাবেই অন্যতম ফেবারিট, কারণ তারা প্রতিনিয়ত বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করে চলেছে এবং নিজেদের শীর্ষ অবস্থানটা ধরে রেখেছে। আমার মনে হয়, স্পেনও এবার বেশ বড়সড় চমক দেখাতে পারে; তারা দারুণ ফর্মে আছে, তবে চোট পাওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে তারা শেষ পর্যন্ত কেমন করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ডি মারিয়া আরও যোগ করেন, ‘পর্তুগালও দারুণ সব খেলোয়াড়ে ঠাসা আরেকটি দল... বিশেষ করে জোয়াও নেভেস এবং ভিতিনিয়ার মতো ফুটবলাররা দলে আছেন, যারা খেলায় ভিন্ন একটা ছন্দ নিয়ে আসেন এবং যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন। আমার মতে, এমন তিন থেকে চারটি দল আছে যারা এবার ট্রফির জন্য মূল লড়াইটা লড়বে।
নিজের দেশ আর্জেন্টিনাকে সেরা তিনে না রাখলেও আলবিসেলেস্তাদের মানসিকতার প্রশংসা করেন ডি মারিয়া, ‘আমার মনে হয় নতুন প্রজন্ম (তরুণ খেলোয়াড়রা) দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের—যাদের বয়স এখনও ২৮ বা ২৯ বছর—আলাদা একটা বাড়তি অনুপ্রেরণা দিতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দিনশেষে বিষয়টি আবারও সেই জায়গায় গিয়েই ঠেকে, যা স্ক্যালোনি সবসময় বলে এসেছেন, দলে একমাত্র মেসিই অপরিহার্য বা অটো-চয়েস... বাকি আর কারও জায়গাই নিশ্চিত নয়। আর এই নিয়মের কারণেই দলের ভেতরের প্রতিযোগিতা বা স্বাস্থ্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবসময় শতভাগ বজায় থাকে—তা সে অনুশীলনেই হোক, ক্যাম্পেই হোক কিংবা পারস্পরিক সম্মানের জায়গাতেই হোক। এটাই আসলে জাতীয় দলটিকে এই উচ্চতায় ধরে রেখেছে।
১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। তবে ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দলগুলোও এবার আকাশচুম্বী প্রত্যাশা এবং ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার মতো স্কোয়াড নিয়েই টুর্নামেন্টে খেলতে আসছে।
আগামী ১৬ জুন, মঙ্গলবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা দল। এরপর ২২ জুন অস্ট্রিয়া এবং ২৭ জুন জর্ডানের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।