বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচেই জোড়া গোল করেছেন সুইডেনের তরুণ মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি। তবে গোলের চেয়ে বেশি আলোচনায় তাঁর উদ্যাপন। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে গোল করেও উল্লাসে মাতেননি ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলার। কারণ, প্রতিপক্ষ তিউনিসিয়াই তাঁর বাবার দেশ। জন্মভূমি সুইডেনের হয়ে খেলতে নেমে শিকড়ের দেশের বিপক্ষে গোল করে আয়ারি যেন ফুটবলের মঞ্চে এক আবেগঘন গল্পের জন্ম দিলেন।
সুইডেনের সোলনায় জন্ম নেওয়া ইয়াসিন আয়ারির বাবা তিউনিসিয়ান এবং মা মরোক্কান বংশোদ্ভূত। ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর সামনে ছিল তিনটি সম্ভাবনা—সুইডেন, তিউনিসিয়া কিংবা মরক্কো। শেষ পর্যন্ত তিনি জন্মভূমি সুইডেনকেই বেছে নেন। ছোটবেলা থেকেই সুইডেনের বয়সভিত্তিক দলে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁকে সেই পথেই এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর বাবার। তিউনিসিয়ার হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও আয়ারির বাবা চেয়েছিলেন ছেলে সুইডেনের প্রতিনিধিত্ব করুক। তাঁর বিশ্বাস ছিল, যে দেশ তাঁদের আশ্রয় ও সুযোগ দিয়েছে, সেই দেশের প্রতি দায়বদ্ধতাও রয়েছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই সিদ্ধান্তই যেন এক নাটকীয় অধ্যায়ের জন্ম দেয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপে ফিরে আসা সুইডেনের প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষ হয় তিউনিসিয়া। আর সেই ম্যাচেই সপ্তম মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আয়ারি।
গোলের পর দেখা যায় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। সতীর্থরা উল্লাসে মেতে উঠলেও আয়ারি ছিলেন সংযত। তিনি দুই হাত তুলে দর্শকদের উদ্দেশে ক্ষমা চাওয়ার ইঙ্গিত দেন, এরপর সিজদায় লুটিয়ে পড়েন। যেন গোলের আনন্দের মাঝেও ছিল শিকড়ের দেশের প্রতি সম্মান ও আবেগ।
শুধু একটি গোলেই থেমে থাকেননি এই তরুণ মিডফিল্ডার। ম্যাচের যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে আরও একটি গোল করে সুইডেনের বড় জয় নিশ্চিত করেন। তাঁর জোড়া গোলে তিউনিসিয়াকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে সুইডেন।
২২ বছর বয়সী আয়ারি এই পারফরম্যান্সে সুইডেনের ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছেন। বিশ্বকাপে এক ম্যাচে একাধিক গোল করা দেশটির সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারদের তালিকায় উঠে এসেছে তাঁর নাম। একই সঙ্গে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের কাতারেও জায়গা করে নিয়েছেন।
তবে পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে তাঁর গল্প। কারণ, বিশ্বকাপের প্রথম দুটি গোল এসেছে বাবার দেশের বিপক্ষে। উদ্যাপনের মুহূর্তেও তিনি ভুলে যাননি নিজের শিকড়কে। তাই এই ম্যাচ শুধু জোড়া গোলের নয়, বরং দুই পরিচয়ের—জন্মভূমি সুইডেন ও শিকড়ের দেশ তিউনিসিয়ার—মাঝে দাঁড়িয়ে এক তরুণ ফুটবলারের আবেগঘন বিশ্বকাপ-রূপকথার গল্প।